মহাদেবপুরে মহিষবাথান ঘাটে আত্রাই নদীর উপর ব্রিজের অভাবে দুর্ভোগ
মেহেদী হাসান, মহাদেবপুর (নওগাঁ)
অ+ অ-প্রিন্ট
নওগাঁর মহাদেবপুরে মহিষবাথান ঘাটে আত্রাই নদীর উপর একটি ব্রীজের অভাবে শিক্ষার্থীসহ হাজারো মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে। বর্ষা মৌসুমে নদী ভরে গেলে প্রায় এক মাস বিদ্যালয়ের পঠগ্রহণ থেকে বঞ্চিত হয় শতাধিক শিক্ষার্থী। যুগযুগ ধরে এ সমস্যার মুখোমুখি হতে হয় নদীর দুই পাড়ের ছাত্র-ছাত্রীদের। এলাকাবাসীর দীর্ঘ দিনের জোরালো দাবী আত্রাই নদীর উপর এ ঘাটে একটি ব্রীজ নির্মাণের। ব্রীজ নাথাকায় ব্যবসা-বাণিজ্যসহ প্রতিনিয়ত যাতায়াতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে স্থানীয়দের। ব্রীজ না থাকায় কৃষকেরা তাঁদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারজতকরণে বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন। আত্রাই নদীর উপর ব্রীজ না থাকায় কয়েক মিনিটের পথ দীর্ঘ কয়েক মাইল ঘুরে যাতায়াত করতে হচ্ছে নদীর দুইপারের বাসিন্দাদের । বর্ষাকালে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ছোট নৌকায় এবং বছরের অন্যান্য সময় বাঁশের সাঁকোয় চলাচল করতে হয় শিক্ষার্থীসহ এলাকাবাসীকে। 

সরেজমিনে গিয়ে এলাকাবাসী সূত্রে জানাগেছে, আত্রাই নদীর পশ্চিম পারে এলাকার সুনামধন্য মহিষবাথান হাট রয়েছে। সপ্তাহে দুই দিন হাটে বেচাকেনা হলেও প্রতিদিনই বসে নিত্য পন্যের বাজার। এ বাজারের পাশের্^ই ধান-চাল সংরক্ষণের জন্য রয়েছে সরকারি খাদ্য গুদাম, সোনালী ব্যাংক, মহিষবাধান উচ্চ বিদ্যালয়, সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, কিন্ডারগার্টেন স্কুলসহ বেশ কয়েকটি এনজিও অফিস । নদীর পূর্বপাড়ে রয়েছে নওগাঁ-মহাদেবপুর টু জয়পুরহাট আন্তজেলা মহাসড়ক। হোসেনপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, রোদইল বি এম কলেজ ও ভোকেশনাল শাখা, এনায়েতপুর ফাজিল মাদ্রাসা ও সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, কিন্ডারগার্টেন স্কুল, মিশন স্কুলসহ নানা সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান । বর্ষা মৌসুমে প্রবল ¯্রােত ও পানির প্রবাহ বেশি থাকায় এখানকার অভিভাবকরা ঝুঁকি নিয়ে তাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠানোর সাহস পান না। ফলে প্রতিবছর বর্ষাকালে প্রায় ১ মাস এনায়েতপুর ইউনিয়নের রোদইল, হোসেনপুর, কালনা, শেরপুরসহ ৬টি গ্রামের শতাধিক ছাত্র-ছাত্রী স্কুল যেতে পারে না। এতে প্রায় ১ মাস তাদের লেখাপড়া ক্ষতি হয়।

মহিষবাথান উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণীর ছাত্র ফরিদুল ইসলাম ও সাগর দেবনাথ, ৮ম শ্রেণীর ছাত্রী আইরিন, ৭ম শ্রেণীর ছাত্রী জুঁই, রোকসানা ও আন্নি খাতুন জানান, বর্ষা মৌসুমে নদী ভরে গেলে নদীর পারাপার দূরত্ব বেড়ে যায়। সঠিক সময়ে নৌকা পাওয়া যায় না। ঘাটে নৌকার জন্য বসে থেকে দু-একটি ক্লাস পার হয়ে যায়। বর্ষার সময় ১ মাস আমরা স্কুলে যেতে পারি না। শিক্ষার্থীরা আরো জানান, আমরা নিয়মিত স্কুলে যেতে চাই। লেখাপড়া শিখে মানুষ হতে চাই। আমাদের ভবিষ্যতের দিকে দেখে সরকার যেন দ্রুত সময়ে এখানে একটি ব্রীজ নির্মাণ করে । মহিষবাথান উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তপন কুমার জানান, মহিষবাথান ঘাটে ব্রীজ নির্মাণ খুবই জরুরী। এখানে ব্রীজ নির্মাণ এলাকাবাসীর প্রাণের দাবি। বর্ষা মৌসুম এলেই স্কুলের পাঠদান ব্যাহত হয়। নদীর ভরা মৌসুমে পূর্বপারের শাতাধিক ছেলে-মেয়ে স্কুলে আসতে পারে না। আত্রায় নদীর পশ্চিম পারের হাতুড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এনামুল হক জানান, দীর্ঘদিন ধরে ওই স্থানে একটি ব্রীজ নির্মাণের দাবি করে আসছে এ ইউনিয়নবাসী । বিভিন্ন সরকারের সময় জনপ্রতিনিধিদের কাছে একাধিকবার এ দাবি তোলা হলেও তা এখন পর্যন্ত বাস্তবায়ন হয়নি। নদীর পূর্বÑপারের এনায়েতপুর ইউপি চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান মিঞা জানান, বর্ষা মৌসুমে নদীর পূর্ব¬পারের ছাত্র-ছাত্রীরা স্কুলে যেতে পারে না এটা আমাদের জন্য একটি জটিল সমস্যা। তাছাড়া এলাকার কৃষিপণ্য নিয়ে ঘাট পারাপারে এলাকাবাসীকে নানা দূর্ভোগ পোহাতে হয়। উপজেলার মহিষবাধান ঘাটে আত্রাই নদীর উপর একটি ব্রীজ নির্মণের দীর্ঘদিনের দাবী হলেও  এখন পর্যন্ত  তা নির্মাণ হয়নি। এ বিষয়ে এলজিইডি’র উপজেলা প্রকৌশলী সুমন মাহমুদ জানান, উপজেলার মহিষবাথান ঘাটে ব্রীজ নির্মাণের কাজটি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে । 

 

এ বিষয়ে মহাদেবপুর ও বদলগাছী আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ ছলিম উদ্দীন তরফদার সেলিম বলেন, উপজেলার মহিষবাথান ঘাটে আত্রাই নদীর উপর একটি ব্রীজের অভাবে শিক্ষার্থীসহ হাজারো মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি মাথায় রেখে দ্রুত সময়ে ব্রীজটি নির্মানের জন্য কাজ করছি। আগামী অর্থবছরে এই ব্রীজটি নির্মাণের ট্রেন্ডার প্রক্রিয়ার কাজ শেষ হবে বলে আমি আশাবাদি।

২০ মার্চ, ২০১৯ ০৬:৪২:০২