প্রেমের কারণে মেয়ের পায়ে শিকল, বাবা-মা গ্রেপ্তার
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
অ+ অ-প্রিন্ট
 নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় প্রেমের অপরাধে কলেজপড়–য়া মেয়েকে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখার অভিযোগে বশির উদ্দিন (৫৫) ও তার স্ত্রী ফরিদা বেগমকে (৪১) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত বুধবার ভোরে উপজেলার দাপা শিহাচর শাহ জাহান রোলিং মিল এলাকার লোকমান মিয়ার বাড়ির পঞ্চম তলার ফ্ল্যাট থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় শিকলে বাঁধা সাদিয়া আক্তারকে (১৯) উদ্ধার করে পুলিশ। তাদের গ্রামের বাড়ি ভোলার বোরহানউদ্দিনে।

সিদ্ধেশ্বরী কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্রী সাদিয়া জানান, কলেজে আসা-যাওয়ার পথে হিন্দু ধর্মের সাগর নামে এক যুবক        তাকে উত্ত্যক্ত করত। একাধিকবার তাকে প্রেমের প্রস্তাবও দেয়। প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় নানাভাবে ভয়ভীতি দেখায় সাগর। পরে বাধ্য হয়ে তার সঙ্গে প্রেমে জড়ান। তখন ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে তাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেয় সাগর। কিন্তু তা না করে সাগর তার সঙ্গে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক গড়ে। বিষয়টি তার বাবা-মা জানতে পেরে তাকে বাধা দেন। কিন্তু তিনি সাগরের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখেন। তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় গত ১৪ এপ্রিল থেকে বাবা-মা তাকে শিকল দিয়ে বেঁধে আটকে রাখেন। পরে সাগরের কথামতো জাতীয় জরুরি নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করে বিষয়টি জানান। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে।

ফতুল্লা মডেল থানার ওসি আসলাম হোসেন জানান, ফোন পেয়ে ওই কলেজছাত্রীকে শিকল দিয়ে বাঁধা অবস্থা উদ্ধার করা হয়। এ সময় তার বাবা-মাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় এএসআই সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলা করেছেন। তিনি আরও জানান, প্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা দণ্ডবিধি আইনের ৩৪২ ধারার অপরাধ। মেয়েটি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মঈনুল ইসলাম জানান, এ মামলায় সাদিয়ার বাবা-মাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

১০ মে, ২০১৯ ১০:৩৪:৩৯