অগ্রণী ব্যাংকের এমডিকে অপসারণ
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম ডেস্ক
অ+ অ-প্রিন্ট
অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সৈয়দ আবদুল হামিদ
ক্ষমতার অপব্যবহার করে ৭৯২ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করায় অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সৈয়দ আবদুল হামিদকে অপসারণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ নির্দেশ দেয়া হয়।অপসারণের বিষয়টি অবহিত করে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক মহাব্যবস্থাপক স্বাক্ষরিত চিঠি অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব ও অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যানকে পাঠানো হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এর আগে গতকাল বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির এমডি অপসারণের সিদ্ধান্তকে অনুমোদন করেন। পরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে অগ্রণী ব্যাংককে চিঠি দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে অপসারণের কথা জানানো হয়।

সূত্র জানায়, সৈয়দ আবদুল হামিদের বিরুদ্ধে ১০টি গুরুতর অনিয়মে সম্পৃক্ততা পায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এরই অংশ হিসেবে ব্যাংক কোম্পানি আইনের ৪৬ ধারা অনুযায়ী এক চিঠিতে কেন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো হচ্ছে, পরিচালনা পর্ষদের অগোচরে ঋণ দেওয়া, নবায়ন, শ্রেণিকরণ, বেআইনিভাবে শাখা স্থানান্তর ও এজন্য সুদমুক্ত অগ্রিম ঋণ অনুমোদন।

বিধিবহির্ভূতভাবে মুন গ্রুপকে ৩০০ কোটি টাকার ঋণ বিতরণে তার সম্পৃক্ততার প্রমাণ পায় বাংলাদেশ ব্যাংক। এছাড়া ব্যাংকের প্রধান শাখার গ্রাহক তানাকা ইন্টারন্যাশনালের অনুকূলে ৭০ কোটি টাকার এলসি সীমা ও ৫০ কোটি টাকার এলটিআর নিয়েও রয়েছে নানা ধরনের অনিয়ম। মাহিদ অ্যাপারেলস ৪০ কোটি টাকার ঋণপত্র ১০ শতাংশ মার্জিনে পর্ষদ অনুমোদন দিলেও এমডি বিনা মার্জিনে ঋণপত্র খুলে দেন। ক্ষমতার অপব্যবহার করে লালদিঘি ইস্ট শাখার গ্রাহক ব্যাংক খাতের আলোচিত দুই ভাইয়ের প্রতিষ্ঠান মুহিব স্টিলের ৪২ কোটি টাকা ঋণ এমডি নিজেই নবায়ন করে দেন। দুই ভাইয়ের আরেক প্রতিষ্ঠান মিশম্যাক শিপ ব্রেকিংয়ের ৩১ কোটি ২৭ লাখ টাকা অনাদায়ী রয়েছে।

বিধিবহির্ভূতভাবে প্রধান শাখার আরেক গ্রাহক মিউচুয়াল কনসার্ন লিমিটেডের ২০০ কোটি টাকা ঋণপত্র সীমা দুবার নবায়ন করেন এমডি। এভাবে ৭৯২ কোটি টাকা ঋণ অনিয়মের বিষয়ে তার কাছে জানতে চেয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংকের স্থায়ী কমিটি।

এসব অভিযোগে কেন অপসারণ করা হবে না তা জানতে চেয়ে ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রথম নোটিশ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। গত ৩ মার্চ জবাব দেওয়ার শেষ দিনে তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ১৬ মার্চ পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়। পরে তিনি দীর্ঘ জবাব জমা দিয়েছেন। কিন্তু তার জবাব গ্রহণ করেনি বাংলাদেশ ব্যাংক। সৈয়দ আবদুল হামিদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত ব্যবস্থা নিতে স্ট্যান্ডিং কমিটিতে বিষয়গুলো পাঠানো হয়।

ব্যাংকিং খাতের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনা করে সুপারিশ করার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকে রয়েছে ব্যাংক সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটি। বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আবু হেনা মোহা. রাজি হাসানের নেতৃত্বে গঠিত ওই কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- নির্বাহী পরিচালক আহমেদ জামাল ও আবদুর রহিম। কমিটির সদস্য সচিব হচ্ছেন ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগের (বিআরপিডি) মহাব্যবস্থাপক (জিএম) আবু ফরাহ মো. নাছের।

ওই স্ট্যান্ডিং কমিটি ১৩, ১৪ ও ১৫ জুন সৈয়দ আব্দুল হামিদকে শুনানি করে। শুনানি শেষে স্ট্যান্ডিং কমিটি সৈয়দ আব্দুল হামিদকে অপসারণের বিষয়ে সুপারিশ করে।

 

৩০ জুন, ২০১৬ ১৬:১৯:৫৫