অর্থবছরের দ্বিতীয় ভাগের মুদ্রানীতি ঘোষণা
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম
অ+ অ-প্রিন্ট
চলতি অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতি নিয়ে সরকারের যে লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে তা পূরণের লক্ষ্য নিয়ে ২০১৬-১৭ অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধের জন্য (জানুয়ারি-জুন) মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের কনফারেন্স হলে গভর্নর ফজলে কবির এ মুদ্রানীতি ঘোষণা করেন। বিনিয়োগ বাড়ানোর মাধ্যমে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য পূরণের পরিবেশ তৈরির পরিকল্পনায় অর্থবছরের প্রথম ভাগের মতই একইরকম ‘সতর্ক’ মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, “আমরা অর্থবর্ষের প্রথমার্ধের উৎপাদন সহায়ক, সতর্ক নীতির ভঙ্গিটি অপরিবর্তিত রেখেছি। ”

গত বছরের ১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া চলতি অর্থবছরের বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৭ দশমিক ২ শতাংশ। সেই সঙ্গে গড় মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৮ শতাংশে আটকে রাখার আশা প্রকাশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। 

মুদ্রানীতির ঘোষণায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর বলেন, বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত দেখে তাদের মনে হয়েছে, বাংলাদেশের অর্থনীতি কাঙ্ক্ষিত ৭ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পথেই রয়েছে। 

জানুয়ারি-জুন সময়ের মুদ্রানীতিতে অভ্যন্তরীণ ঋণের প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছিল ১৬ দশমিক ৪ শতাংশ। যার মধ্যে বেসরকারি ঋণে ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ এবং সরকারি ঋণে ১৫ দশমিক ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হবে বলে কেন্দ্রীয় ব‌্যাংক আশা করেছিল। 

জানুয়ারি-জুন মেয়াদের মুদ্রানীতিতেও ঋণ প্রবৃদ্ধির একই প্রত্যাশা বজায় রেখেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। 

গভর্নর জানান, গত মুদ্রানীতিতে একই লক্ষ্যমাত্রা ধরা হলেও এর বিপরীতে অভ্যন্তরীণ ঋণে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১২ দশমিক ৩ শতাংশ; যা লক্ষ্যমাত্রা থেকে ৪ দশমিক ১ শতাংশ পয়েন্ট কম। 

আর বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৫ শতাংশ, যা লক্ষ্যমাত্রা থেকে এক দশমিক ৬ শতাংশ পয়েন্ট কম। 

গভর্নর বলেন, “সাম্প্রতিককালে সরকারের ঘাটতি অর্থায়নে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ঋণ কমায় ব্যক্তিখাতে ঋণ যোগানো পথ সুগম করেছে। তবে সঞ্চয়পত্রে সরকারের ঋণ বাড়ায় দেশে বন্ড বাজারের বিকাশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। ”

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০১৬ সালের ডিসেম্বর শেষে ৪ দশমিক ৪ শতাংশ রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হলেও রেমিটেন্স প্রবাহ ১৭ দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে। 

তবে পুঁজি বাজারের সাম্প্রতিক উল্লম্ফন নিয়ে সতর্কবাণী এসেছে নতুন মুদ্রানীতিতে। 

গভর্নর বলেন, “মূলধন বাজারে ২০১০ সাল থেকে বিদ‌্যমান মন্দা প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসার প্রক্রিয়াটি যাতে কর্তৃপক্ষের সুদৃঢ় নিয়ন্ত্রণে, সু্স্থ ধারায় থাকে, সে বিষয়ে কার্যকর নজরদারি জরুরি। তা না হলে অতীতের মতো এবারও বিনিয়োগকারীদের গুরুতর ক্ষতির আশঙ্কা থাকবে। ”

বাজেট বাস্তবায়নে সরকারের ঘোষিত আর্থিক নীতিকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে প্রতি অর্থবছরে দুটি মুদ্রানীতি ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। জুলাই-ডিসেম্বর মেয়াদের মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হয়েছিল গত বছরের ২৬ জুলাই। 

বরাবরের মতো এবারও নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণার আগে অর্থনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, ব্যাংকার ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

২৯ জানুয়ারি, ২০১৭ ১৭:১৪:৩৫