খুলনায় নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ৩টি প্রতিষ্ঠানেরই অভিজ্ঞতা নেই!
মাওলা বকস, খুলনা
অ+ অ-প্রিন্ট
সপ্তাহান্তে একাদশ জাতীয় নির্বাচন ভোট। এ নির্বাচনে পর্যবেক্ষক কার্ড পেতে নিবন্ধিত হয়েছে খুলনার পাঁচটি সংস্থা। তার মধ্যে দু’টি প্রতিষ্ঠান অপরিচিত। এছাড়া একটি ‘মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্র’ বলে পরিচিত। এসব প্রতিষ্ঠান নির্বাচন পর্যবেক্ষণের কোন পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই। 

জানা গেছে, আগামী ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় নির্বাচনে পর্যবেক্ষক হিসেবে খুলনায় দায়িত্ব পালন করবে পাঁচটি সংস্থা। তার মধ্যে দু’টি অপরিচিত ও একটি পূর্ব অভিজ্ঞতাহীন। ফলে অভিজ্ঞতাবিহীন সংস্থার পর্যবেক্ষণে নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে।

কমিশনের তালিকায় দেখা গেছে, সারাদেশে ১১৮টি সংস্থা এবার নির্বাচন পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব পেয়েছে। এর মধ্যে খুলনায় পাঁচটি সংস্থা পর্যবেক্ষক হিসেবে নিবন্ধিত। এর ভেতর ‘ডেভেলপমেন্ট এডুকেশন এন্ড পিস’ এবং ‘অনিক মানবিক উন্নয়ন সংস্থা’ প্রতিষ্ঠান দু’টির নাম খুলনায় পরিচিত নয়। অন্যদিকে মাদকাসক্তদের নিরাময়ে কাজ করার কারণে কিছুটা পরিচিত খুলনা মুক্তি সেবা সংস্থা (কেএমএসএস) এবার নিবন্ধন পেয়েছে পর্যবেক্ষক হিসেবে। এই তিনটি প্রতিষ্ঠান এবারই প্রথম নির্বাচন পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব পেল। এ ছাড়া ‘রূপান্তর’ ও ‘নবলোক’ ইতোপূর্বে একাধিক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেছে।

সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন খুলনা জেলা সাধারণ সম্পাদক এড. কুদরদ-ই খুদা বলেন, ‘অভিজ্ঞতা, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মীসহ বিভিন্ন শর্ত পূরণের পর পর্যবেক্ষক সংস্থা নিবন্ধন পায়। কিন্তু খুলনায় যারা তালিকাভুক্ত হয়েছে তাদের এসব আছে বলে মনে হয় না। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে রাজনৈতিক বিবেচনায় পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে। এসব পর্যবেক্ষক নির্বাচনে কোন কাজে আসবে না।’

সূত্রে জানা যায়, ‘রূপান্তর’ ও ‘নবলোক’ নামের প্রতিষ্ঠান দু’টি ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপের জোটভুক্ত। জোটের পক্ষ থেকে তারা খুলনা ও বাগেরহাটের চারটি করে মোট আটটি আসনে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবে। এ ছাড়া ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপের জোটভুক্ত সাতক্ষীরার প্রতিষ্ঠান উত্তরণ খুলনা-৫ আসনে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবে।

রূপান্তরের তথ্য কর্মকর্তা মোঃ আবদুল হালিম জানান, জোটভুক্তভাবে রূপান্তর খুলনা-২ ও ৩ এবং বাগেরহাট-২ ও ৪ নম্বর আসনে এবং নবলোক খুলনা-১ ও ৪ ও বাগেরহাট-১ ও ৩ সংসদীয় আসনে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবে। প্রতিটি আসনে তাদের ৫০ জন করে পর্যবেক্ষক থাকবে।

কেএমএসএস’র নির্বাহী পরিচালক আফরোজা আক্তার মঞ্জু বলেন, ইতোপূর্বে কখনো নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেনি। এবার প্রথম নির্বাচনী পর্যবেক্ষক হিসেবে নিবন্ধন পেয়েছি। খুলনা-৩ আসনে পর্যবেক্ষণ করবো।

কমিশনে তালিকাভুক্ত ‘ডেভেলপমেন্ট এডুকেশন এন্ড পিস’ সহকারী পরিচালক কাজী শহিদুল্লাহ রাজু জানান, প্রতিবন্ধীদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যসহ নানা বিষয়ে কাজ করে। নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেনি। 

অন্য আরেকটি সংস্থা ‘অনিক মানবিক উন্নয়ন সংস্থার কার্যালয় দিঘলিয়া উপজেলার হাসপাতাল রোডে। সংস্থার নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আকতার জানান, ‘আগে সেভাবে কখনো নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করা হয়নি। এবার আলোকিত প্রতিবন্ধী সংস্থাকে সাথে নিয়ে খুলনা, বাগেরহাট, যশোর, ঝিনাইদহ ও নড়াইল জেলায় কাজ করবো। এজন্য কাগজপত্র তৈরি করছি।’

খুলনার রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোঃ হেলাল হোসেন জানান, কমিশন থেকে যাদের নাম দেয়া হবে, তাদেরই পর্যবেক্ষক কার্ড দেয়া হবে। কাদের নাম দেয়া হচ্ছে-এটা কমিশনের বিষয়।

 

২৩ ডিসেম্বর, ২০১৮ ২৩:৩৭:৩৬