খুলনায় নিষিদ্ধ পলিথিনে সয়লাব
মাওলা বকস, খুলনা
অ+ অ-প্রিন্ট
খুলনায় নিষিদ্ধ পলিথিন ব্যাগের ব্যবহার বেড়েই চলেছে, শপিং মল থেকে থেকে শুরি করে কাঁচা বাজার পর্যন্ত সব ধরনের কেনাকাটায় পলিথিন ব্যাগ ব্যবহৃত হচ্ছে। এদিকে জেলায় পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র নিয়ে গড়ে উঠেছে ১৮টি পলিথিন কারখানা। অধিদফতর বলছে, পিপি দানা হতে রোল পলিথিন ও সেচ পাইপ প্রস্তুতের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।। কিন্তু এ অনুমোদন নিয়ে কারখানায় নিষিদ্ধ পলিথিন উৎপাদন করা হচ্ছে। শর্ত ভঙ্গ করার কারণে একটি কারখানার পরিবেশগত ছাড়পত্র বাতিল করা হয়েছে। কিন্তু এখনও সক্রিয় পলিথিন উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত মহানগরীর সোনাডাঙ্গা, গোয়ালখালি এবং লবণচরা এলাকার ১৭টি কারখানা। লবণচরার তুষার রুহানি ও ফাস্ট ট্রেড নামের দুইটি কারখানায় অভিযান পরিচালনা করার পরও তারা নিষিদ্ধ পলিথিন উৎপাদন অব্যাহত রেখেছে।

পরিবেশ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮২ সালে বাংলাদেশে পলিথিন বাজারজাত ও ব্যবহার শুরু। ১৯৯৫ সালের পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের ৬ (ক) (সংশোধিত ২০০২) ধারা অনুযায়ী, ২০০২ সালের ১ জানুয়ারি ঢাকা শহরে এবং একই বছরের ১ মার্চ বাংলাদেশে পলিথিন নিষিদ্ধ করা হয়। আইন অমান্যকারীর জন্য ১০ বছরের সশ্রম কারাদন্ড এবং ১০ লাখ টাকার জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। বাজারজাত করলে ছয় মাসের জেল ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) খুলনার নেতারা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন- পলিথিন ড্রেন, খাল, নালায় জমে পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থায় বাধার সৃষ্টি করে। এ পলিথিন মাটির নিচে পানি প্রবাহেও বাধা দেয়। মানুষের স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়ায়। কৃষি জমির উর্বরতা বৃদ্ধিতে মারাত্মক প্রভাব ফেলে। মাটির অণুজীব তৈরিতে বাধা দেয়। ফলে জমি উবর্রতা শক্তি হারায়।

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) খুলনা বিভাগের সমন্বয়কারী মাহফুজুর রহমান মুকুলের ভাষ্য, বর্তমানে বাজারে খোলামেলাভাবে নিষিদ্ধ পলিথিনের ব্যবহার হচ্ছে। যা খুবই উদ্বেগজনক ও হতাশার। উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা ও কাঠোর আইন থাকার পরও নিষিদ্ধ পলিথিন বিক্রি বন্ধ করা যাচ্ছে না। ক্রেতারাও পলিথিনে মালামাল গ্রহণ করছে। সচেতন ক্রেতারা পলিথিনে মালামাল গ্রহণ করা বন্ধ করলে সাধারণ মানুষও এ আন্দোলনে শামিল হতে পারে।

‘পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন’ খুলনা শাখার সদস্য এসএম ইকবাল হোসেন বিপ্লব মনে করেন, ‘পরিবেশ অধিদফতরের পাশাপাশি পুলিশ প্রশাসনের সদিচ্ছা-আন্তরিকতার অভাবেই বর্তমানে পলিথিনের ব্যবহার বেড়েছে।’

মহানগরীর বাসিন্দা আব্দুল্লাহ আল মাহবুব বলেছেন, পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর পলিথিন। আন্দোলনের ফলে উচ্চ আদালত পলিথিন ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। তারপরও নিষিদ্ধ পলিথিন উৎপাদন ফের গতিশীল হয়ে উঠেছে।

পরিবেশ অধিদফতরের খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সরদার শরীফুল ইসলাম জানিয়েছেন, বর্তমানে খুলনা মহানগরীতে আরও ১৭টি প্রতিষ্ঠানের পরিবেশগত বৈধ ছাড়পত্র রয়েছে। এগুলো হচ্ছে আটরার মেসার্স শরীফা প্রিন্টার্স এন্ড প্যাকেজার্স, সাউথ এশিয়ান প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজিং, স্টেশন রোডের বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজিং, লবনচরা নদী তীরের ফাস্টরেট প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজিং (এলএলডিপিই রেপিং পেপার প্রস্তুত), শিরোমনি বিসিক শিল্প নগরীর সাউথ ওয়েস্ট প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজিং, খালিশপুর নিউ মার্কেটের বাংলা প্যাকেজিং, দেবেন বাবু রোডের এ কে প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজিং, আপার যশোর রোডের এম কে জামান প্লাস্টিক (প্লাষ্টিক রিল ও পানির পাইপ), ভাসানী মার্কেটের তাজ প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজিং, লবণচরা নদী তীরের গ্রিন রিসাইকেল এন্ড প্যাকেজিং, দৌলতপুর নতুন রাস্তা মোড়ের পায়েল প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজিং, লবনচরা হাজী আ. মালেক সড়কের আফজাল এন্ড কোং (পলিথিন সেচ পাইপ কারখানা)।

পরিবেশ অধিদফতরের খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক মো: হাবিবুল হক খানের বক্তব্য, ‘সুনির্দিষ্ট ও তথ্যবহুল অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় হাফিজ নগরের মেসার্স সাদিয়া এন্টারপ্রাইজ অ্যান্ড প্লাস্টিক কারখানার পরিবেশগত ছাড়পত্রটি বাতিল করা হয়েছে। নগরীতে আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তাদের বিষয়ে খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে। ছাড়পত্রের শর্ত অনুযায়ী না চললে সেগুলোর বিরুদ্ধেও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে খুলনা জেলা প্রশাসকের সভাকক্ষে জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় নিষিদ্ধ পলিথিনের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত হয়। তবে এরপর মহানগরীর লবণচরা এলাকায় দুইটি কারখানায় ও বড় বাজারে একটি মোকামে অভিযান চালানো হয়। এছাড়া এ পর্যন্ত আর তেমন কোনও পদক্ষেপ দেখা যায়নি।

 

১৯ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০২:৪৯