জ্বালানির দাম স্বাভাবিক হলে রেমিট্যান্স বাড়বে: মুহিত
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম
অ+ অ-প্রিন্ট
প্রবাসীদের আয় অবৈধভাবে পাঠানোর কারণে রেমিট্যান্স কমেছে কয়েকগুণ। আগে সরাসরি ব্যাংকের মাধ্যমে প্রবাসীরা আয়ের অর্থ পাঠাতো এখন তা হুন্ডির মাধ্যমে পাঠাচ্ছে। তাই রেমিট্যান্স কমেছে। নানা উদ্যোগের পরও প্রবাসী আয়ে গতি বাড়ছে না। গেল মার্চে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ১০৭ কোটি ৭৪ লাখ ডলার। আগের বছরের একই মাসে এসেছিল ১২৮ কোটি ৫৫ লাখ ডলার। 

চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) প্রবাসী আয় এসেছে ৯১৯ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে আসে ১ হাজার ১০৫ কোটি ডলার। সে হিসাবে চলতি অর্থবছরে প্রবাসী আয় কমেছে ১৭ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। 

রেমিট্যান্সের এই অধঃগতিকে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ‘চ্যালেঞ্জ’ হিসেবে দেখছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এ বিষয়ে তিনি বলেন,  “আমাদের অর্থনীতিতে বর্তমানে ছয়টি চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এর মধ্যে প্রধান চ্যালেঞ্জ হচ্ছে রেমিট্যান্সের কম প্রবাহ। তবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম স্বাভাবিক হলে রেমিট্যান্স বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি। 

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর সাহা নতুন সময় ডটকমকে বলেন, রেমিট্যান্স প্রবাহের ধারাবাহিক পতনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকও উদ্বিগ্ন। সম্প্রতি কয়েক দফায় ব্যাংকগুলোর সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছে। প্রবাসী আয় কেন কমছে, তা জানতে বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি দল সম্প্রতি সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়া গিয়েছিল। তারা দেখেছে, প্রবাসীদের আয় কমেছে। অবৈধ পথে প্রবাসীদের আয় পাঠানোও আগের চেয়ে বেড়েছে। বিকাশের সাইনবোর্ড ব্যবহার করে প্রবাসীদের থেকে আয় সংগ্রহ করা হচ্ছে, যাতে ব্যাংকের চেয়ে বেশি বিনিময় মূল্য পাওয়া যাচ্ছে। 

তিনি বলেন, প্রবাসী আয় বাড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে বিভিন্ন উদ্যোগের অংশ হিসেবে প্রণোদনা দেওয়ার পরিকল্পনা চলছে। যারা কম অঙ্কের আয় পাঠাবে, তাদের নগদ প্রণোদনা দিতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে প্রস্তাব করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য মতে, ফেব্রুয়ারিতে প্রবাসীরা পাঠান ৯৪ কোটি ডলার। আগের বছরের ফেব্রুয়ারিতে এসেছিল ১১৩ কোটি ডলার।

২০১৬ সালেও প্রবাসীরা ১ হাজার ৩৬১ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পাঠান। যদিও ২০১৫ সালে এসেছিল ১ হাজার ৫৩২ কোটি ডলার। সে হিসেবে গত বছরে প্রবাসী আয় কমে ১১ দশমিক ১৬ শতাংশ। এর আগে ২০১৩ সালেও প্রবাসীরা ২ দশমিক ৩৯ শতাংশ কম রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন। ওই বছরে প্রবাসীরা ১ হাজার ৩৮৩ কোটি ডলার পাঠান। 

ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, দেশে ব্যাংকিং চ্যানেল ও খোলা বাজারে মার্কিন ডলারের দামের পার্থক্য বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ টাকার বেশি। বেশি টাকার আশায় অনেকেই অবৈধ পথকে বেছে নিচ্ছেন। এদিকে ডলারের বিপরীতে পাউন্ড, ইউরো, রিঙ্গিত, সিঙ্গাপুর ডলারসহ প্রভৃতি মুদ্রার মূল্যমান কমে গেছে। ফলে এসব দেশের শ্রমিকদের আয়ের বিপরীতে বাংলাদেশি টাকা কম পাওয়া যাচ্ছে। এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি তেলের দাম কমায় শ্রমিকদের আয় কমে গেছে। আবার কয়েকটি দেশ থেকে বিকাশের মাধ্যমে টাকা গ্রহণ করার খবর পাওয়া যাচ্ছে।

০৪ এপ্রিল, ২০১৭ ০০:৩৯:১৮