'রিজার্ভ চুরিতে রাষ্ট্রীয় মদদ ছিল'
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম ডেস্ক
অ+ অ-প্রিন্ট
বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে ৮১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার চুরিতে ‘রাষ্ট্রীয় মদদ’ (স্টেট স্পন্সরড) ছিল বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (এফবিআই) কর্মকর্তা লেমন্ট সিলার। যিনি রিজার্ভ চুরির তদন্ত কাজে বর্তমানে ফিলিপাইনে অবস্থান করে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসকে আইনি সহায়তা করছেন। তবে ঠিক কোন দেশ এ ঘটনায় জড়িত তার বিস্তারিত জানাননি তিনি। তবে ফিলিপাইনের ম্যানিলা থেকে এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। গতকাল ম্যানিলায় সাংবাদিকদের তিনি বলেন, পৃথিবীর ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সাইবার হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে সংঘটিত বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির সঙ্গে জড়িতদের নাম প্রকাশের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃপক্ষ।   এর আগে গত ২৪ মার্চ ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত এক গোলটেবিল আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থার (এনএসএ) এক কর্মকর্তা বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির নেপথ্যের দেশ হিসেবে উত্তর কোরিয়ার নাম উচ্চারণ করেন এবং এর মধ্যস্থতা করেছে চীন। এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে এফবিআই তদন্তও শুরু করে। এর কয়েক দিনের মাথায় এফবিআইয়ের কর্মকর্তা একই সুরে কথা বললেন। ফিলিপাইনে এফবিআইয়ের ওই কর্মকর্তা বলেন, নিউইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভ থেকে গত বছর ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের যে ৮১ মিলিয়ন ডলার চুরি হয় তাতে রয়েছে ‘রাষ্ট্রীয় মদদ’। এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু না জানালেও দৃঢ় ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, বিশ্বের সবচেয়ে বড় সাইবার এই হামলায় জড়িতদের নাম প্রকাশ করার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে যুক্তরাষ্ট্র। গত সপ্তাহে ইকোনমিস্টের খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে রক্ষিত বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ৮১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার হ্যাকিংয়ের ঘটনায় উত্তর কোরিয়া জড়িত বলে সন্দেহ করছেন যুক্তরাষ্ট্রেরই নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। রিজার্ভ চুরিতে উত্তর কোরিয়া চীনকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবেও ব্যবহার করে থাকতে পারে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এই রিজার্ভ চুরি বিশ্বের সবচেয়ে বড় সাইবার হামলা বলেও মন্তব্য করা হয়েছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফেডারেল আইনজীবীদের বিশ্বাস, চীনা দালালরা সুইফটের মাধ্যমে ভুয়া মেসেজ পাঠিয়ে অর্থ হাতিয়ে নিতে কোরিয়ান হ্যাকারদের সহায়তা করেছে। এ ঘটনায় কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয়, সরাসরি মামলা করা হবে উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে। এফবিআই গোয়েন্দারা এখন তদন্তের ক্ষেত্রে চীনা দালাল বা ব্যবসায়ীদের যোগসূত্রের দিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন। অন্যদিকে মামলার পাশাপাশি ফেডারেল রিজার্ভ পর্যায়ে দালালি ব্যবস্থায় নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথাও ভাবছে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়। প্রসঙ্গত, গত বছর ফেব্রুয়ারিতে ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে রক্ষিত বাংলাদেশ ব্যাংকের ৯৫ কোটি ১০ লাখ ডলার হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে হ্যাকাররা। তবে ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার তারা চুরি করতে সমর্থ হয়। এ অর্থের মধ্যে দেড় কোটি ডলার ফিলিপাইন থেকে উদ্ধার করতে পেরেছে বাংলাদেশ। ফিলিপাইনের রিজাল ব্যাংকের মাধ্যমে রিজার্ভের অর্থ নগদায়ন করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক সেই সূত্রে বাকি অর্থ উদ্ধারে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

 

৩০ মার্চ, ২০১৭ ০৮:০১:০৩