বাংলাদেশ ব্যাংক : আতঙ্কের নাম ডিলিং রুমের ব্যাক অফিস
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম ডেস্ক
অ+ অ-প্রিন্ট
বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব সংরক্ষণ ও বাজেট প্রণয়নের দায়িত্বে রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড বাজেটিং বিভাগ। এ বিভাগের একটি উপশাখা ‘ব্যাক অফিস অব দ্য ডিলিং রুম’। আন্তর্জাতিক লেনদেনের জন্য এ উপশাখার একটি কক্ষে স্থাপন করা হয়েছে সুইফট সিস্টেম নেটওয়ার্কের সার্ভার। সুইফট নেটওয়ার্কের সঙ্গে দেশীয় মুদ্রায় লেনদেনের মাধ্যম হিসেবে আরটিজিএস সংযোগ স্থাপনকে কেন্দ্র করে গত ৪ ফেব্রুয়ারি নিউইয়র্ক ফেডে রক্ষিত বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি হয়। এ ঘটনার পর থেকে ডিলিং রুমের ব্যাক অফিসে কর্মরত কর্মকর্তাদের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক কাজ করছে। খবর বণিক বার্তা'র।

রিজার্ভের অর্থ চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মধ্যেই উদ্বেগ-উত্কণ্ঠা রয়েছে। বিশেষত ডিলিং রুমের ব্যাক অফিসটি পরিণত হয়েছে উত্কণ্ঠার কেন্দ্রে। এ বিভাগে কর্মরত কর্মকর্তাদের মধ্যে চাকরি হারানোর আতঙ্ক জেঁকে বসেছে। চলতি মাসে বিভাগটিতে নতুন করে দুজন কর্মকর্তাকে বদলি করা হলেও তারা কর্মক্ষেত্রে যোগ দেননি। স্বাস্থ্যজনিত কারণ দেখিয়ে দীর্ঘমেয়াদে ছুটির আবেদনের কথা ভাবছেন তারা। কেউ কেউ চাকরি ছাড়ার কথাও জানিয়েছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ২ জুন বাংলাদেশ ব্যাংকের হিউম্যান রিসোর্সেস ডিপার্টমেন্ট-১-এর উপপরিচালক আলিম-উল-রাজী সৈয়দ স্বাক্ষরিত এক আদেশে (নির্দেশ নম্বর এইচআরডি-১:২৫৭/২০১৬) এক্সপেন্ডিচার ম্যানেজমেন্ট বিভাগ-১-এর উপপরিচালক মো. হারুন অর রশিদকে অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড বাজেটিং বিভাগে বদলির আদেশ দেয়া হয়। এ আদেশের পর মো. হারুন আর রশিদ অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড বাজেটিং বিভাগের মহাব্যবস্থাপকের কাছে ওই বিভাগের যোগদানের শর্ত হিসেবে ব্যাক অফিসে পদায়ন না করার দাবি জানান। এতে মহাব্যবস্থাপক রাজি না হওয়ায় তিনি ওই বিভাগে যোগদান না করে অন্য বিভাগে বদলি হন।

এর পর ২১ জুন হিউম্যান রিসোর্সেস ডিপার্টমেন্ট-১-এর উপপরিচালক আফরিনা নাসরিন স্বাক্ষরিত আরেক আদেশে (নির্দেশ নম্বর এইচআরডি-১:২৮৮/২০১৬) ডেট ম্যানেজমেন্ট বিভাগের উপপরিচালক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেনকে ওই বিভাগে বদলি করা হয়। কিন্তু গতকাল পর্যন্ত তিনি ওই বিভাগে যোগদান করেননি বলে জানা গেছে।

অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড বাজেটিং বিভাগে যোগদান না করার বিষয়ে জানতে চাইলে মো. হারুন অর রশিদ ও মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

জানা গেছে, ২ জুনের আদেশে অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড বাজেটিং বিভাগের ব্যাক অফিসের কর্মকর্তা উপপরিচালক জিএম আব্দুল্লাহ সালেহীনকে কমন সার্ভিসেস ডিপার্টমেন্ট-১-এ বদলির নির্দেশ দেয়া হয়। এ আদেশের পর তিনি ওই বিভাগে যোগদান করতে চাইলে বিভাগটির মহাব্যবস্থাপক তাকে নিতে অনীহা প্রকাশ করেন। পরে ২১ জুনের আদেশে আব্দুল্লাহ সালেহীনকে ডেট ম্যানেজমেন্ট বিভাগে বদলির আদেশ দেয়া হলে তিনি ওই বিভাগে যোগদান করেন।

অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড বাজেটিং বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের খুব অল্প সংখ্যক কর্মকর্তার সুইফট লেনদেনের অভিজ্ঞতা রয়েছে। ব্যাক অফিসে যারা কাজ করেন, তাদের নির্ধারিত সময়ের চেয়েও অনেক বেশি সময় অফিস করতে হয়। রিজার্ভ চুরির ঘটনার পর থেকে বিভাগটির কর্মকর্তারা চরম অস্বস্তিকর সময় পার করছেন। এ অবস্থায় কোনো কর্মকর্তাই ব্যাক অফিসে কাজ করতে রাজি হচ্ছেন না। প্রয়োজনে দীর্ঘমেয়াদে চিকিত্সা ছুটি কিংবা চাকরি ছেড়ে দেয়ার হুমকি দিচ্ছেন। এ অবস্থায় বিভাগটির অভ্যন্তরীণ কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের কথা ভাবছেন তারা।

বিভাগটি সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ডিলিং রুমের ব্যাক অফিসে দুজন যুগ্ম পরিচালক, দুজন উপপরিচালক ও তিনজন সহকারী পরিচালক কর্মরত। বিভাগটির ইনচার্জ হিসেবে রয়েছেন যুগ্ম পরিচালক মো. জোবায়ের বিন হুদা। তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় মতিঝিল থানায় দায়ের করা মামলার বাদী।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক শুভংকর সাহা বণিক বার্তাকে বলেন, কর্মকর্তাদের বদলির বিষয়টি ব্যাংকের স্বাভাবিক নিয়মের অংশ। যেহেতু ডিলিং রুমে একটি দুর্ঘটনা ঘটে গেছে, সেজন্য কেউ কেউ ভয়ে থাকতে পারেন। একজন কর্মকর্তাকে স্ট্যান্ড রিলিজ না করলে বদলির আদেশের পর নতুন কর্মস্থলে যোগদানের জন্য এক মাস সময় থাকে।

তিনি বলেন, কর্মকর্তাদের মধ্যে বিরাজমান এ ভয় সময়ের ব্যবধানে কেটে যাবে। আমরা সাইবার নিরাপত্তা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছি। এ ব্যাপারে সংস্কার কার্যক্রম চলছে।

প্রসঙ্গত, গত ৪ ফেব্রুয়ারি রাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি হয়। এর মধ্যে ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার ফিলিপাইনে ও ২ কোটি ডলার শ্রীলংকায় প্রবেশ করে। শ্রীলংকা থেকে ২ কোটি ডলার এরই মধ্যে উদ্ধার হয়েছে। পাশাপাশি ফিলিপাইনে যাওয়া অর্থ উদ্ধারের চেষ্টাও চলছে।

২৫ জুন, ২০১৬ ০২:৫৬:৪৫