পাঁচ বছরে বাংলাদেশকে ৮০০ কোটি ডলার দেবে এডিবি
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম ডেস্ক
অ+ অ-প্রিন্ট
বছরে বাংলাদেশকে ৮০০ কোটি ডলার (প্রায় সাড়ে ৬২ হাজার কোটি টাকা) ঋণ দেবে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি)। অবকাঠামো, টেকসই ও বৈচিত্র্যময় অর্থনীতির জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক বাণিজ্য সংযোগ শক্তিশালী করতে এ অর্থ দেবে সংস্থাটি। সম্প্রতি ২০১৬-২০ মেয়াদের জন্য চূড়ান্ত করা এডিবির কান্ট্রি প্রোগ্রাম স্ট্র্যাটেজিতে (সিপিএস) এ ঋণ প্রদানের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২০২০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে কোন কোন খাতে বিনিয়োগ করা হবে, তা নির্ধারণের লক্ষ্যে এ কৌশলপত্র তৈরি করেছে এডিবি। এর আগে ২০১১-১৫ মেয়াদে তৈরি করা কৌশলপত্রটির মেয়াদ শেষ হয়েছে গত বছরের ডিসেম্বরে। গত মেয়াদে বাংলাদেশে বিভিন্ন খাতে ৫০০ কোটি ডলার ঋণ প্রদানের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল ম্যানিলাভিত্তিক সংস্থাটি।

সিপিএস ২০১৬-২০তে বলা হয়েছে, ২০০৬-০৭ অর্থবছরের পর থেকে বাংলাদেশ বার্ষিক ৬ দশমিক ৩ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি অর্জন করছে। ২০০০ সালের পর দারিদ্র্যের হার অর্ধেকে নেমে এসেছে। বর্তমানে বাংলাদেশের সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জগুলো হলো— ৭ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বহুমুখীকরণ ও প্রবৃদ্ধির নতুন উত্স তৈরি, নতুন কর্মসংস্থান ও গ্রামীণ উন্নয়নের মাধ্যমে দারিদ্র্য হ্রাস এবং প্রবৃদ্ধিকে আরো অন্তর্ভুক্তিমূলক করা, প্রাতিষ্ঠানিক ও নীতিগত দুর্বলতা কমিয়ে আনার মাধ্যমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি এবং পরিবেশের ক্ষতি ও জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি কমিয়ে আনা।

বাংলাদেশের উন্নয়নে বেসরকারি খাতের ভূমিকাকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে এডিবির নতুন এ কৌশলপত্রে। বর্তমানে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ অনেকটাই স্থবির। ২০১১-১৫ সময়ে জিডিপিতে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগের অবদান ছিল প্রায় ২২ শতাংশ। এখনো তা একই অবস্থানে আটকে আছে। এজন্য বেসরকারি খাতের সম্প্রসারণে কাজ করবে এডিবি। আগামী পাঁচ বছর খাতভিত্তিক উন্নয়নের পরিবর্তে অঞ্চলভিত্তিক উন্নয়ন প্রয়োজন বলে মনে করছে সংস্থাটি। এজন্য আঞ্চলিক কেন্দ্রগুলোর উন্নয়নে সহায়তা দেয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্ব দেয়া হবে।

সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতাকে বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য মন্তব্য করে কৌশলপত্রে বলা হয়েছে, এক্ষেত্রে জিডিপি, রফতানি ও রেমিট্যান্সের প্রবৃদ্ধি ভূমিকা রেখেছে। তবে রাজস্ব আদায় এখনো বাংলাদেশের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়। জিডিপির মাত্র ১০ শতাংশ আসছে রাজস্ব খাত থেকে।

এতে আরো বলা হয়, বাংলাদেশের অর্থনীতি ক্রমেই কৃষি থেকে উত্পাদনমুখী শিল্পনির্ভরতার দিকে ঝুঁকছে। চামড়াজাত পণ্য, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, ওষুধ, হালকা প্রকৌশল, জাহাজ নির্মাণ ও সেবা খাতের রফতানি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। তবে সম্ভাবনা অনুযায়ী এসব খাতের রফতানি আরো বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে এডিবির বাংলাদেশ কার্যালয়ের মুখপাত্র গোবিন্দ বর বণিক বার্তাকে বলেন, আগামী পাঁচ বছরে এ অর্থ বিনিয়োগের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে এডিবি বিভিন্ন খাতে এ অর্থ বিনিয়োগ করবে।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্রে জানা গেছে, সরকারের সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার সঙ্গে মিল রেখে নতুন কৌশলপত্র তৈরি করা হয়েছে। এ পরিকল্পনায় সরকার যেসব খাতকে অগ্রাধিকার দিয়েছে, সেসব খাতকে গুরুত্ব দিয়েছে এডিবি। আগামী পাঁচ বছরে কোন কোন খাতে ঋণ দেবে, সে বিষয়ে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে বৈঠক করেছে এডিবি। সেসব বৈঠকে সবার মতামত নেয়া হয়েছে। এর ভিত্তিতেই কৌশলপত্র তৈরি করেছে সংস্থাটি।

এডিবির নতুন এ কৌশলপত্রে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে সড়ক, রেল ও বিদ্যুত্ খাতের অবকাঠামোগত উন্নয়নে। আঞ্চলিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিদ্যুত্ গ্রিড স্থাপন, রেল ও সড়ক যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়নও রয়েছে এর আওতায়। জ্বালানি সক্ষমতা, সরবরাহ বৃদ্ধি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এছাড়া দেশের গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন, দক্ষ জনশক্তি তৈরি, মাধ্যমিক শিক্ষার উন্নয়ন, আর্থিক ব্যবস্থার উন্নয়ন, সুশাসন, পরিবেশের উন্নয়ন ও পুঁজিবাজারের বিভিন্ন সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়নে গুরুত্ব দিয়েছে সংস্থাটি।

উল্লেখ্য, বর্তমানে এডিবির অর্থায়নে সাসেক প্রকল্প, বিদ্যুত্ ব্যবস্থার উন্নয়ন, প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচিসহ বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।

 

৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০৬:৩৮:৫৪