কানাডার ব্যবসায়ীদের স্বস্তি
পারস্পরিক বাণিজ্য বৃদ্ধির ব্যাপারে একমত ট্রাম্প-ট্রুডো
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম ডেস্ক
অ+ অ-প্রিন্ট
যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সোমবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর বৈঠক হয়। বৈঠকে তাঁরা পারস্পরিক বাণিজ্য বৃদ্ধির ব্যাপারে একমত হন। ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর ট্রুডো হচ্ছেন যুক্তরাষ্ট সফরকারী তৃতীয় বিদেশি নেতা। ছবি : এএফপি
যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সোমবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর বৈঠক হয়। বৈঠকে তাঁরা পারস্পরিক বাণিজ্য বৃদ্ধির ব্যাপারে একমত হন। ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর ট্রুডো হচ্ছেন যুক্তরাষ্ট সফরকারী তৃতীয় বিদেশি নেতা। প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো সোমবার যুক্তরাষ্ট্র সফরে আসেন। সেদিনই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখা কানাডার প্রধানমন্ত্রীর সফরের অন্যতম এজেন্ডা। বৈঠকের পর  কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন,মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কানাডার সঙ্গে ‘পারস্পরিক’ বাণিজ্য চান। তিনি কানাডার সঙ্গে বাণিজ্যের শর্তগুলো বাতিল নয়, সামান্য পরিবর্তন করতে আগ্রহী।মার্কিন প্রেসিডেন্টের এ কথায় কানাডার ব্যবসায়ীরা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচনের আগে থেকেই ত্রিদেশীয় নাফটা চুক্তির বিরোধিতা করে আসছেন। তিনি এ চুক্তি প্রয়োজনে বাতিল করা হবে বলেও ঘোষণা দিয়েছেন। নাফটা চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের অংশীদার কানাডা ও মেক্সিকো। দুই দেশই এ চুক্তিকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের বাণিজ্য বহুল পরিমাণ বৃদ্ধি করেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প আগামী মে মাস থেকে নাফটা চুক্তি নতুন করে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছেন। এতে মনমতো চুক্তি না হলে তিনি নাফটা থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরে আসবে বলেও জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র সরে গেলে স্বাভাবিকভাবেই নাফটা ব্যবস্থা ভেস্তে যাবে।

নাফটা চুক্তির পাশাপাশি ডোনাল্ড ট্রাম্প ট্রান্স-প্যাসিফিক পার্টনারশিপ (টিপিপি) চুক্তির বিরোধিতা করেছেন। প্রেসিডেন্ট পদে দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি এ চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নাম প্রত্যাহার করতে নির্বাহী আদেশ জারি করেন। ১২ জাতি টিপিপি চুক্তির অন্যতম অংশীদার কানাডা। চুক্তিটি মুখ থুবড়ে পড়ায় এবং নাফটা নিয়ে শঙ্কা দেখা দেয়ায় কানাডার বাণিজ্য সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতা গ্রহণ সামনে রেখে কানাডা সরকার এরই মধ্যে বিকল্প বাণিজ্য অংশীদার খুঁজতে উদ্যোগী হয়েছে। কানাডা সম্প্রতি ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এছাড়া আরো কয়েকটি দেশের সঙ্গে কানাডার মুক্ত বাণিজ্য আলোচনা চলমান রয়েছে।

বাণিজ্যের ওপর কানাডার অর্থনীতির নির্ভরতা বিরাট। কানাডার জিডিপির ২৫ শতাংশ আসে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য থেকে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো নাফটা প্রসঙ্গে বলেছেন, কানাডার অনেকের জন্যই এটা সত্যিকার উদ্বেগের বিষয়। কেননা আমরা জানি যে, আমাদের অর্থনীতি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কের ওপর অনেক নির্ভরশীল।

রাজনৈতিকভাবে কট্টরপন্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের একেবারে বিপরীত দিকে অবস্থান করছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন অভিবাসনের বিরুদ্ধে আদাজল খেয়ে লেগেছেন, ট্রুডো তখন অভিবাসী ও শরণার্থীদের কানাডায় স্বাগত জানিয়েছেন। ট্রাম্পের সঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে জাস্টিন ট্রুডো এ বিষয়ে কৌশলী অবস্থান নিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন স্থগিত করতে ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ সম্পর্কে মন্তব্য জানতে চাইলে কানাডার প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, অন্য কোনো দেশের বিষয়ে আমি উপদেশ দেব, কানাডার মানুষ পারতপক্ষে তা আশা করে না।

নাফটা চুক্তি সম্পর্কে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প বিভিন্ন সময়ে মেক্সিকোর বাণিজ্যচর্চার সমালোচনা করেছেন। কানাডাকে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ফেয়ার প্লেয়ার মনে করেন কিনা, এ মর্মে প্রশ্ন করলে ডোনাল্ড ট্রাম্প এড়িয়ে যান। তবে তিনি কানাডার সঙ্গে ‘চমত্কার’ সম্পর্কে ‘বড় কোনো পরিবর্তনের আশা করছেন না’ বলে জানান।

কানাডার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য পরিস্থিতি সম্পর্কে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, আমরা এটাতে এদিক-সেদিক করব। এটা দক্ষিণ সীমান্তের (মেক্সিকো) চেয়ে অনেক সহনীয় পরিস্থিতি।

সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরো জানান, বাণিজ্যকে আরো অনেক সহজ, অনেক ভালো ও অনেক দ্রুত করতে সীমান্তের দুই পাড়ে কিছু পদক্ষেপ নিতে তিনি কানাডার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলেছেন।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সঙ্গে কাজের সুবিধার্থে কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো তার মন্ত্রিসভা পুনর্গঠন করেছেন। সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ডকে তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়েছেন। জাস্টিন ট্রুডোর পদস্থ সফরসঙ্গীরা সোমবার মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ড ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদের স্মরণ করিয়ে দেন যে, দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্য এক রকম ভারসাম্যাবস্থায় রয়েছে। কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের ৩৫টি রাজ্যের রফতানি পণ্যের সবচেয়ে বড় ক্রেতা, এ কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ড মার্কিন কর্মকর্তাদের আরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আকারে বড়। সে তুলনায় কানাডা ছোট। দুই দেশের সম্পর্কেও তেমন ঝঞ্ঝাট নেই। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অনেকে কানাডা সম্পর্কে তেমন ভাবেন না। দুই দেশের সম্পর্কের অর্থনৈতিক গুরুত্ব মার্কিন নাগরিকদের সবসময় মনে থাকে না।

কানাডার ব্যবসায়ীরা ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে জাস্টিন ট্রুডোর বৈঠকের পর স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।

বিজনেস কাউন্সিল অব কানাডার প্রেসিডেন্ট ও সিইও জন ম্যানলি বলেছেন, সব মিলিয়ে দিনটি ভালো ছিল। এখনো উদ্বেগ বোধ করার মতো অনেক বিষয় রয়েছে। কিন্তু আমার মনে হয়, (বৈঠকের) মেজাজ ও আলোচনা ভীষণ ইতিবাচক ছিল।

কানাডার দেড়শটি বড় করপোরেশনের প্রতিনিধিত্ব করে বিজনেস কাউন্সিল অব কানাডা। সংগঠনের প্রেসিডেন্ট জন ম্যানলি যে উদ্বেগের বিষয়ের কথা বলেছেন, তা নির্ভর করছে ট্রাম্প ও ট্রুডোর আলোচনার ওপর। মার্কিন প্রেসিডেন্ট কোন খাতে ‘সামান্য পরিবর্তন’ করতে চান, সেটা বড় বিষয়।

ট্রাম্পের ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে অনেকে অন্টারিওর গাড়ি শিল্পের ওপর আক্রমণের আশঙ্কা করছেন। কেননা অন্টারিওতে প্রস্তুত বেশির ভাগ গাড়ি যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি হয়ে থাকে। অটো পার্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট ফ্ল্যাভিও ভলপ বলেন, কানাডার সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্কে ট্রাম্প কোনো নাটকীয় পরিবর্তন চান না, এটা জানা গুরুত্বপূর্ণ।

 

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০৯:০৪:২৯