কেশবপুরের সাগরদাঁড়িতে আজ থেকে বসছে সপ্তাহব্যাপী মধুমেলা
জাহিদ আবেদীন বাবু, কেশবপুর (যশোর)
অ+ অ-প্রিন্ট
অমিত্রাক্ষর ছন্দের জনক মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের ১৯৫ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে কবির জন্মভ’মি কেশবপুর উপজেলা সাগরদাঁড়িতে আজ থেকে বসছে সপ্তাহব্যাপী মধুমেলা। সংস্কৃত বিষযক মন্ত্রনালয়ের পৃষ্টপোষকতায় ও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মেলা উদযাপনে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। মেলাকে ঘিরে সাজ সাজ রব চলছে গোটা সাগরদাঁড়িতে। মেলার শুভ উদ্বোধন করবেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য বলে জানিয়েছেন মেলা উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজানুর  রহমান। 

যশোরের কেশবপুর উপজেলা সদর থেকে ১৩ কিলিােমটিার দক্ষিণে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জমিদার রাজনারায়ণ দত্ত ও মাতা জাহ্ণবী  দেবীর সংসারে ১৮২৪ সালে জন্মগ্রহণ করেন অমিত্রাক্ষর ছন্দের জনক মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত। নিজ গ্রামে মধু কবির শৈশব কাটে। উচ্চ শিক্ষা লাভের জন্য তিনি ১৮৩০ সালে সাগরদাঁড়ি ছেড়ে কলকাতার খিদিরপুরে চলে যান   মাইকেল মধুসূদন দত্ত। লেখাপড়া করাকালিন ফ্রান্সের সুদুর ভার্সাই নগরীতে বসে তিনি রচনা করেন চতুদশপদী কবিতা সনেট। লেখাপড়ার টানে তিনি বিদেশে থাকলেও তার নিজ গ্রাম জন্মভুমি সাগরদাঁড়ি আর পাশ দিয়ে বহমান কপোতাক্ষ নদকে। তার সাহিত্য কর্ম আর শোত্ববোধ চির জাগরুক রয়েছে মধু পরিমন্ডলে। ১৮৭৩ সালের ২৯ জুন কলকাতার এক হাসপাতালে মাত্র ৪৯ বছর বয়সে মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। প্রতিবছর ২৫ জানুয়ারী সংস্কৃত মন্ত্রণালয় সপ্তাহব্যাপী মধু মেলার আয়োজন করে থাকে। এবার এস এসসি পরীক্ষার কারণে এ মেলা এগিয়ে নিয়ে ২২ জানুয়ারী থেকে শুরু হচ্ছে, চলবে ২৮ জানুয়ারী পর্যন্ত বলে জানান মেলা উদযাপন কমিটি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ি ২০০১ সালে ১১ কোটি টাকা ব্যায়ে বাস্তবায়ন করা হয় মধুপল্লী নির্মাণ কাজ। সাগরদাঁড়ি মধুসূদন মিউজিয়াম, পিনিক কর্ণার, মধু মঞ্চ, সুদৃশ্য গেট নির্মিত হয়। এ ছাড়ারয়েছে পর্যটন কেšদ্র । প্রতিবছর শীতের শুরু থেকে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠাণ থেকে শিক্ষা ভ্রমন ও পিকনিক পাটিরও আগমন ঘটে থাকে সাগরদাঁড়িতে। দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের সর্ববৃহৎ মেলায় রুপ নেয় মধু মেলা। কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শাহিন জানান, মেলার মাঠ নিরাপত্তা চাদরে মোড়া হবে। 

মেলা উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজানূর রহমান সাংবাদিকদের জানান, মেলায় মধু ভক্তদের নিরাপত্তা বিধানে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। সার্কাস, যাদু প্রদর্শনী, মৃত্যুক’প, নাগরদোলা, বিসিকের কুঠির শিল্প স্টল,সার্কাস পুতুল নাচেসহ প্রতিদিন উন্মুক্ত মঞ্চে থাকছে মহাকবির সাহিত্য সৃষ্টির উপর বিষয় ভিত্তিক আলোচনা, সাং®কৃতিক অনুষ্ঠান নাটক। এবারের মধু মেলা অশ্লিলতামুক্ত থাকবে। একটি স্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি ডিবি ও র‌্যাব সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। 

 

 

 

 

 

২২ জানুয়ারি, ২০১৯ ০৭:২৬:০৩