‘মেয়েকে মেরে ফেললাম, লাশ ড্রামে’
পাবনা প্রিতিনিধ
অ+ অ-প্রিন্ট


শিক্ষার্থীদের কাছে অপমান হওয়ার ভয়ে মেয়েকে হত্যা করে নিজেই আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন এক শিক্ষক। জানা গেছে, ১৪ মাস বয়সী শিশুকন্যাকে পানির ড্রামে চুবিয়ে হত্যা করেছেন এই শিক্ষক বাবা। কর্মস্থলে শিক্ষকের লেখা চিঠি পেয়ে তার সূত্র ধরে কন্যা শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মর্মান্তিক এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অনেকে এ ঘটনায় কাদেরুজ্জামানের মানসিক সুস্থতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। নিহত শিশু কারিমার মা বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন।

শনিবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে অধ্যক্ষের কর্মস্থলের টেবিলে রাখা একটি চিঠির সূত্র ধরে ঈশ্বরদী সরকারি কলেজের পেছনের আইএসটি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের একটি ড্রাম থেকে ওই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত শিশুর নাম কারিমা। কারিমার বাবা ঈশ্বরদীর বেসরকারি আইএসটি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ। তিনি ঈশ্বরদী পৌর শহরের শেরশাহ রোডে বসবাস করেন।

অধ্যক্ষ কাদেরুজ্জামানের টেবিলে পেপার ওয়েটের নিচে রাখা চিঠিতে লেখা ছিল- ‘রাসেল ও পল্লব আমাকে বাঁচতে দেবে না, আমি ওদের রেজিস্ট্রেশন কার্ড তুলতে পারিনি। তাই পল্লবের কাছে অপমান হওয়ার থেকে মৃত্যু অনেক ভালো। আমার মৃত্যু হলে আমার মেয়ের ভবিষ্যৎ অনেক খারাপ হবে। তাই মেয়েকে আমিই মেরে ফেললাম, পাশের ঘরের ড্রামে আমার মেয়ের লাশ আছে।’

এই চিঠির সূত্র ধরেই সেখান থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এছাড়া কাদেরুজ্জামানকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে পাবনা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এখনও তার জ্ঞান ফেরেনি। ঈশ্বরদী থানার ওসি জানান, ধারণা করা হচ্ছে- ‘তার প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন ছাত্রের রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত ঝামেলায় তিনি তার শিশুকন্যাকে হত্যা করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। তবে জ্ঞান ফেরার পর তার কাছ থেকে জানা যাবে প্রকৃত ঘটনা কী ছিল।’

ওসি আরো বলেন, ‘শনিবার সকালে অধ্যক্ষ কাদেরুজ্জামান তার শিশুকন্যাকে কোলে নিয়ে প্রাতঃভ্রমণে বের হন। এ সময় তার স্ত্রী ঘুমিয়ে ছিলেন। সকাল ১০টার দিকে ঈশ্বরদী বাজারের পৌর সুপার মার্কেটের সামনে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে শিক্ষক কাদেরুজ্জামানকে প্রথমে ঈশ্বরদী ও পরে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এখনও তার জ্ঞান ফেরেনি।’







 


১৯ আগস্ট, ২০১৮ ১৮:১৩:৪৪