কেশবপুরের মঙ্গলকোট পাঁচপোতা সড়কটি ধসে ঘেরে বিলীন
জাহিদ আবেদীন বাবু, কেশবপুর (যশোর)
অ+ অ-প্রিন্ট
যশোরের কেশবপুর উপজেলার মঙ্গলকোট বাজার থেকে পাঁচপোতা গ্রাম পর্যন্ত ইটের সোলিং রাস্তাটির দুই পাশে মাছের ঘের। এই ঘেরেই রান্তার অধিকাংশ স্থান ধসে গেছে। তাছাড়া দীর্ঘ ২০ বছর রাস্তাটির পুনসংস্কার করা হয়নি। এই জ্বরাজীর্ণ রাস্তা দিয়ে আশপাশের ১০ গ্রামের শিক্ষার্থীসহ মানুষকে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়। জনগুরুত্বপূর্ণ এ রাস্তাটি এলাকাবাসি দীর্ঘ দিন ধরে পাকাকরণের দাবি জানিয়ে আসলেও তা বরাবরই উপেক্ষিত হয়ে আসছে। তাই আগামী সংসদ নির্বাচনে যে প্রার্থী রাস্তাটি পাকাকরণের আশ্বাস দিবেন তাকেই জনগণ ভোট দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।   

জানা গেছে, ১৯৯৮ সালে মঙ্গলকোট বাজার থেকে পাঁচপোতা পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটার পর্যন্ত রাস্তাটি কেশবপুরের সংসদ ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী এএসএইচকে সাদেকের সদিচ্ছায় ইটের সোলিংকরণ করা হয়। কিন্তু রাস্তাটি পাঁচপোতা বিল পর্যন্ত গিয়ে এর কাজ শেষ হয়। অবশিষ্ট গারহাট বাজার পর্যন্ত আধা কিলোমিটার রাস্তাআজও ইটের সোলিংকরণ করা হয়নি। এ রাস্তা দিয়ে পাঁচপোতা দাসপাড়া, পরামানিক পাড়া, বাদুড়িয়া, গারহাটসহ কমপক্ষে ১০ গ্রামের ৩০ হাজার মানুষ চলাচল করে থাকে। এক সময় এ রাস্তা দিয়ে ভারী যানবাহন চলাচল করত। এরফলে রাস্তটি দেবে, ইট উঠে গিয়ে অসংখ্য খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া এই সড়কের দু‘পাশে প্রায় ১ কিলোমিটার এলাকায় পাঁচপোতা বিলে জিল¬ুর রহমান, ওলিয়ার রহমান, নাজমুল ইসলাম ও সাকা মাছের ঘের করেছেন। ফলে রাস্তাটির অধিকাংশ স্থান ঘেরেই বিলীন হয়ে গেছে। বাধ্য হয়েই পথচারী ও হাটুরেদের পায়ে হেটেই ওই রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এ যেন দেখার কেউ নেই। এছাড়া ওই এলাকার অর্ধশত শিক্ষার্থীকে গারহাট প্রাথমিক, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বাদুড়িয়া মাদ্রাসা ও হিজলডাঙ্গা কলেজে লেখাপড়া করতে গিয়ে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে ওই রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে হয়। 

পাঁচপোতা গ্রামের মশিয়ার রহমান জানান, ২০ বছর আগে সাবেক প্রয়াত শিক্ষামন্ত্রী এসএসএইচকে সাদেকের সদিচ্ছায় রাস্তাটির আধা কিলোমিটার বাদ রেখেই ইটের সোলিং করা হয়। এরপর আর পুণসংস্কার করা হয়নি। সমস্ত রাস্তার ইট উঠে ও দেবে গিয়ে অসংখ্য খনাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে পাঁচপোতা বিলের সামনের রাস্তা ধসে ঘেরে বিলীন হয়ে গেছে। এখান থেকে জনগণকে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। রাস্তাটির বেহাল দশার কারণে মানুষ প্রয়োজনে গাছ-গাছালি বিক্রি করতে চাইলেও কোন কাঠ ব্যবসায়ী তা কিনতে রাজি হয় না। তাই আগামী সংসদ নির্বাচনে যে প্রার্থী ওই রাস্তাটি পাকাকরণের আশ্বাস দিবেন এখানকার জনগণ সেই প্রার্থীকে ভোট দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। 

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী মো. মুনুছুর রহমান বলেন, এ উপজেলার সমস্ত ক্ষতিগ্রস্থ রাস্তার তালিকা করে ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। ওই রাস্তার ১ কিলোমিটার পাকাকরণের কাজ একনেকে অনুমোদন হয়েছে। খুব তাড়াতাড়ি কাজ শুরু হবে।

২৩ ডিসেম্বর, ২০১৮ ২৩:৩৯:৫৭