গ্রিল কেটে ঘুমন্ত শিশুকে নিয়ে গেল দুর্বৃত্তরা
বাগেরহাট প্রতিনিধি
অ+ অ-প্রিন্ট
আড়াই মাস বয়সের শিশু। তাও অসুস্থ। গভীর রাতে ওষুধ খাওয়ানোর পর সন্তানকে নিয়ে শুয়ে পড়েন বাবা-মা। মায়ের দুধ পান করতে করতে ঘুমিয়ে পড়ে শিশু আবদুল্লাহও। একপর্যায়ে ঘুমিয়ে পড়েন বাবা-মাও। ঘণ্টাখানেক পরে হঠাৎ ঘুম ভাঙে বাবার। দেখেন- প্রিয় সন্তান বিছানায় নেই। স্ত্রীকে ডাকেন। দুজনই এপাশ-ওপাশ খোঁজেন। এক সময় তারা দেখেন- জানালা খোলা, গ্রিল কাটা। পাশে রাখা মোবাইলটিও নেই। একপর্যায়ে বাড়ির অন্য মোবাইল ফোনে কল আসে- ‘ছেলেকে জীবিত পেতে চাইলে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ লাগবে।’

আবদুল্লাহর বাবা দলিল লেখক সোহাগ হাওলাদার বলেন, রবিবার রাত ৩টার দিকে অসুস্থ ছেলেকে (আবদুল্লাহ) ওষুধ খাওয়াই। এর পর আমাদের অপর সন্তান সুমাইয়া ও আবদুল্লাহকে নিয়ে আমরা ঘুমিয়ে পড়ি। রাত সাড়ে ৪টায় জেগে দেখি বিছানায় ছেলে নেই। আমার মোবাইল ফোনটিও নেই। বিছানা থেকে উঠে দেখি- জানালা খোলা, গ্রিল কাটা, দরজাও খোলা। ওঠার চেষ্টা করে দেখি ঘরের অন্যান্য কক্ষের সব দরজা বাইর থেকে আটকানো। সোহাগ হাওলাদারের বাড়ি বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ সদর ইউনিয়নের বিশারীঘাটা এলাকায়।

তিনি জানান, আবদুল্লাহর মুক্তির জন্য মোবাইল ফোনে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ চেয়েছে অপহরণকারীরা।

আবদুল্লাহর মা রেশমা বেগম বলেন, ‘ওষুধ খাওয়ানোর পর আবদুল্লাহকে বুকের দুধ খাওয়াতে খাওয়াতে আমরা ঘুমিয়ে পড়ি। ও আমার কোলের মধ্যেই ছিল। ওরা কীভাবে ছেলেকে নিয়ে গেছে, তা টেরই পাইনি। আমার সোনার মানিকরে আমার বুকে আইনা দেন...।’ বুক ফাটা আর্তনাদ সন্তান হারানো মায়ের।

এ বিষয়ে মোরেলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কেএম আজিজুল ইসলাম বলেন, ঘটনার পর থেকে পুলিশের কয়েকটি টিম কাজ শুরু করেছে। কারা ঘটনা ঘটিয়েছে, তা এ মুহূর্তে স্পষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। তবে শিশুটিকে উদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

১২ মার্চ, ২০১৯ ০৯:২৬:৪১