আগৈলঝাড়ায় ১৪৪ মন্ডপে পূজা শুরু হচ্ছে আজ, প্রশাসনের ব্যাপক নিরাপত্তা গ্রহণ
তপন বসু, বরিশাল
অ+ অ-প্রিন্ট
দেবী দূর্গার বোধন শেষে রবিবার ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে মর্তলোকে বিপদ নাশিনী দেবী দূর্গার পাঁচ দিন ব্যাপি পূজা শুরু হচ্ছে আজ। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গা পূজাকে সামনে রেখে ইতোমধ্যেই ভিন্ন আমেজ বইতে শুরু করেছে আগৈলঝাড়া উপজেলার সর্বত্র। অন্যান্য বছরের মত এবছরও বিভাগের সর্বাধিক ১শ ৪৪টি পূজা মন্ডপে পূজার সকল আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ১৫ অক্টোবর ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে দেবীর নবপত্র কল্পারম্ভ ষষ্ঠী পূজা; ওইদিন মন্ডপে মন্ডপে বেঁজে উঠবে ঢাক-ঢোল আর কাঁসরের বাজনার শব্দ। ১৬ অক্টোবর সপ্তমী পূজা, ১৭ অক্টোবর মহাঅষ্টমী পুজা, ১৮ অক্টোবর নবমী পূজা ও ১৯ অক্টোবর দশমী বিহিত পূজা ও দশহরার মধ্য দিয়ে পাঁচ দিন ব্যাপি পূজার অনুষ্ঠান  সমাপ্ত হবে।  

আগৈলঝাড়ায় সর্বাধিক পূজা আয়োজনের কারণে মহাব্যস্ত এলাকার মৃৎ শিল্পীরা এখন রং-তুলির শেষ আঁচড় কাটছেন প্রতীমার গায়ে। মন্দিরে মন্দিরে রং-তুলি-শেষ আঁচড়ে দেবী দূর্গা ও অসুরের রণ যুদ্ধের ঘটনাগুলোর সংক্ষিপ্ত পৌরাণিক কাহিনী মূর্তির মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলছেন তারা। শিল্পীর তুলির আঁচড়ে মূর্ত হয়ে উঠছে বিপদ নাশিনী দেবী দূর্গার স্বরূপ।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন পূজা মন্ডপ ঘুরে দেখা গেছে, প্রস্তুতির শেষ পর্যায়ে কোনো কোনো মণ্ডপে চলছে রং-তুলির কাজ, আবার কোথাও কোথাও প্রতীমায় রং শেষে চলছে সাজসজ্জা, আলোকসজ্জা ও প্যান্ডেলের কাজ। রকমারি আলোক সজ্জার বর্নালী বাহারে সাজানো হচ্ছে পূজা মন্ডপ ও তার আশপাশের বিস্তৃর্ণ এলাকা।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিপুল চন্দ্র দাস জানান, উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে ১শ ৪৪টি পূজা মন্ডপে পূজার প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। পূজা মন্ডপের মধ্যে রাজিহার ইউনিয়নে ৪২টি, বাকাল ইউনিয়নে ৩৪টি, বাগধা ইউনিয়নে ২২টি, গৈলা ইউনিয়নে ২২টি ও রতœপুর ইউনিয়নে ২৪টি পূজামণ্ডপ রয়েছে। বাকি তিনটি বাসন্তী পূজা নির্ধারিত সময়ে অনুষ্ঠিত হবে। নির্বিঘেœ পূজা অনুষ্ঠান সম্পন্ন করতে পূজা উদযাপন পরিষদ, প্রশাসন, জনপ্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ঠদের নিয়ে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। সরকারী ও এমপির ব্যক্তিগত তহবিল থেকে প্রত্যেক পূজা মন্ডপে প্রায় ২০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। পূজার পরে প্রতীমা বিসর্জন দিতে মন্ডপীদের কঠোর নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।   

থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আফজাল হোসেন জানান, উপজেলার পূজা মন্ডপগুলোর মধ্যে ৫৫টি পূজা মণ্ডপ অধিক গুরুত্বপূর্র্ণ ও ৬০টি পূজামণ্ডপ কম গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অধিক গুরুত্বপূর্ণ পূজা মণ্ডপগুলোর মধ্যে রাজিহার ইউনিয়নে ১৫টি, বাকাল ইউনিয়নে ১৪টি, বাগধা ইউনিয়নে ৯টি, গৈলা ইউনিয়নে ৯টি ও রতœপুর ইউনিয়নে ৮টি পূজা মণ্ডপ রয়েছে।

পূজায় জঙ্গী তৎপরতাসহ যেকোন ধরণের নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা এড়াতে শান্তি শৃংখলা রক্ষায় গত বছরের চেয়ে এবছর পূজা মন্ডপগুলোতে আরও বেশী পুলিশ মোতায়েন করা হবে। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে আনসার সদস্যরাও। মন্ডপের নিরাপত্তার সাথে জনগনের যাতায়াত সুবিধায় পথের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে পুলিশের মোবাইল টিম ও স্ট্রাইকিং ফোর্সসহ সাদা পোশাকের পুলিশ সদস্যরা। এছাড়াও সার্বক্ষণিক র‌্যাব ও সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের টহল অব্যাহত থাকার পাশাপাশি নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে রাখা হবে সমগ্র উপজেলা। 

১৫ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:২৪:৪২