খুলনায় ঝরে পড়া শিশু শিক্ষার্থীর হার কমেছে
মাওলা বকস, খুলনা
অ+ অ-প্রিন্ট
খুলনায় প্রাথমিক পর্যায়ে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর হার কমে মাত্র ৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। যা গত বছর ছিল মাত্র ৮ শতাংশ। এসব  শিক্ষার্থীরা  দারিদ্রতা, বাল্যবিবাহ ও পরিবারের অসচেতনতার কারনে ঝরে যাচ্ছে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে  জানা গেছে, খুলনা জেলায় ২০১৩ সালে প্রথম শ্রেণীতে ভর্তি হয় ৪৮ হাজার ৮৫৩ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ২০১৭ সালে সমাপনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ৩৫ হাজার ৯৮৭ জন। ২০১৩ সালে প্রথম শ্রেণীতে ভর্তি শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভিন্ন শ্রেণীতে রিপিটার ছিলেন ১২ হাজার ৭৮৭ জন। ২০১৭ সালে সমাপনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ২০১৩ সালের আগে শিক্ষার্থী ছিল ১৮শ” ৯৩ জন। ফলে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৯শ’ ৭২ জন এবং ২০১৮ সালে ঝরে যাওয়া শিক্ষার্থীর হার দাঁড়ায় ৪.০৩ শতাংশ। অপরদিকে ২০১২ সালে  প্রথম শ্রেণীতে শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছিল ৬০ হাজার ৮শ’ ৮৫ জন এবং ২০১৬ সালে সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নেয় ৪৮ হাজার ৩৯ জন। ২০১৭ সালে ঝরে যাওয়া শিক্ষার্থীর হার ছিল ৮.৫৮ শতাংশ। গত এক বছরে ঝরে যাওয়ার হার ৪.৫৫ শতাংশ।

গাজী মেমোরিয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা আজিজা সুলতানা বলেন, দারিদ্রতা ও বাল্যবিবাহ শিক্ষার্থীর ঝরে যাওয়ার প্রধান কারণ। তিনি আরো বলেন, সরকারের প্রচেষ্টায় ঝরে যাওয়া শিক্ষার্থীর হার পূর্বের তুলনায়  অনেক কমেছে। 

প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রমেন্দ্রনাথ পোদ্দার বলেন, বর্তমান সরকারে বিভিন্ন উদ্যোগের কারনে সচেতনতা বৃদ্ধিতে খুলনায় ঝরে যাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে গেছে। কর্মকান্ডের মধ্য শিক্ষকদের সাথে অভিভাবকদের যোগাযোগ বৃদ্ধিতে মা সমাবেশ ও উঠান বৈঠক খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এছাড়া অন্যন্য উদ্যোগগুলোর মধ্যে রয়েছে বিনামূল্যে শিক্ষা, শতভাগ উপবৃত্তি, খেলাধুলার বিশেষ ব্যবস্থা, শিক্ষা মেলা ও মিনা মেলা, ফ্রি প্রাইমারিতে সহপাঠ কার্যক্রম ইত্যাদি। তিনি আরও বলেন ঝরে যাওয়া শিক্ষার্থীর হার শূন্যের কোটায় আনা অসম্ভব তবে আরো কমিয়ে য়ে নিয়ে আসার জন্য বিভিন্ন উদ্যোগকে অভিভাবকসহ সবাইকে সক্রিয়ভাবে কার্যকর করতে হবে।

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২৩:১২:১৩