গ্রেনেড হামলা : বিচার না পেয়ে হতাশ রংপুরের রেজিয়ার পরিবার
রবিউল ইসলাম দুখু, রংপুর
অ+ অ-প্রিন্ট
এক যুগ পার হলেও  গ্রেনেড হামলায় নিহত রেজিয়া বেগমের বিচার না হওয়ায় নিহত রেজিয়ার দুই সন্তানসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা হতাশ হয়ে পড়েছেন। তারা দ্রুত বিচার চান । বড় ছেলে হারুন-অর- রশিদ বলেন- ৩৯ বছর পরে হলেও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিচার হয়েছে।আমার বিশ্বাস আমার মায়ের হত্যারও বিচার আমরা পাবো। ছোট ছেলে মোস্তুাল্লাহ জানান, তারা পুরো পরিবার প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার  প্রতি কৃতজ্ঞ। এখন শুধ্ইু বিচার চান।তিনি এ সরকারের আমলেই বিচার দাবী করে বলেন- বিচার হলেই তার মায়ের আত্মা শান্তি পাবে।

রেজিয়ার বড় বোন আনোয়ারা বেগম বলেন- বাড়িত বসে শাড়ির আচল দিয়ে বারবার বোনের ছবি মুছি। আমরা এখন ভালো বিচার চাই।

২০০৪ সালের ১৭ আগষ্ট সারা দেশের বিভিন্ন স্থানে বোমা হামলার প্রতিবাদে ২১ আগষ্ট দলের কেন্দ্রীয় কার্যলয়ের সামনের সড়কে মহানগর আওয়ামীলীগের সমাবেশ ছিল। সমাবেশ শেষে সন্ত্রাসবিরোধী শান্তি মিছিল হওয়ার কথা ছিল। এ শান্তি মিছিলে নেতৃত্ব দেয়ার কথা ছিল আওয়ামীলীগ সভানেত্রী ও তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনার।মিছিল শুরুর  আগ মুহূর্তে ট্রাকের ওপর নির্মিত খোলা মঞ্চে দাঁড়িয়ে শেখ হাসিনার বক্তব্য শেষ হওয়া মাত্র বিকেল ৫টা ২২মিনিটে তাকে লক্ষ্য করে মুহুর্মহু গ্রেনেড হামলা শুরু হয়। বিকট শব্দে একের পর এক বিস্ফোরিত হয় ১৩টি গ্রেনেড। মৃত্যুর জাল ছিন্ন করে প্রাণে বেঁচে যান শেখ হাসিনা। তার পরও শেখ হাসিনার গাড়িকে লক্ষ্য করে ১২টি গুলি ছুড়ে দুর্বৃত্তরা। নারকীয় ওই হামলায় রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার রেজিনা বেগমসহ ২২ জন প্রাণ হারান। আহত হন কয়েকশত নেতা কর্মী। 

কাউনয়া উপজেলার গঙ্গানারায়ন গ্রামের আফাজ উদ্দিনের মেয়ে রেজিয়া বেগম ১৯৯০ সালে কাজের সন্ধানে ঢাকা পাড়ি জমান। ঢাকার বাড্ডা এলাকায় ইন্ডিয়ান ভিসা অফিসে ছবি লাগানোর কাজ করে তিনি । ভাড়া থাকেন একই এলাকায়। সেখানে  মহিলা আওয়ামীলীগের নেত্রী আয়শা মোকারমের সাথে তার পরিচয় হয়। তিনিও আপওয়ামীলীগের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন।  সমাবেশ স্থলের উদ্দেশ্যে আয়শার  নেতৃত্বে একটি মিছিল বের হয়। সেই মিছিলে রেজিয়াও ছিলেন। তিনি সেই দিন গ্রেনেড হামলায় নিহত হন। পরের দিন তার ছোট ছেলে নুরনবী(মোস্তুল্লাহ) তার  লাশ সন্তাক্ত করেন। পরে আজিম পুর কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। একই সালে আওয়ামীলীগের পক্ষ থেকে নিহতের পরিবারের জন্য দেয়া হয় ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা। এর পর ২০১৩ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর ৮ লাখ টাকা দেয়া হয়। এখন তদের কোন অভাব নেই। তাদের চাওয়া শুধুই মায়ের বিচার।

৫ নং বালাপাড়া ইউনিয়ন  পরিষদের চেয়ারম্যান আনছার আলী বলেন-আগে কি হয়েছে জানি না। আমার আমলে রেজিয়ার পরিবার যাতে করে সরকারি সকল সুযোগ সুিবধা পায় আমি সেই চেষ্টা করে যাবো। 

 

২০ আগস্ট, ২০১৮ ২৩:৫৩:১৩