মংলা বন্দরের দু’টি বিদেশী বাণিজ্যিক জাহাজের সংঘর্ষে ব্যাপক ক্ষতি
মাওলা বকস, খুলনা
অ+ অ-প্রিন্ট
 

স্রোতের টানে নোঙ্গর উপড়ে মংলা বন্দরের পশুর চ্যানেলে দু’টি বিদেশী বাণিজ্যিক জাহাজের সংঘর্ষে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। চ্যানেলের হারবাড়িয়া এলাকায় গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনার পর থেকে একটি জাহাজের প্রোপেলরসহ ইঞ্জিন বিকল অবস্থায় রয়েছে। ঘটনার পর থেকেই বন্দর কর্তৃপক্ষের পাইলট ও উদ্ধারকারী জাহাজ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিদেশী জাহাজ দু’টিকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়। এতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও বিপর্যয় থেকে রক্ষা পেয়েছে মংলা বন্দর।

বন্দরের হারবার বিভাগ জানায়, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে ২৫ হাজার মেট্রিক টন কয়লা নিয়ে বন্দরের পশুর চ্যানেলের হারবাড়িয়ায় ভেড়ে পানামা পতাকাবাহী জাহাজ এমভি এমিজ ইনটেকরিপি। চ্যানেলের ৩ নম্বর হারবাড়িয়া এ্যাংকারে থাকা ওই জাহাজটি রাত ৯টার দিকে তীব্র স্রোতের টানে নোঙ্গর উপড়ে পেছনে নোঙ্গরে থাকা মেশিনারিজ পণ্য বোঝাই লাইবেরিয়া পতাকাবাহী এমভি ইউরোন নামক জাহাজের ওপর আছড়ে পড়ে। এ সময় এমভি ইউরোন জাহাজের নোঙ্গর চেইন এমভি এমিজ ইনটেকরিপি জাহাজের  প্রোপেলরে জড়িয়ে যায়। এতে এ জাহাজটির ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়ে। রাতেই ওই দুই জাহাজের বেতার বার্তায় বন্দর কর্তৃপক্ষের সাহায্য চাওয়া হলে পাইলটসহ বন্দরের উদ্ধারকারী জাহাজ শিবসা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে সক্ষম হয়।

বন্দরের হারবার বিভাগের কন্ট্রল রুমের দায়িত্বে থাকা মোঃ  সৈয়দ হোসেন জানান, বহিঃনোঙ্গরে ইঞ্জিন বিকল থাকা বিদেশী জাহাজটির পাশে অবস্থান করছে বন্দরের উদ্ধারকারী জাহাজ। বিকেলের জোয়ারে বিদেশী জাহাজটিকে চ্যানেলের ১৩ নম্বর বয়ায় স্থানান্তর করার জন্য বন্দরের পাইলট জামান হোসেন রওয়ানা হয়েছে। এদিকে মেশিনারিজ পণ্য বোঝাই জাহাজটি খালাস প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে গত শুক্রবার দুপুরে বন্দর ত্যাগের নির্ধারিত সিডিউল থাকলেও তা স্থগিত করা হয়েছে। এ দুর্ঘটনায় বন্দর চ্যানেলে পাশাপাশি নোঙ্গরে থাকা বিদেশী ওই জাহাজ দু’টি কমবেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাই পণ্য খালাসসহ এ জাহাজ দু’টি নির্ধারিত স য়ে বন্দর ত্যাগে জটিলতা দেখা দিয়েছে। এমভি ইউরোন জাহাজের নোঙ্গর হারিয়ে গেছে আর এমভি এমিজ ইনটেকরিপি জাহাজটির ইঞ্জিন বিকল রয়েছে। এ ছাড়া জাহাজ দু’টির সামনে ও পেছনের ক্রেন, গ্যাংওয়ে, ব্রীজসহ আশপাশ দুমড়ে মুচড়ে গেছে। দুর্ঘটনার সময় চ্যানেলে থাকা সকল জাহাজ থেকে একযোগে সাইরেন বেজে ওঠায় জাহাজ দু’টিতে থাকা নাবিক ও দেশীয় শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ভয়ে আতঙ্কে দিকবিদিক ছুটাছুটি শুরু করেন শ্রমিকরা। ঘটনার সময় এমভি এমিজ ইনটেকরিপি জাহাজে থাকা ব্যবসায়ী মিলন হোসেন জানান, দু’টি জাহাজের মধ্যে ভয়ানক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। তবে এমভি ইউরোন জাহাজের ক্যাপ্টেন ও নাবিকদের বুদ্ধিমত্তা ও কৌশলের কারনে বড় ধরনের দুঘটনার কবল থেকে রক্ষা পেয়েছে বন্দর চ্যানেল। 

এ বিষয় বন্দর কর্তৃপক্ষের সহকারী হারবার মাস্টার বেল্লাল হোসেন জানান, আগামী রবিবার দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে বন্দর কর্তৃপক্ষের তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তবে প্রাথমিক ভাবে তারা ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজ দু’টিকে নিরাপদে সরিয়ে নিতে প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। তিনি এ জাহাজ দু’টির ক্ষয়ক্ষতির প্রসঙ্গে আরও বলেন, পিএনই ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি ইতোমধ্যে দুর্ঘটনার বিষয়ে খোঁজ খবর নিতে শুরু করেছে। আর জাহাজ দু’টি বিদেশী মালিকানাধীন কোম্পানির হওয়ায় পিএনই ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির মাধ্যমেই ক্ষতিপূরণের বিষয়টি সমাধান হবে।

০২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২২:০৫:০৪