খুলনার শতাধিক পয়েন্টে দুর্বল বেড়িবাঁধ আতঙ্কিত মানুষ
মাওলা বকস, খুলনা
অ+ অ-প্রিন্ট
সুন্দরবন সংলগ্ন  কপোতাক্ষ নদের উপচে পড়া জোয়ারে কয়রা উপজেলার সদর ইউনিয়নের গোবরা এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়ছে বেড়িবাঁধে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়ীবাধ গুলো এখন সরু আইলে পরিণত হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় ফণীর আঘাতে এ বাঁধ টিকবে কিনা এমন সন্দেহ স্থানীয়দের। যে কারনে স্থানীয় বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে আছে।  গত কয়েকদিনের জোয়ারে বেড়িবাঁধের প্রায় ৩শ’ ফুট জায়গার সিংহভাগই নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বাঁধটি ভেঙে গেলে উপজেলা সদরসহ প্লাবিত হবে বিস্তীর্ণ এলাকা। স্থানীয় লোকজন ঝুড়ি কোদালে করে মাটি কেটে স্বেচ্ছাশ্রমে বেড়িবাঁধ রক্ষার চেষ্টা করছেন। কয়রা উপজেলার শাকবাড়িয়া নদীর উত্তাল জোয়ারে কাঠকাটা এলাকার প্রায় ২শ’ ফুট ওয়াপদা ভাঙনের মুখে। যেকোন সময় ভেঙে যেতে পারে বেড়িবাঁধটি। একই অবস্থা উপজেলার ৫ ইউনিয়নের অন্তত ৪০টি পয়েন্ট।

কয়রা সদরের ভারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যান নাজমুস সাদাত বলেন, ভাঙন রক্ষায় কর্মসৃজন প্রকল্পের মাধ্যমে শ্রমিকরা ও স্থানীয় লোকজন মাটি ফেলার কাজ করেছে। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড সঠিক সময়ে মেরামত না করায় বাঁধ এমন দুর্বল হয়ে পড়েছে। ঘুর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের আঘাত এ বাঁধ মোকাবেলা করতে না পারার শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।

গোবরা গ্রামের বাসিন্দা শেখ লিটন বলেন, বাঁধ রক্ষা করা না গেলে ভিটেমাটি, ফসল, জমি জাগয়া ও গাছ গাছালির অস্তিত্ব থাকবে না। এবার ভেঙে গেলে এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। খুলনার কয়রা উপজেলার কাঠকাটা, দশহালিয়া, ৪ নম্বর কয়রা লঞ্চঘাট ,দক্ষিণ বেদকাশী ও পাথরখালি গ্রামের বেড়িবাঁধের মাটি জোয়ারের পানির আঘাতে প্রতিনিয়ত ধসে যাচ্ছে। এছাড়াও মহারাজপুর ইউনিয়নের মঠবাড়ীর লঞ্চ ঘাট, পবনাখাল, দশহালিয়া, কয়রা ইউনিয়নের গোবরা, ঘাটাখালী, হরিণখোলা, উত্তর বেদকাশীর গাজীপাড়া, বিনাপানি, গাব্বুনিয়া, দক্ষিণ বেদকাশির জোড়শিং, চোরামুখা, আংটিহারা, গোলখালী, খাশিটানা, মহেশ্বরীপুরের সরদারঘাট, বাগালী ইউনিয়নের হোগলা এলাকা সবচেয়ে ঝুঁকিতে রয়েছে।

কয়রা, উত্তর ও দক্ষিণ বেদকাশী গ্রামের বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা শুশিল মন্ডল, আবদুল জব্বার, নিতাই পাল ও সিরাজুল ইসলাম জানান, বাতাস এবং জোয়ারের পানির চাপ বাড়তে শুরুকরেছে। সে কারণে বেড়িবাঁধ নিয়ে তারা আতংকে রয়েছেন। আইলার মত আবারও লবণ পানিতে ডোবার আশঙ্কা তাদের।

এদিকে দাকোপের বাণিশান্তা, বাজুয়া, কামারখোলা, সুতারখালী, কালাবগী, নলিয়ান, জেলেখালী, জয়নগর ও গুনারী এলাকার বেড়িবাঁধগুলোও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

পাইকগাছা উপজেলার শিবসা পাড়ের গড়ইখালী ইউনিয়নটি গড়ইখালী এলাকা অধিক ঝুঁকিপূর্ন। শিবসার পাড় হওয়ায় এখানে বাঁধ শক্তভাবে রাখা যাচ্ছে না। কোন বরাদ্দ না থাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্মকর্তা স্থানীয় এমপি এবং ইউপি চেয়ারম্যানের নিকট ৪০ দিনের কর্মসুজন প্রকল্পের আওতায় বাঁধে মাটি দেয়ার আবেদন করেছেন। এ প্রকল্পের আওতায় শ্রমিকরা বাঁধে বালির বস্তা ও মাটি দিচ্ছে।

এসব বাঁধের বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড খুলনা-২ এর ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জী বলেন, দাকোপ, কয়রা ও পাইকগাছার অন্তত অর্ধশত পয়েন্টে কাজ চলছে। কিছু কিছু স্থানে পাউবো নিজেরাই মেরামত করছে কিছু স্থানে উপজেলা প্রশাসনের সহায়তা নেওয়া হয়েছে।

এদিকে ভৌগলিক অবস্থানের কারণে কয়রা উপজেলার ৩টি পোল্ডার সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডেও আওতায়। এ বিষয়ে জানতে সাতক্ষীরা পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুল ইসলামের মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

 

০৪ মে, ২০১৯ ২৩:৩৩:৫৪