খুলনায় অষ্ট্রেলিয়ার জাতীয় পাখী ‘ইমু’ পালন : এনে দিতে পারে সাফল্য
মাওলা বকস, খুলনা
অ+ অ-প্রিন্ট
খুলনার  বটিয়াঘাটা উপজেলা সদরের এক পোল্ট্রি ফার্মে শুরু হয়েছে অষ্ট্রেলিয়ার জাতীয় পাখী ‘ইমু’র পালন। সফলতা ফিরে পেলে এ পাখীর পালন পৌঁছে যাবে এ জনপদের ঘরে ঘরে । ব্যয় বহুল মনে হলেও এটি একটি লাভজনক ব্যবসা। এ পাখীর জীবনী শক্তি খুব বেশী হওয়ার কারনে মৃত্যুহার খুবই কম। মাংস খুবই সুস্বাধু এবং পূর্ণ বয়সী একটি ইমুর ওজন হয় ৫০ থেকে ৬০ কেজি। ফিসমিল, ভুট্রা, ঘাস, লতাপাতা খেয়েই ওরা বেঁচে থাকে। একটি মা ইমু ১৮-২০ মাসের মধ্যেই ডিম পাড়া শুরু করে।

বটিয়াঘাটা উপজেলা চেয়ারম্যান  আশরাফুল আলম খান তার অন্যান্য ব্যবসার পাশাপাশি ইমু পাখী পালন শুরু করেন। বছর খানেক আগে তিনি ইমু পাখী তার পোল্ট্রি ফার্মে নিয়ে আসেন। এক সপ্তাহ বয়সের দুশ’ বাচ্চা নিয়ে তার ইমু পালনের যাত্রা শুরু হয়। শুরুতে একটি কক্ষের মধ্যে রাখা হলেও এখন তারা খোলা মাঠে নির্দিষ্ট বেষ্টনির মধ্যে ছাড়া থাকে। বর্কমানে প্রতিটি ইমুর ওজন  ৩০-৩৫ কেজি। ৩০ থেকে ৩৫ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকে তারা। রোদ বৃষ্টি ঝড়ে সহনশীল এ পাখির রোগ প্রতিরোধ ক্ষমাতাও অনেক বেশী। এক সপ্তাহ বয়সের দুশ’ বাচ্চা এ ফার্মে আনা হলেও ছোট বয়সে মাত্র ৭/৮টি মারা যায়। 

ফার্মে দু’টি উট পাখীও রয়েছে। ইমুদের সাথে ১২টি উট পাখীর বাচ্চা পরীক্ষামূলক ভাবে আনা হয়। তাদের মধ্যে দশটিই মারা গেছে। যে কারণে খামারীরা উট পাখী পালনে প্রতি বিশ্বাসী নয়। খোলা মাঠে বালি ভরাট করে তার উপর পালন করা চলছে ইম পাখি। মাঠের পশ্চিম প্রান্তে ছাউনি তৈরী করে রাখা হয়েছে। অতিরিক্ত রোদ এবং গরম পড়লে ওরা  ছাউনির ছায়ায় যেয়ে বিশ্রাম নেয়। ইমুদের মধ্যে হিং¯্রতা দেখা যায় না। তাই নিজেদের মধ্যে মারামারিও হয় না। নির্দিষ্ট স্থানে পাত্র বসিয়ে সেখানে খাবার দেয়া হয়। পাশেই থাকে পানি ওরা খাবার খেয়ে তা পান করে। এ ছাড়া মাঠে এক পান্তে রয়েছে ছোট অগভির পানির পুকুর। তাতে নেমে তারা ¯œান সেরে নেয়।

প্রতিদিন শতশত দর্শনার্থী ইমুপাখী দেখার জন্য রাস্তার পাশে ভিড় জমায়। এক 

লম্বা গলা উঁচু করে দাঁড়ালে তার কাছে যেতে খুব কম লোকই সাহস পায়।

ফার্মের প্রতিষ্ঠাতা আশরাফুল আলম খান বলেন, ইমু’র মাংসে চর্বি না থাকায় এর প্রতি মানুষে চাহিদা থাকবে বেশী। 

 তিনি বলেন, আগামী চার পাঁচ বছরের মধ্যেই ইমু পাখীর  পালনের চাহিদা ঘরে ঘরে পৌঁছে যাবে। টার্কি চাষে ঝুঁকি থাকলেও ইমু চাষে তেমন কোন ঝুঁকি নেই। প্রথম বারে মা ইমু ১৪/১৫টি ডিম পাড়ে। পরবর্তী বছর  ৩০/৩৫ পিচ ডিম দেয়। প্রতি জোড়া ইমুর বাচ্চা ক্রয় মূল্য পড়ে ১৫ হাজার টাকা। আর উট পাখীর বাচ্চার ক্রয় মূল ছিল প্রতি জোড়া চল্লিশ হাজার টাকা। একটি দেশী আমদানী-রফতানীকার প্রতিষ্ঠানের নিকট থেকে বাচ্চা সংগ্রহ করা হয়।  

১৭ জানুয়ারি, ২০১৯ ২৩:৪৯:৩০