কেশবপুরে মাদ্রাসা অধ্যক্ষকে দিগম্বর করে নির্যাতন : আটক ১
জাহিদ আবেদীন বাবু, কেশবপুর (যশোর)
অ+ অ-প্রিন্ট
যশোরের কেশবপুর উপজেলার ত্রিমোহিনী দারুল ইসলাম ফাযিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল গফুর(৫৫) কে ঘরের মধ্যে আটকিয়ে হাত-পা চোখ মুখ বেধে সম্পূর্ন দিগম্বর করে মারপিট করার অভিযোগ তুলে তার স্ত্রী ফাতেমা খাতুন ১৬ মার্চ কেশবপুর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন। তবে শিক্ষক নিয়োগকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেছে বলে অপর একটি সুত্র জানায় । তিনি  সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করেন মাদ্রাসায় শিক্ষক নিয়োগের যথাযথ প্রক্রিয়া সম্পন্ন শেষে গত ১৯/০১/১৭ তারিখে নিয়োগকৃত শিক্ষকরা যোগদান করেন। ওই নিয়োগের ঘটনায় চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান সাত লাখ টাকা চাঁদা দাবী করে আসছেন। ওই টাকা না দেয়ায় ইউপি চেয়ারম্যান ও তার বাহিনীরা মধ্য যুগিয় কায়দায় নির্যাতন করে। এ ঘটনায় কেশবপুর থানায় ওই ইউপি চেয়ারম্যানসহ  ৪ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়। মামলার এক আসামী ত্রিমোহিনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কেরানী সামছুর রহমান (৪০) কে পুলিশ আটক করেছে। ইউপি চেয়ারম্যানসহ তার বাহিনীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে এ সংবাদ সম্মেলন বলে জানান তার স্ত্রী ফাতেমা খাতুন। মাদ্রাসায় শিক্ষক নিয়োগের পর থেকে ত্রিমোহিনী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান, সিরাজুল ইসলাম, মুজিবুর রহমান, সামছুর রহমান, মেম্বার আবুল কাশেম মোড়লগং বিভিন্ন সময়ে নিয়োগের কারণে ৭ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলো। ওই টাকা না দেয়ার কারণে গত ২৪/০২/১৯ তারিখে অধ্যক্ষকে ইউপি চেয়ারম্যান লাঞ্ছিত করাসহ নিয়োগকৃত শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানের সভাপতি আব্দুল কাদির বিশ্বাসকে মারপিট করে। এ ঘটনার পর থেকে অধ্যক্ষ ওই চেয়ারম্যানের ভয়ে পালিয়ে পালিয়ে মাদ্রাসায় যাতায়াত করে আসছিলেন। গত ১২/০৩/১৯ তারিখ সকাল ৯ টার দিকে মাদ্রাসায় যাওয়ার পথে মির্জানগর হাম্মামখানার সামনে পৌঁছালে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল গফুরকে রাস্তার উপর থেকে ধরে নিয়ে এলাকার তজিবর রহমানের বাড়ির রান্না ঘরের মধ্যে আটকিয়ে হাত-পা দঁড়ি দিয়ে ও গামছা দিয়ে চোখ মুখ বেঁধে মধ্যযুগীয় ভাবে নির্যাতন করে। এরপর গুরুতর আহতাবস্থায় ফেলে রেখে বাধন খুলে দিয়ে চেয়ারম্যান সহ সকলে চলে যায়। এরপর আহত অধ্যক্ষ এলাকাবাসির সহায়তায় কেশবপুর হাসপাতালে ভর্তি হন। এ ঘটনায় ১৪ মার্চ থানায় দোষীদের নাম উল্লেখ করে মামলা করা হয়। যার নম্বর- ১৩।

এ হামলা ও চাঁদা দাবির মামলা ভিন্নখাতে নেয়ার জন্য ওই চেয়ারম্যান নানা ভাবে ষড়যন্ত্র করে চলেছে। এদিকে ইউপি চেয়ারম্যানের নামে মামলা হলেও তিনি আটক হননি। যে করণে ওই চেয়ারম্যান বিভিন্ন ভাবে হুমকী দিয়ে চলেছেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন ¯œরনকালের ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল গফুরের স্ত্রী আলহাজ্জ ফাতেমা খাতুন । 

এদিকে মাদ্রাসার শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীরা জানায়, উপজেলার ত্রিমোহিনী ফাজিল মাদ্রসার সুপার আব্দুল গফুর দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়মের মধ্যে মাদ্রাসা পরিচালনা করে আসছেন। তিনি গত ২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর তার বাড়িতে অবৈধভাবে বোর্ড বসিয়ে ৪ জন শিক্ষককে নিয়োগ প্রদান করেন। তারা হলেন, মনিরামপুর উপজেলার চালকিডাঙ্গা গ্রামের মহিবুল্লাহ (ইংরেজী), দেয়াড়া গ্রামের ইকবাল হোসেন (ইবতেদায়ী জুনিয়র শিক্ষক), মাদ্রাসার বর্তমান সভাপতি আব্দুল কাদেরের ছেলে হাসান বায়জিদ সুইট (সামাজিক বিজ্ঞান) ও কেশবপুর উপজেলার শান্তলা গ্রামের মফিজুর রহমান (কৃষি শিক্ষা)। তাদের নিকট থেকে সুপার প্রায় ৫০ লাখ টাকা ঘুষ নিয়ে নিয়োগ দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি দীর্ঘ প্রায় তিন বছর পর ওই ৪ জন শিক্ষক মাদ্রাসায় যোগদান করেন। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এঘটনাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার সকালে এলাকাবাসীরা ক্ষিপ্ত হয়ে মাদ্রাসায় যাওয়া পথে সুপার আব্দুর গফুরকে মারপিট করেছে। 

হাসপাতালে আহত সুপার আব্দুল গফুর জানান, ৪ শিক্ষককে নিয়োগ দেয়াকে কেন্দ্র করে এলাকার চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান আমার কাছে গত ১০ দিন ধরে ৭ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছে। চেয়ারম্যানের দাবিকৃত টাকা না দেয়ায় চেয়ারম্যান ও তার তিন সহযোগী মজিবুর, সামছুর ও সিরাজ মাদ্রাসায় যাওয়ার পথে আমার গতিরোধ করে মির্জানগর এলাকায় একটি বাড়িতে নিয়ে নগ্ন করে, হাত, পা, মুখ ও চোখ বেধে নির্মমভাবে মারপিট করেছে। এঘটনায় তিনি উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে মৌখিকভাবে জানিয়েছেন। 

এব্যাপারে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান আনিস বলেন, ৪ শিক্ষকের নিয়োকে কেন্দ্র করে মাদ্রাসার অন্য শিক্ষকরা আমার কাছে অভিযোগ করলে আমি উভয় পক্ষ নিয়ে বসার জন্য সুপারকে জানিয়েছিলাম। মারপিটের সময় আমি সেখানে ছিলামও না। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে তা একেবারেই বানোয়াট। কেশবপুর থানার ওসি মোহাম্মদ শাহীন বলেন, এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। যার নম্বর- ১৩।

মামলার এক আসামী ত্রিমোহিনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কেরানী সামছুর রহমান (৪০) কে পুলিশ আটক করেছে। তবে সুপারের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। 

 

১৮ মার্চ, ২০১৯ ২৩:৫৩:১২