খুলনায় নদীগর্ভে বিলীন পাউবো বেড়িবাঁধ, লোকালয়ে লোনা পানি
মাওলা বকস, খুলনা
অ+ অ-প্রিন্ট
খুলনার উপকূলীয় জনপদ কয়রা উপজেলার উত্তর বেদকাশি ইউনিয়নের গাববুনিয়া এলাকার পানি উন্নয়ন বোর্ডের ভেড়ীবাঁধ ছাপিয়ে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করেছে। সেখানে ভয়াবহ ভাঙনের কারনে নদীর পার্শ্ববর্তী জনসাধারণ রয়েছে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ জরুরী ভিত্তিতে কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় স্বেচ্ছা শ্রমের ভিত্তিতে কাজ করছে এলাকাবাসি।  পানি উন্নয়ন বোর্ড কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এ জনপদের সাধারণ মানুষ। 

সরেজমিনে দেখা গেছে, পাউবোর ১৩/১৪-২ পোল্ডারের শাকবাড়িয়া নদীর গাব্বুনিয়া ভেড়ীবাঁধ ভয়াবহ ভাঙনের কবলে পড়েছে। স্থানীয়রা স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে বেশ কয়েক দিন ভাঙন রোধে কাজ করলেও গতকাল সোমবার দুপুরে নদীতে জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ভেড়ীবাঁধ ছাপিয়ে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করে। তাৎক্ষণিক এলাকাবাসী কাজ করে পানি আটকাতে পারলেও রাতের জোয়ার নিয়ে তারা শঙ্কিত। ভাঙন আতঙ্কে এলাকা ছাড়ছে স্থানীয় জনগণ। 

উত্তর বেদকাশি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সরদার নুরুল ইসলাম বলেন, ‘গাব্বুনিয়া এলাকার ভেড়ীবাঁধে প্রায় ভয়াবহ ভাঙন ধরেছে। বেশ কিছু দিন সেখানে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে কাজ করে কোন রকমে পানি আটকানো সম্ভব হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এই ভাঙন কবলিত এলাকায় চলাচলের জন্য সকল প্রকার যানবাহন বন্ধ রাখা হয়েছে । কিন্তু গতকাল দুপুরে স্থানটির প্রায় ৫০/৬০ হাত ভেড়ীবাঁধ এলাকা ছাপিয়ে জোয়ারের পানি লোকালয়ে প্রবেশ করেছে। তাৎক্ষণিক বস্তায় মাটি ভরাট করে পানি আটকানো হয়েছে। জরুরী ভিত্তিতে বাঁধ রক্ষা না হলে এই এলাকার ৪/৫টি গ্রাম যে কোন মুহূর্তে  প্লাবিত হবে। ফলে চলতি মৌসুমের আমন ধানের পাশাপাশি মৎস্য সম্পদের মারাত্মক ক্ষতি হবে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের আমাদী সেকশন কর্মকর্তা সেলিম হোসেন বলেন, ভাঙনের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে প্রাথমিকভাবে এলাকবাসীকে সাথে নিয়ে ভাঙনরোধে কাজ শুরু করা হয়েছে। 

উপজেলা নির্বাহী অফিসার শিমুল কুমার সাহা বলেন, গাব্বুনিয়া ভেড়ীবাঁধের বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষসহ জেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে। জরুরী ভিত্তিতে ভাঙনরোধে কাজ করা হবে বলে তিনি জানান।

 

১৫ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০১:৩১