খুলনায় দেড় মণ ধানে মিলছে ১জন শ্রমিক
মাওলা বকস, খুলনা
অ+ অ-প্রিন্ট
খুলনার তেরখাদা উপজেলার মাঠ জুড়ে এখন পাকা ধানের ছড়াছড়ি। তবে ধান কাটা শ্রমিক সংকটে কৃষকের কপালে ভাজ পড়েছে। কারন ধানের দাম কম আর শ্রমিকের মজুরী বেশি। প্রায় দেড় মণ ধানের দামে মিলছে একজন শ্রমিক। নিরুপায় হয়ে বাড়তি টাকা দিয়েই শ্রমিক লাগিয়ে তারা ধান কাটছেন। ফলে বোরোর বাম্পার ফলন হলেও বাড়তি ব্যয়ের জন্য লোকসানের আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। 

উপজেলার ইখড়ি গ্রামের কৃষক মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমি ৫ বিঘা জমিতে বোরো ধান লাগিয়েছি। ঐ জমিতে ৭শ’ টাকা করে মজুরী দিয়ে ধান কাটিয়েছি। প্রতি বিঘাতে প্রায় ২৫ মণ করে ধান হয়েছে। ৩০ জন শ্রমিকের মজুরি দিতে হয়েছে ২১ হাজার টাকা। ওই ধান  ফড়িয়াদের কাছে বিক্রি করেছি ৫৫০ টাকা মণ দরে। ১২৫ মণ ধানের দাম পেয়েছি ৬৮ হাজার ৭৫০ টাকা। ৫ বিঘা জমি চাষ করে আমার লোকসান গুণতে হয়েছে প্রায় ২০ হাজার টাকা। 

উপজেলার কাটেংগা এলাকার কৃষক কালাম মোল্লা বলেন, এ বছর তিনি ১০ বিঘা জমিতে ইরি, বোরো ধান চাষ করেছেন। শ্রমিক না পাওয়ায় এখনো একচিলতে জমির ধান কেটে ঘরে তুলতে পারেননি। পানতিতা এলাকার কৃষক রুবেল মোল্লা বলেন, ধানের ফলন ভালো তবে দ্বিগুণ টাকা দিয়ে ধান কাটতে হচ্ছে, এই বাড়তি খরচের কারণে কৃষকদের আরো বেশি লোকসানে পড়তে হবে। 

উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকের সাথে কথা বলে জানা গেছে, শ্রমিকের অভাবে বোরো ধান কাটা নিয়ে তারা পড়েছেন বিপাকে। তিন বেলা ভাত খাইয়ে একজন শ্রমিকের মুজরি দিতে হচ্ছে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা। শ্রমিক সংকট তীব্র হওয়ায় এমন মুজরি দিতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষকরা। তেরখাদা উপজেলা এলাকায় বেশি শ্রমিক পাওয়া যায় না তাই যশোর, নড়াইল, মোল্লাহাটসহ বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে শ্রমিক এসে কাজ করছেন। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত একজন শ্রমিককে ৭০০ টাকা দিতে হচ্ছে। যা প্রায় দেড় মণ ধানের মূল্যের সমান।  পাশাপাশি তিন বেলা খাওয়ানো ছাড়াও দিতে হয় পান-সুপারি ও চা-সিগারেট। কোলাপাটগাতী এলাকার কৃষক মিলন মোল্লা বলেন, ‘শ্রমিক রাখতে হলে তিন বেলা খাওয়ানো, পান-সুপারি, আসা-যাওয়ার খরচ ও বিকেলের চায়ের খরচ দিতে হয়। আর ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা মজুরি দেওয়া লাগে। এমনে গিরাস্থী কইরা কি অইব। ধানের দাম ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা মণ। কোনোভাবেই ক্ষেত গিরাস্থীর হিসাব মিলানো যায় না’। 

তেরখাদা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহ নেওয়াজ বলেন, চলতি বোরো মৌসুমে উপজেলায় ৮১২৫ হেক্টর জমিতে ইরি, বোরো ধান চাষ হয়েছে। উপজেলা ৬টি ইউনিয়নে প্রায় ১৫ শতাংশ বোরো ধান কাটা হয়েছে। তবে শ্রমিকের মজুরি বেশি থাকায় কৃষকরা চিন্তিত ।

০১ মে, ২০১৯ ০৯:২৭:০৫