খুলনায় ঈদের আনন্দেও তিন খুন
মাওলা বকস, খুলনা
অ+ অ-প্রিন্ট
খুলনায় ঈদের আনন্দেও তিনটি হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে।  মহেশ^রপাশা উত্তর বণিকপাড়ার মোঃ সামছুর রহমানের ছেলে মোঃ শরিফুল ইসলাম (৩২) প্রতিপক্ষের হামলায় জখম হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২২ আগস্ট ঢাকায় মারা যায়। তার আগে, ২১ আগস্ট কয়রা উপজেলার গোলখালী গ্রামে ফেরদাউস নামের এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করেছে তার শ্যালক আলম শেখ। এর আগে ২১ আগস্ট সন্ধ্যায় কয়রা উপজেলার আমাদীর জায়গীর মহলে এলাকায় পিকআপ চালক শেখ সেলিম (৪০) কে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। নিহত শেখ সেলিম খুলনার রূপসা উপজেলার পিঠাভোগ গ্রামের মৃত জলিল শেখের ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, কয়রার আমাদী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমীর আলীর হ্যাচারিতে খুলনা শহর থেকে মালামাল নিয়ে এসেছিলেন পিকআপ চালক শেখ সেলিম। চুক্তির টাকা ও মালামাল বুঝিয়ে দেয়াকে কেন্দ্রে করে মালিকপক্ষের সাথে বাকবিতন্ডার একর্পযায়ে পিকআপ চালক সেলিমকে পিটিয়ে মেরে ফেলেছে ইউপি চেয়ারম্যান আমীর আলী ও তার ছেলে জেলা পরিষদের সদস্য হাবিবুল্লাহ।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আমীর আলী বলেন, “পিকআপ চালক সেলিম হার্টের রোগী। হঠাৎ করে হার্টএ্যাটাকে পড়ে মাথায় আঘাত পেয়ে মৃত্যু হয়েছে তার। আমরা পিটিয়ে মেরেছি এমন অভিযোগ সঠিক নয়।”

কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারক বিশ্বাস জানান, তুচ্ছ ঘটনায় বাকবিতন্ডার একপর্যায়ে স্টোক করে পিকআপ চালক শেখ সেলিম অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে তাকে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

অন্যদিকে, একই উপজেলার গোলখালি গ্রামে ফেরদৌস মোড়ল (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যা করেছে মৃত নওশের আলী শেখের ছেলে আলম শেখ (৩০)। নিহত ফেরদৌস আব্দুস সাত্তার মোড়লের ছেলে। এ টনায় পুলিশ দু’জনকে আটক করলেও মূল আসামি আলম শেখ পলাতক।

জানা যায়, নিহত ফেরদৌস শেখের ছেলে সুজন ২১ আগস্ট বিকেলে গোলখালি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে বল খেলার সময় বলটি রাস্তার পাশে আলমের শেখের মিষ্টির দোকানের বেড়ায় লাগে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজিত আলম শেখ গরানের লাঠি দিয়ে আপন ভগ্নিপতি ফেরদৌস মোড়লকে আঘাত করলে ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় কয়রা থানার মামলায় আলমের স্ত্রী মর্জিনা খাতুন (২৪) ও আলমের মা জাবেদা খাতুনকে গ্রেফতার করা হয়।

এদিকে নগরীর মহেশ্বরপাশার উত্তর বণিকপাড়ায় গত ১৫ আগস্ট রাতে শরিফুলকে পূর্ব শত্রুতার জেরধরে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে দুর্বৃত্তরা। গত ২২ আগস্ট ভোর রাতে ঢাকার একটি হাসপাতালে মারা যায় শরিফুল। নিহতের লাশ গত ২৩ আগস্ট পৌঁছালে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। এলাকাবাসী খুনিদের বিচারের দাবিতে লাশ নিয়ে সড়কে মানববন্ধন করেন। এ ঘটনায় নিহতের পিতা সামছুর রহমান বাদী হয়ে আড়ংঘাটা থানায় মামলা করেন।

অন্যদিকে গতকাল শুক্রবার শরিফুলের হত্যার বিচারের দাবি জানিয়ে মানববন্ধনে বক্তৃতা করেন কেসিসি’র ১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর (নব-নির্বাচিত) শেখ আব্দুর রাজ্জাক, ওয়ার্ড মেম্বর মোঃ আরিফ হোসেন, ওয়ার্ড আ’লীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর কবির খোকন প্রমুখ। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত পুলিশ এ মামলায় কাউকে গ্রেফতার করতে পারিনি।

২৫ আগস্ট, ২০১৮ ০৯:৪৪:৫৮