মহাদেবপুরে বকুল গাছে চড়ুই পাখির মেলা
মেহেদী হাসান, মহাদেবপুর (নওগাঁ)
অ+ অ-প্রিন্ট
চড়ুই পাখির কিচির মিচির শব্দে মুখরিত চারদিক। মহাদেবপুর ঐতিহাসিক বাছচত্বর এলাকায় দক্ষিণদিকের  আইলেন্ডে সারিবদ্ধ বকুল ফুলের গাছ। গাছগুলো ঘিরে  হাজারো চড়–ই পাখির আনাগোনায় পাখিদের যেন মেলা বাসেছে। প্রতিদিন বিকেল ও ভোরে গাছে গাছে তাদের কিচির-মিচির শব্দে জানিয়ে দেয় সরব উপস্থিতি। হঠাৎ এসব গাছে আশ্রয় নিয়েছে হাজারো চড়ুই পাখি। যেন গাছগুলো পাখিদের নিরাপদ অভয়ারণ্য হিসেবে গড়ে উঠেছে। প্রতিদিন বিকেল থেকে পরদিন ভোর পর্যন্ত গাছগুলো হাজারো চড়ুই পাখির দক্ষলে থাকে। তাদের কিচির-মিচির শব্দে মুখরিত হয়ে উঠে এর চারপাশ। বিকেলে পাখিদের কিচির মিচির শব্দ শুনতে এবং সন্ধ্যারাতে গাছের ডালে ঘুমিয়ে থাকার দৃশ্য দেখতে আসেন স্থানীয়রা। এ যেন অন্যরকম কৌতূহল। সন্ধ্যার পূর্বে যখন ফিরে আসে তখন হাজারো পাখির উপস্থিতিতে আকাশটা যেন মেঘাচ্ছন্ন হয়ে যায়। আর তখনই পাখিগুলো উপচে পড়ে বকুল গাছের ডালে-ডালে, পাতায়-পাতায়। পাখির অলঙ্কারে ভরে ওঠে বকুল ফুলের সারিবদ্ধ গাছগুলো। মনে হয় যেন গাছগুলোর সাথে নিবির সম্পর্ক পাখিগুলোর। এ যেন এক ঝাঁক মুরগির ছানা মায়ের কোলে লুকিয়ে আছে । ভোর সকালে পাখির ডাকে ঘুম ভাঙ্গে এলাকাবাসির। মাছচত্বর এলাকার শেফালী মার্কেটের মালি সারোয়ার হোসেন জানান,হঠাৎ এসব গাছে চড়ুই পাখিরা আশ্রয় নিয়েছে। প্রতিদিন ঝাঁক বেঁধে পাখিদের উড়ার দৃশ্য এবং কিচির মিচির শব্দ শুনতে ভালো লাগে। ভোর সকালে চড়ুই পাখির কিচির মিচির শব্দে  ঘুম ভাঙ্গে। প্রকৃতির এসব পাখিরা যেখানে নিরাপদ মনে করে সেখানে তারা আশ্রয় নেয়।

জীব ও জীবনের নিরাপত্তা রক্ষায় পরিবেশবাদী সংগঠন, ‘নিরাপদ নওগাঁ’ এর চেয়ারম্যান এম. সাখাওয়াত হোসেন জানান,চড়ুই বহুল দৃশ্যমান আবাসিক পাখি। শহর,বন্দর,গ্রাম তথা লোকালয়ে এরা বাস করে। দালান ঘরে, কৃষি জমিতে, ফলের বাগানে, ছোট ঝোপঝাড়ে এরা বিচরণ করে। সচরাচর জোড়ায় বা ছোট দলে দেখা যায়। কিন্তু ঝাঁক বেঁধে গাছ ভর্তি হাজারো পাখি আশ্রয়ের দৃশ্য সত্যিই বিরল। মাটিতে হেঁটে হেঁটে শস্য, ঘাসবিচি, ফুলের কুঁড়ি, ফল, পোকামাকড়, ভাত, খাবারের উচ্ছিষ্টাংশ ইত্যাদি খায়। দলবেঁধে বাড়ির আঙ্গিনা বা খোলা জায়গায় ধূল্লিন করতে দেখা যায়। ‘চির...চির...চির...’ বা ‘চুর...চুর...’ আওয়াজ করে ডেকে থাকে। চড়ুই পাখি খড়, শুকনো ঘাস-লতা, পাটের আঁশ ইত্যাদি দিয়ে মানুষের ঘরবাড়ির ফোকর, ভেন্টিলেটর বা ঘরের চালের নিচে বাসা বানায়। মার্চ থেকে জুন প্রজননকাল এ সময় বিভিন্ন ঘরের চালের নিচে বা ভেন্টিলেটরে বাসা বানিয়ে  ডিম পাড়ে ৩ থেকে ৭টি। ডিমের রং ফিকে সবুজাভ সাদা, তাতে বাদামি ছিট থাকে। ডিম ফোটে ১৪ দিনে। বাচ্চারা ২০ থেকে ২১ দিনে উড়তে শেখে।

 

 

০৭ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০৩:৫৯