মাত্র ৫ ঘণ্টায় চুরি হয় রিজার্ভের ৮০০ কোটি টাকা
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম
অ+ অ-প্রিন্ট
ফেডারেল রিজার্ভ থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ৮শ' কোটি টাকা চুরি হয়েছে মাত্র ৫ ঘন্টায়। আর এই চুরিতে হ্যাকারদের পর্যবেক্ষণ ছিল দীর্ঘদিনের। এ নিয়ে সুইফটের কাছে লেনদেনের তথ্য চেয়েও পাওয়া যায়নি। ড. ফরাসউদ্দিনের নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটি চূড়ান্ত প্রতিবেদনে এসব তথ্য দিয়েছে।

রিজার্ভ চুরির সময় কেন্দ্রীয় ব্যাংকে যারা কম্পিউটারের দায়িত্বে ছিলেন তাদের বিরুদ্ধে শাস্তির সুপারিশও করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

রিজার্ভ চুরির ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই চলছে নানামুখি তদন্ত। এরই মধ্যে অর্থমন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটি জমা দিয়েছে চূড়ান্ত প্রতিবেদন। সেটি হাতে পেয়ে তাৎক্ষণিভাবে কিছু না বললেও, শিগগিরই তা প্রকাশের কথা জানান অর্থমন্ত্রী। 

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফরাসউদ্দিনের নেতৃত্ব ৩ সদস্যের ওই কমিটি প্রথমে একটি অন্তবর্তীকালীন প্রতিবেদন জমা দেয়। পরে সেটি চূড়ান্ত হওয়ার আগে নিয়োগ দেয়া হয় আরও ৩ জন আইটি বিশেষজ্ঞকে। যাদের উদঘাটিত তথ্যেই বেরিয়ে আসে বাংলাদেশ ব্যাংকের সম্পৃক্ততার প্রমাণ।

গেল ৪ঠা ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ১০টা থেকে রাত ৩টা, মাত্র ৫ ঘণ্টার মধ্যে চুরি হয় রিজার্ভের ৮০০ কোটি টাকা। তবে হ্যাকাররা চুরির প্রস্তুতি নেয় আরও আগে। কম্পিউটারের নানা তথ্য পর্যালোচনায় জানা গেছে জানুয়ারি থেকে শুরু করে চুরির দিন পর্যন্ত অনলাইনে অর্থ লেনেদনের প্রতিষ্ঠান সুইফটের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের কম্পিউটারে পাঠানো হয় বিভিন্ন ধরণের সিগন্যাল। বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা হয় এসব সিগন্যাল বোঝেননি, না হয় গোপন করেছেন। এসব তথ্য দিয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হয়েছে তাদের শাস্তির। ৪ থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কম্পিউটার লগ শিটের তথ্য চাওয়া হলেও, সুইফট তা দেয়নি বলেও প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। 

আইটি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হ্যাকাররা প্রতিনিয়ত স্মার্ট হচ্ছে। তাই তাদের সাথে পাল্লা দিতে দরকার অত্যন্ত দক্ষ জনবল।

প্রতিবেদনে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের নাম আসায়, এটি পুরোপুরি প্রকাশ করা হবে কিনা তা নিয়ে, খানিকটা সংশয়ে সংশ্লিষ্টরা।

 

১১ জুন, ২০১৬ ১৪:২৭:২৩