‘২ বছরের মধ্যে শক্ত ভিত্তির উপর দাঁড়াবে পুঁজিবাজার’
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম ডেস্ক
অ+ অ-প্রিন্ট
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত
 

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, কার্যক্রম শুরুর পর থেকে বেশকিছু বিপদের সম্মুখীন হয়েছে আমাদের দেশের পুঁজিবাজার। বিশেষ করে ১৯৯৬ সাল এবং ২০১০ সালে আমাদের সরকারের আমলে দুইটি বড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। তবে আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশের পুঁজিবাজার শক্ত ভিত্তির উপর দাঁড়াবে। সিকিউরিটিজ কমিশন ভবনের ফলক উন্মোচন উপলক্ষে রোববার বেলা পৌনে ১১টায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, ২০১০ সালে ধসের পর এর কারণ খতিয়ে দেখতে কাজ শুরু করি আমরা। পুঁজিবাজারের ইতিহাসে প্রথম অর্থমন্ত্রী হিসেবে সিকিউরিটি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে গিয়ে বৈঠক করি আমি। বৈঠকে আমার প্রথম প্রস্তাব ছিল, ব্যবস্থাপনা থেকে মালিকানা পৃথক করা। ওই সময় অনেকেই এতে বাধা দেয়। পরবর্তীতে সবার সহযোগিতায় অত্যন্ত সুন্দরভাবে আমরা কাজটি শেষ করি। ফলে আজকে বিনিয়োগকারীরা নিশ্চিন্তে বাজারে আসছেন। আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, বিনিয়োগ চাঙ্গা রাখতে প্রধান ভূমিকা পালন করতে পারে পুঁজিবাজার। এখানে ব্যাংকের ভূমিকাও কম নয়। উন্নত দেশে ব্যাংক সব সময়ই স্বল্পমেয়াদী বিনিয়োগের জন্য ঋণ দিয়ে থাকে। দীর্ঘমেয়াদের বিনিয়োগে আগ্রহী উদ্যোক্তারা পুঁজিবাজারের দিকে ধাবিত হয়।

তিনি বলেন, অর্থনৈতিক উন্নতির জন্য পুঁজিবাজারের দিকে বিশেষ নজর দিচ্ছে আমাদের সরকার। পুঁজিবাজারের উন্নয়নে কাজ করতে আমরা বদ্ধপরিকর। আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশের পুঁজিবাজার শক্ত ভিত্তির উপর দাঁড়াবে

অর্থমন্ত্রী বলেন, এক সময় বিনিয়োগকারী ও ব্রোকারদের আলাদা করা খুব কঠিন ছিল। সিকিউরিটি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জের বর্তমান কমিশনের নেতৃত্বে বেশ কিছু সংস্কারমূলক পদক্ষেপের মাধ্যমে সেটি আলাদা করতে সক্ষম হয়েছি।

বহুজাতিক কোম্পানির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ব্যবসা করতে হলে কোম্পানিগুলোকে সে দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে হয়। আমাদের অর্থনীতির অবস্থা বিবেচনা করে কোনো কোম্পানিকে আমরা চাপ সৃষ্টি করিনি। আগামী দিনে পুঁজিবাজারের স্থিতিশীলতার স্বার্থে এতে তালিকাভুক্তির জন্য বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে চাপ দেওয়া হবে।

আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের আয়োজিত অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নতুন ভবনের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ফলক উন্মোচনের পর দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন তিনি। একই সময়ে দেশব্যাপী ফিন্যান্সিয়াল লিটারেসি কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

০৯ জানুয়ারি, ২০১৭ ০৭:০৪:১৭