৯৯৯ নম্বরে ফোন করে যৌনপল্লি থেকে মুক্তি পেল ৪ কিশোরী
গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি
অ+ অ-প্রিন্ট
প্রতীকী ছবি


জরুরি হেল্পলাইন ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে দৌলতদিয়া যৌনপল্লির অন্ধকার জীবন থেকে মুক্তি পেল ৪ কিশোরী।

শুক্রবার ভোরে বন্দিদশা থেকে তাদের ৪ জনকে উদ্ধার করে গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশ। এ সময় দুই নারীকে গ্রেফতার করা হয়।  গ্রেফতাররা হলেন ফরিদপুর সদর উপজেলার কানাইপুর রামখন্ড গ্রামের আ. আজিজ মোল্লার মেয়ে রুপা (৪৫) ও কুমিল্লার চান্দিনানগর উপজেলার বিটতলা গ্রামের ওহেদ মিয়ার মেয়ে সুমি (৩০)।

উদ্ধার হওয়া এক কিশোরী জানায়, সে দিনাজপুর সদর উপজেলার শেরপুর তেলিপাড়া গ্রামের হতদরিদ্র পরিবারের মেয়ে। সে বাল্যবিয়ের শিকার। স্বামী তার অজান্তেই দ্বিতীয় বিয়ে করলে সে রাগে-দুঃখে সংসার ছেড়ে বাবার বাড়িতে চলে আসে। গত কোববানীর ঈদের আগে সে কাজের সন্ধানে ট্রেনে এসে ঢাকার কমলাপুর স্টেশনে নামে। রেলস্টেশনে তার সঙ্গে আলাপ হয় শুভ নামে এক ব্যক্তির। প্রথম দিকে নিজের কষ্টের কথা শুভকে সে বলতে চায়নি। শুভ তাকে বিভিন্নভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করলে এক পর্যায়ে জানায় কাজের সন্ধানে সে ঢাকায় এসেছে। এ সময় শুভ তাকে জানায়, তার বিউটি পার্লারের ব্যবসা আছে। ইচ্ছা করলে সে সেখানে কাজ করতে পারে। ভালো বেতনের আশ্বাস দিলে সে শুভর কথায় রাজি হয়ে যায়। এরপর শুভ তাকে দৌলতদিয়া যৌনপল্লিতে এনে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে রুপা বাড়িওয়ালীর কাছে বিক্রি করে দেয়। রুপা অপর বাড়িওয়ালী সুমির সহযোগিতায় তাকে আটকে রেখে মারপিট করে এবং হত্যার ভয় দেখিয়ে দেহ ব্যাবসায় বাধ্য করে। তার সঙ্গে একই কায়দায় আটকে রাখা হয় ১৪, ১৫ ও ১৬ বছর বয়সী আরও ৩ কিশোরীকে। তাদেরও বিউটি পার্লারে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে শুভ দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে বিক্রি করেছেন।

মেয়েটি জানায়, তারা প্রত্যেকেই এই অন্ধকার জীবন থেকে মুক্তির পথ খুঁজতে থাকে। এ পরিস্থিতিতে শুক্রবার রাত ২টার দিকে তার কাছে আসা এক ব্যাক্তির মোবাইল থেকে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে উদ্ধারের আকুতি জানায় সে। এরপর গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশ ভোরে তাদের উদ্ধার করে।

গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি এজাজ শফী জানান, খবর পেয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে চারজনকেই উদ্ধার করা হয়ে। এ সময় ঘটনায় জড়িত দুই নারীকে গ্রেফতার করা হয়। উদ্ধার হওয়াদের পক্ষ একজন ৩ জনকে আসামি করে মানব পাচার আইনে মামলা দায়ের করেছে। পলাতক আসামি শুভর কোন ঠিকানা পাওয়া যায়নি। তবে তার মোবাইল নম্বর জানা গেছে। এ সূত্র ধরেই তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।











 


০৭ ডিসেম্বর, ২০১৮ ২১:০২:১২