রাজশাহীতে মৌসুমের প্রথমেই শীলাবৃষ্টি, আমের মুকুলের ব্যাপক ক্ষতি
রাজশাহী প্রতিনিধি
অ+ অ-প্রিন্ট


রাজশাহীতে মৌসুমের প্রথম বৃষ্টি শীলাবৃষ্টি দিয়ে শুরু হয়েছে। গতকাল রবিবার ভোর ৪টা ৪০ মিনিট থেকে ৫টা ১৮ মিনিট পর্যন্ত এই শিলাবৃষ্টি স্থায়ী ছিল। এসময় বজ্রপাতও হয়েছে। কোনো কোনো স্থানে শিলাবৃষ্টির কারণে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পাশাপাশি আমের মুকুলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আবার কোথাও বৃষ্টিতে ফসলের কিছুটা ভালো হয়েছে।

এই ৩৮ মিনিটে রাজশাহী মহানগরে ১৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অফিস। বৃষ্টি শুরুর পর থেকেই পুরো মহানগর এলাকার বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। যা স্বাভাবিক হতে সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত সময় লাগে। ভোরে শিলাবৃষ্টির পর বিদ্যুৎহীন মহানগরে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

শিলাবৃষ্টির আঘাতে রাজশাহীর গোদাগাড়ী, তানোর, পবা, পুঠিয়া, চারঘাট ও বাঘা উপজেলায় আমের মুকুলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। গাছ থেকে বিপুল পরিমানে আমের মুকুল ঝরে পড়েছে। তবে আমের মুকুলের ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা না গেলেও এই ক্ষতি পুষিয়ে ওঠা সম্ভব নয় বলে দাবি করেছেন স্থানীয় আম চাষি ও ব্যবসায়ীরা। এছাড়াও ধান, ভুট্টা, পেঁয়াজ, সরিশাসহ অন্যন্য ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে কৃষকরা জানিয়েছেন।

রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার ভায়ালক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের রায়পুর এলাকার আম ব্যবসায়ী শামসুল হক জানান, আজকের শিলাবৃষ্টির আঘাতে আমের মুকুল ঝরে পড়ায় চরম লোকসান গুণতে হবে তাদের। আম গাছে মুকুল যে পরিমাণ এসেছিল, তাতে অন্যান্য বছরের লোকসান অনেকটা পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হতো। কিন্তু আজকের শিলাবৃষ্টিতে তাদের অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে।

পুঠিয়া উপজেলার জিউপাড়া ইউনিয়নের সৈয়দপুর, বারপাখিয়া, বাসুদেবপুর, ধোপাপাড়াসহ বিভিন্ন গ্রামে কৃষকের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে । ক্ষতির পরিমাণ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে সবুজ নামের এক কৃষক জানান। এসময় কৃষকরা সরকারের সহযোগীতা কামনা করেন।

রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের জ্যেষ্ঠ পর্যবেক্ষক নজরুল ইসলাম জানান, ভোর ৪টা ৪০ মিনিট থেকে ৫টা ১৮ মিনিট পর্যন্ত এই শিলাবৃষ্টি স্থায়ী ছিল। এসময় বজ্রপাতও হয়েছে। তবে বৃষ্টির সময় ঝড়ো হাওয়া ছিল না। ভোরের এই ৩৮ মিনিটে রাজশাহীতে ১৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আকাশে এখনও মেঘ রয়েছে। তাই আবারও বৃষ্টি হতে পারে বলেও জানান আবহাওয়া অফিসের এই কর্মকর্তা।


১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ১৯:০৯:০৫