সুন্দরবনে গোপনচুক্তিতে মেলে পোনা ধরার অনুমতি
মাওলা বকস, খুলনা
অ+ অ-প্রিন্ট
সুন্দরবনের অভয়ারণ্য এলাকার মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত খালগুলো পোনা শিকারিদের কাছে ট্রলার প্রতি ৩০ হাজার টাকা চুক্তিতে ইজারা দিচ্ছে বনবিভাগ। এসব খালে জেলে নামধারি এক শ্রেণির দৃর্বৃত্তরা ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত অবাধে পারশে মাছের পোনা শিকার করবে। অভিযোগ পাওয়া গেছে, সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগের সাতক্ষিরা রেঞ্জের কোবাদক ফরেস্ট অফিসের দায়িত্বরত বনবিভাগের লোকেরা জেলেদের সাথে এমন চুক্তি করে পোনা শিকারের সুযোগ করে দিয়েছেন। 

জেলেদের সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক বছর ধরে বনবিভাগের সাথে চুক্তি করে তারা পোনা শিকার করে যাচ্ছেন। পোণা শিকারের জন্য নির্দিষ্ট কোন এলাকা নেই, সুন্দরবন অভ্যান্তরে ছোট বড় সব খাল থেকে শুরু করে বঙ্গোপসাগর তীর পর্যন্ত তাদের অবাধ যাতায়াত। পোণা শিকারের জন্য একটি দলের ইঞ্জিন চালিত একাধিক দ্রুতগামি ট্রলার থাকে। ছোট ট্রলারটি পোণা শিকার কাজে ব্যবহার হয়। বড় ট্রলার পোণা সংরক্ষণ ও লোকালয়ে পৌছে দেওয়ার কাজে ব্যবহার হয়ে থাকে। সূত্র অনুযায়ি, মৌসুমে পোণা শিকারের জন্য প্রায় ৫০টির মত দল সুন্দরবনে প্রবেশ করে। এবং প্রতিটি ট্রলার পোণা শিকার করে লোকালয়ে প্রবেশের সময় বনবিভাগের সদস্যদের নগদ টাকা দিতে হয়। জেলেদের তথ্য অনুযায়ি প্রতিবারের জন্য ৩০ হাজার টাকা গুনতে হয় তাদের। এভাবে মৌসুমের তিন মাসে প্রতিটি দল প্রায় ২০ বার পোণা নিয়ে লোকালয়ে প্রবেশ করে থাকেন। সে অনুযায়ি এক মৌসুমে একটি ট্রলার থেকে প্রায় ৬ লাখ টাকা আদায় করে বনবিভাগ। এভাবে ৫০টি ট্রলারে প্রায় ৩ কোটি টাকার মত আদায় হবে এক মৌসুমে। 

পোণা শিকারি কয়রা উপজেলার কালনা এলাকার আবুল বাশার বলেন, গত মৌসুমে পোণা শিকারের জন্য কোবাদক ফরেস্ট স্টেশনে ট্রলার প্রতি ২৪ হাজার টাকা দিতে হতো। কিন্তু এবার দিতে হচ্ছে ৩০ হাজার টাকা। তিনি জানান, আমিনুল নামে ওই স্টেশনের একজন বোটম্যানের কাছে টাকা জমা দিয়ে বনে প্রবেশ করতে হয়। 

সুন্দরবনের কোবাদক ফরেস্ট স্টেশন সংলগ্ন মাটিভাংগা গ্রামের বাসিন্দা ও ইউপি সদস্য গাজী বেলাল হোসেন জানান, গত বছরও এ স্টেশনের বনরক্ষিরা পারশে পোণা ধরার কাজে সহযোগীতা করেছে। এ বছরও সেই সব বনরক্ষিদের সাথে জেলেদের দের দরবার করতে দেখা গেছে। জানতে চাইলে কোবাদক ফরেস্ট স্টেশনের বোটম্যান (বিএম) আমিনুল প্রথমে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে নিজেকে জেলেদের সহযোগী পরিচয় দিলে বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, মৌসুমে জেলেদের পোণা ধরার সুযোগ করে দিয়ে সামান্য টাকা নেওয়া হয়। এ টাকা বনবিভাগের উর্দ্ধতন থেকে শুরু করে সব পর্যায়ে ভাগ বাটোয়ারা হয়ে থাকে বলে জানান তিনি। 

অবশ্য কোবাদক ফরেস্ট স্টেশন কর্মকর্তা (এসও) জাহাঙ্গির হোসেন বিষয়টি সম্পর্কে তার জানা নেই বলে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। 

এব্যাপারে খুলনা রেঞ্জের কাশিয়াবাদ স্টেশন কর্মকর্তা সুলতান মাহমুদ বলেন, জেলেরা চুরি করে এসব অপকর্ম করে থাকে, আবার থরা পড়লে আমাদের  উপর চাপিয়ে দিয়ে থাকে। লোকবলের অভাবে সবকিছু দেখভাল করা হয়ে উঠেনা।

এ ব্যাপারে সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) বশির আল মামুন বলেন, এভাবে চুক্তি ভিত্তিক পোণা শিকারের অনুমতি দিতে বন বিভাগের কারো সম্পৃক্ততার প্রমান পেলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

 

১৪ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০১:৫৯