খুলনায় নদী তীরের অবৈধ দখলদারদের তালিকা তৈরি শুরু
মাওলা বক্স, খুলনা
অ+ অ-প্রিন্ট
সোমবার থেকে শুরু হয়েছে খুলনা মহানগরী ও সংলগ্ন উপজেলা এলাকার অবৈধ দখলদারদের তালিকা তৈরির কাজ । জেলা প্রশাসন, খুলনা সিটি কর্পোরেশন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড যৌথভাবে এ তালিকা তৈরির কাজ করবে। এজন্য সম্প্রতি খুলনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(রাজস্ব) সারোয়ার আহমেদ সালেহীনকে সভাপতি ও কেসিসির সম্পত্তি কর্মকর্তা মো: নূরুজ্জামান তালুকদারকে সদস্য সচিব করে কারিগরি কমিটি গঠন করা হয়েছে। রূপসা ও ভৈরব তীরের বেশকিছু এলাকা জুড়ে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ(বিআইডব্লিউটিএ) পিলার দিয়ে তীর ভূমি এলাকা চিহ্নিত করেছে। 

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন বলেন, কারিগরি কমিটি রিপোর্ট চূড়ান্ত করলেই অবৈধ তালিকা প্রকাশ করা হবে।

এদিকে, বিআইডব্লিউটিএ পিলার দিয়ে যে সীমানা চিহ্নিত করেছে সেগুলো তীরভূমি হলে শহরের অধিকাংশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানই অবৈধ তালিকার আওতায় আসবে এমন আশংকাও করছেন অনেকে। অবশ্য অবৈধ তালিকা করার পর সেগুলো উচ্ছেদ করা হবে কি না সেটি এখনও নিশ্চিত নয়। এ প্রসঙ্গে বিআইডব্লিউটিএ খুলনার উপ-পরিচালক মো: মাসুদ পারভেজ বলেন, সর্বমোট ২৫টি মৌজার মধ্যে প্রাথমিকভাবে হেলাতলা, বানিয়াখামার, টুটপাড়া ও লবণচরা এ চারটি মৌজার যৌথ জরিপ কাজ শেষে সীমানা পিলার স্থাপন করা হয়েছে। পিলার থেকে নদী পর্যন্ত যত স্থাপনা রয়েছে সেগুলোর তালিকা আজ সোমবার থেকে শুরু হবে। বাকী ২১টি মৌজায়ও যৌথ জরিপের মাধ্যমে প্রথমে সীমানা পিলার স্থাপন ও পরে অবৈধ দখলদারদের তালিকা প্রস্তুত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কারিগরি কমিটির সভাপতি ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(রাজস্ব) সারোয়ার আহমেদ সালেহীন বলেন, পূর্বের যে তালিকাটি ছিল সেটি ধরে নিয়েই নতুন করে তালিকা তৈরির কাজ শুরু হচ্ছে। আগে সীমানা চিহ্নিতকরণের কাজ শেষ হয়েছে। এখন থেকে অবৈধ স্থাপনার তালিকা করা হবে।

জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ের অপর একটি সূত্র জানায়, গত ৬ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত খুলনা মহানগরী ও তদসংলগ্ন এলাকার পানি নিষ্কাশনের সাথে জড়িত ভূমি, নদী ও খালসমূহের সীমানা নির্ধারণ, যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও অবৈধ দখলমুক্তসহ পানি চলাচল নিশ্চিতকরণের জন্য কারিগরি কমিটির সভায় চারটি মনিটরিং কমিটি গঠন করা হয়। এ কমিটি বিভিন্ন দপ্তরের স্ব স্ব উপ-সহকারী প্রকৌশলী/সার্ভেয়ার/প্রতিনিধির সমন্বয়ে নিয়মিত সরেজমিনে তদন্ত করে সিএস, এসএ ও আরএস রেকর্ড অনুযায়ী নদী/খাল/পার্শ¦বর্তী ভূমির সীমানা নির্ধারণপূর্বক স্কেচম্যাপসহ প্রতিবেদন প্রস্তুত করবে বলেও সভায় সিদ্ধান্ত হয়। একইসাথে নদীর অবৈধ দখল, অবৈধ দখলদারদের তালিকা প্রণয়ন, দখল প্রতিরোধ, অবৈধ অবকাঠামো নির্মাণ ও নানাবিধ অনিয়মের বিষয়ে সীমানা চিহ্নিতকরণ পূর্বক তথ্য সংগ্রহ করে ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করবে বলেও সভায় সিদ্ধান্ত হয়।

 

১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ১০:১৩:২৪