শেখ আবু নাসের হাসপাতালে সেবায় করুণ দশা!
মাওলা বকস, খুলনা
অ+ অ-প্রিন্ট
 

প্রায় সারা বছরই এনজিওগ্রাম মেশিনটি নষ্ট থাকে। একবার নষ্ট হলে সিস্টেম জটিলতায় তা মেরামত করতে দীর্ঘসময় পেরিয়ে যায়। এখানে পেসমেকার বসানো হয় তা অনেকেই জানেন না। রিং পরানোর খরচ বেসরকারি হাসপাতালের মতোই, তাই রিং পরাতে ইচ্ছুক রোগীদের যেতে হয় ঢাকায়। ফলে হৃদরোগ চিকিৎসায় দেশের অন্যতম সেরা এই প্রতিষ্ঠানটিতে করুণ অবস্থা বিরাজ করছে। অথচ বিশেষজ্ঞরা বলেছেন কর্তৃপক্ষের একটু আন্তরিকতাই সব সমস্যার সমাধান করতে পারে।

সরেজমিন নগরীর শহীদ শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালে হৃদরোগ বিভাগ ঘুরে দেখা যায়, ওয়ার্ডটিতে ৩০টি বেড রয়েছে। হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীদের সিরিয়ালের ভিত্তিতে এখানে ভর্তি করা হয়। অন্ত ৬ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকসহ পর্যাপ্ত চিকিৎসক রয়েছে এই ওয়ার্ডে। অথচ এই রোগীদের ইসিজি, ইকো, এনজিওগ্রাম, পেসমেকার, রিং পরানো ও বাইপাস সার্জারি হৃদরোগের গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা। তবে শুধুমাত্র বাইপাস সার্জারি বাদে খাতা কলমে আর সবই হয় এখানে। কিন্তু ইসিজি এবং ইকো ছাড়া অন্য সেবাগুলো সময় সময় বন্ধ থাকছে। বন্ধ রয়েছে এনজিওগ্রাম মেশিনটি। গত দুই বছরের মধ্যে হাতে গোনা কয়েক সপ্তাহ চালু ছিল এ মেশিনটি। সর্বশেষ ছয় মাসের অধিক সময় ধরে বন্ধ রয়েছে। এই হাসপাতালে এনজিওগ্রাম করতে সাড়ে তিন হাজার টাকা ফি নির্ধারণ থাকলেও, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে করতে প্রায় ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ উর্ধ্বতন মহলে একাধিকবার চিঠি দিয়ে যোগাযোগ করলেও মেশিনটি মেরামত হয়নি। তবে নতুন আরও একটি মেশিন প্রতিস্থাপন প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

সূত্র জানায়, এনজওিগ্রামের পর হার্টে ব্লক ধরা পরলে প্রয়োজন হয় রিং পরানো অথবা বাইপাস সার্জারি। সরকারি হাসপাতাল হলেও রিং এর কোন সাপ্লাই  নেই। রোগীদের নিজ খরচে ঢাকা থেকে একটি রিং আনতে খরচ হয় ২৫ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৪৫ হাজার টাকায়। যা বেসরকারি হাসপাতাল কিম্বা ক্লিনিকের  খরচের মতো। তাই গত ছয় মাসে মাত্র ২০ জন রোগীকে হার্টে রিং পরাতে পেরেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

শহীদ শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালের পরিচালক বিধান চন্দ্র গোস্বামী  বলেন,  এখানে কার্ডিওলোজি বিভাগ দেশের মধ্যে অন্যতম আধুনিক ওর্য়াড। এনজিওগ্রামে প্রচুর চাহিদা রয়েছে। প্রতি সোম ও বুধবার তিনটি করে এনজিও গ্রাম করার কারণে রোগীদের জট লেগে থাকে। প্রতিটি রোগীর সিরিয়াল দেয়ার পর এনজিওগ্রাম করতে প্রায় দুই মাস অপেক্ষা করতে হয়। তবে এনজিওগ্রাম মেশিনটি বর্তমানে নষ্ট  থাকায় রোগীরা সেবা পাচ্ছে না বলে জানান ওই কর্মকর্তা। 

রিং পরানোর কম হওয়ার বিষয়টি সর্ম্পকে হাসপাতালরে পরিচালক বলেন, সরকারি পর্যায়ে রিং সাপ্লাই না থাকায় বাইরে থেকে রোগীদের কিনতে হয়। অন্যদিকে খুলনায় রিং কেনার সুযোগ না থাকায় বেশিরভাগ রোগীরা ঢাকা থেকে সেবা নিচ্ছেন। এছাড়া পেসমেকারসহ হার্টের বিভিন্ন চিকিৎসা সেবা এই হাসপাতাল থেকে সাধারণ মানুষ পাচ্ছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

২২ জানুয়ারি, ২০১৯ ০৭:২৩:৩১