খুলনায় দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণহীন অভিযানেও নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে না
মাওলা বকস, খুলনা
অ+ অ-প্রিন্ট
খুলনার বাজারগুলোতে রমজানে মাসে ভয়াবহ অবস্থায় পরিণত হয়েছে। প্রতিনিয়ত প্রতারণার শিকার হচ্ছে ক্রেতারা। বিশেষ করে পাইকারী ও খুচরা বাজারসহ বড় বড় ডিপার্টমেন্টাল শপগুলোতেও বিক্রি হচ্ছে পচা ও মেয়াদ উত্তীর্ণ খাবারসহ বিভিন্ন রকমের পণ্য। পাশাপাশি ঈদকে সামনে রেখে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের দাম নিয়ন্ত্রণহীন। খুলনা সিটি কর্পোরেশন, জেলা প্রশাসন ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও বিএসটিআই’র নিয়মিত অভিযানেও নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে না। তবে কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রতিনিয়ত বাজারগুলোতে মনিটরিং করা হচ্ছে। কোন অনিয়ম পেলেই শাস্তিযোগ্য ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সাধারণ মানুষ সঠিক মূল্যে ভাল পণ্য ও সেবা পাওয়ার জন্য তাদের চেষ্টা অব্যহত রয়েছে।

নগরীর শিরোমনি বাজার, ফুলবাড়িগেট বাজার, দৌলতপুর বাজার, বয়রা বাজার, খালিশপুর বাজার, নিরালা বাজার, ময়লপোতা সন্ধ্যা বাজার, বড় বাজার, গল্লামারী বাজার, রূপসা বাজারসহ একাধিক বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রমজান উপলক্ষে চিনি, ডাল, ছোলা, তেল, কলা, দুধ, চিড়া, মুড়ি, রুহ আফজা, বেসন, কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, গরুর গোস্তসহ প্রত্যেকটি পণ্যের দাম রমজানে বেড়েছে। যা সর্বনি¤œ ৫ টাকা থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত। নিয়ম অনুযায়ী সকল বাজারেই পণ্যের বিক্রয়মূল্যের তালিকা সাঁটানোর কথা থাকলেও তা চোখেই মেলেনি। একই অবস্থা খুলনার বড় বড় ডিপার্টমেন্টাল শপগুলোতে। তবে সেখানে ক্রেতাদের প্রতারণার চিত্রটি একটি ডিজিটাল প্রক্রিয়া করা হচ্ছে। বিশেষ করে বিদেশী প্যাকেটজাত পচা ও মেয়াদ উত্তীর্ণ খেজুর উচ্চ মূল্যে বিক্রি করা হচ্ছে। এসব শপগুলোতে গরুর গোস্ত বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৭শ’ টাকা পর্যন্ত। এছাড়া ভারতীয় পণ্যে সয়লাব হয়ে পড়েছে খুলনার বেশিরভাগ বাজার। ভারতীয় থ্রি-পিস, শাড়ি, কসমেটিকসসহ নানা পণ্য আমদানি না করেই অবৈধভাবে দেশে এনে বিক্রি করা হচ্ছে। এমনকি হোটেল রেস্টুরেন্টে বাসিপচা ইফতারি ফ্রিজে রেখে তা পরের দিন বিক্রি করার অভিযোগও মিলেছে। মিনারেল ওয়াটারের দাম বৃদ্ধিসহ, দই ও মিষ্টির কারখানায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি করা হচ্ছে বলে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। 

রমজানে বাজার মূল্য স্থিতিশীল রাখা ও খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধ করতে প্রতিদিনই কাজ করছে একাধিক টিম। কিন্তু তারপরও এই সব অভিযান কাজে আসছে না। সম্প্রতি নগরী নিউ মার্কেট সংলগ্ন এলাকার বিগ বাজার শপে ভারতীয় পণ্যের আমদানিকারক জনিত সমস্যা, দৌলতপুর ও খুলনা সেফ এন সেভ শপে পচা ও মেয়াদ উত্তীর্ণ খাবার বিক্রি, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে কেওড়া রেস্টুরেন্টে পচা ইফতারি ফ্রিজে রাখা, বড় বাজারের নব রূপালী ভান্ডারে খাবার অনুপযোগী খেজুর বিক্রি, কেডি ঘোষ রোডস্থ মরিয়ম হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্টে পচা ও ফাঙ্গাসযুক্ত খাবার বিক্রিসহ একাধিক হোটেল, রেস্টুরেন্ট, বাজারসহ কয়েকটি ডিপার্টমেন্টাল শপিংয়ে অভিযান করে জরিমানা আদায় করা হয়েছে। এমনকি খাবার অনুপযোগী আম ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে সংরক্ষণ করায় ১১ বস্তা খেজুর বাজেয়াপ্তও করা হয়েছে। 

এ ব্যাপারে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের খুলনা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক শিকদার শাহীনুর আলম বলেন, খুলনার বাজারগুলো মনিটরিং করার জন্য একাধিক টিম প্রতিদিন কাজ করছে। কয়েকটি বাজারে কিছু অনিয়ম পাওয়ায় জরিমানা আদায়সহ পণ্য বাজেয়াপ্তও করা হচ্ছে। ভোক্তাদের কোন অভিযোগ পাওয়ার সাথে সাথেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া নির্দিষ্ট মূল্যের বেশি ক্রেতাদের কাছ থেকে নেওয়ার অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

১৫ মে, ২০১৯ ১০:১৫:১৬