দুই মেয়েকে চেতনানাশক খাইয়ে মাকে খুন
যশোর প্রতিনিধি
অ+ অ-প্রিন্ট
যশোরে এক গৃহবধূর রক্তাক্ত মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার সন্ধ্যায় শহরতলীর কিসমত নওয়াপাড়া হাইওয়ে টাউনের একটি চারতলা ভবনের নিচতলার ফ্ল্যাট থেকে ওই মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। হত্যার শিকার নারীর নাম কল্পনা বেগম। এই নারী তার দুই মেয়েকে নিয়ে দুই মাস আগে ওই বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে ওঠেন। তার স্বামী যশোর সদর উপজেলার সাজিয়ালি গ্রামের মো. সোহেল। 

পুলিশ জানায়, দুই মেয়েকে ফালুদার সাথে চেতনানাশক কিছু খাইয়ে এক ঘরে আটকে রেখে পাশের ঘরে তাদের মাকে খুন করা হয়। সন্ধ্যা সাতটার দিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে নিয়ে যায়। লাশের মাথায় আঘাতের চিহ্ন ছিল। গলায় ওড়না প্যাঁচানো ছিল।

কোতয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অপূর্ব হাসান জানান, তারা খুনের কারণ প্রাথমিকভাকে সনাক্ত করতে পেরেছেন। তবে তদন্তের স্বার্থে এ ব্যাপারে এখুনি কিছু জানাতে রাজি নয়। হত্যার ঘটনায় হৃদয় নামে নিহতের এক ভাগ্নেকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে।

নিহতের মেয়ে উষা ও তৃষ্ণা জানায়, খুনি তাদের মায়ের পূর্ব পরিচিত। বৃহস্পতিবার লোকটি তাদের বাড়িতে বেড়াতে আসে। রাতে দুই বোনকে ফালুদার সঙ্গে চেতনানাশক কিছু খাইয়ে পাশের ঘরে অচেতন করে আটকে রাখে। শুক্রবার সন্ধ্যায় জ্ঞান ফিরে তারা মাকে ডাকতে থাকলে ওই লোকটি দরজা খুলে উষা ও তৃষ্ণাকে মারপিট করে পালিয়ে যায়। পরে ওই ঘরে তারা মায়ের মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখেন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, এই দুই মেয়ে কল্পনা বেগমের প্রথম পক্ষের। কয়েক বছর আগে প্রথম স্বামীর সঙ্গে তার বিচ্ছেদ হয়। এরপর এক বছর আগে তিনি সোহেলকে বিয়ে করেন। কিন্তু নতুন এই বাসায় এখনো আসেননি সোহেল। ভবন মালিক ইন্স্যুরেন্স কর্মকর্তা আনিসুর রহমান জানান, তার ভবনের পাশেই কল্পনা আক্তারের প্লট রয়েছে। সেখানে বাড়ি নির্মাণের সুবিধার্থে মাস ছয়েক আগে ফ্ল্যাটটি ভাড়া নেন তিনি। তাদের বাড়ি যশোরের চৌগাছা উপজেলার নিয়ামতপুরে। 



২৫ আগস্ট, ২০১৮ ০৯:১৯:২২