আগৈলঝাড়ায় নির্বিচারে শামুক আহরণ, পরিবেশ হারাচ্ছে ভারসাম্য
তপন বসু, বরিশাল
অ+ অ-প্রিন্ট
বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার কৃষি ও জলাভূমি থেকে নির্বিচারে আহরন করা হচ্ছে শামুক। দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলাগুলোর মাছের ঘেরে বিশেষ করে চিংড়ি মাছের অন্যতম খাবার হিসেবেই শামুক নিধন চলছে। নির্বিচারে শামুক নিধনের ফলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে কৃষি জমিতে পড়ছে এর বিরূপ প্রভাব। দেখার কেউ নেই। 

বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকার প্লাাবিত কৃষি ও জলা ভূমিতে বর্ষা মৌসুমে প্রাকৃতিক ভাবেই জন্মে বিভিন্ন প্রজাতির শামুক। শামুক একটি নিরীহ ও শান্ত জলজ প্রাণী হওয়ায় সহজেই যে কোন লোক শামুক আহরণ করতে পারে। তাই চিংড়ি ঘেরের খাদ্য হিসেবে বিক্রির জন্য এলাকার  লোকজন নির্বিচারে শামুক আহরণ করছে।  

উপজেলার রাজিহার, বাকাল, আস্কর, বাগধা, কোদালধোয়া, বাশাইল, বাটরা, বাহাদুরপুর, চৌদ্দমেধা বিলসহ বিভিন্ন এলাকার কৃষি ও জলাভূমি থেকে প্রতিদিন গড়ে ২০ টন শামুক আহরণ করে তা ঘের মালিকদের লোকজনের কাছে বিক্রি করা হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে বাড়তি আয়ের জন্য শামুক আহরণ করে বিক্রি করছে অনেক পরিবার।

জানা গেছে, চিংড়ি ঘের মলিকদের লোকজন সকাল ও সন্ধ্যায় শামুক ক্রয় করে তা বিভিন্ন ঘের মালিকদের কাছে বিক্রি করে আসছে। প্রত্যন্ত এলাকা বাটরা ও রামশীল এলাকায় শামুকের বড় পাইকারী অস্থায়ী বাজার বসছে। সেখানে প্রতি কেজি শামুক (খোলসসহ) বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ৩০ টাকায়। 

গ্রামের আহরিত শামুক কিনে বাগেরহাট, খুলনাস দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলীয় বিভিন্ন মাছের ঘের মালিকদের কাছে বিক্রি করছে। পুরো বর্ষা মৌসুম জুড়ে চলে শামুক বেচাকেনা। শামুক আহরণ ও কেনাবেচার জন্য ফড়িয়ারা দাদনও দিয়ে থাকে।

প্রতিদিন ছোট ছোট নৌকায় করে স্থানীয়রা শামুক আহরণ করে স্কুল পড়ুয়া অভাবী কিশোর কিশোরিসহ অনেক পরিবার। তারা সকাল ও বিকেলে শামুক আহরণ করে। কারণ সূর্যের তাপে রোদের সময় শামুক পানির নিচের চলে যায়। 

শামুক আহরণকারীদের কাছ থেকে জানা গেছে, আগে জলাশয়ে প্রচুর শামুক পাওয়া যেত। এখন জমিতে কীটনাশকের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে শামুক আগেরমত বংশ বিস্তার করতে পারছে না। প্রতিদিন তারা শামুক আহরণ করে তা বিক্রি করে ২ থেকে ৩শ টাকা আয় করছে। কোন পূঁজি না খাটিয়ে শামুক আহরণ করা যায় বলে অনেকেই এখন শামুক আহরণ করছে। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চিংড়িঘের মালিক ইত্তেফাককে জানান, মিলের তৈরি ফিস ফিড অপেক্ষা শামুক সুলভ ও মাছের দ্রুত বৃদ্ধিতে সহায়ক বলে তারা এলাকায় শামুক ব্যবসায়িদের দাদন দিয়ে শামুক কিনে থাকেন। আগৈলঝাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. নাসির উদ্দিন বলেন, শামুক পরিবেশ তথা কৃষি ক্ষেত্রে বেশ উপকারী। এলাকার দরিদ্ররা বর্ষা মৌসুমে শামুক আহরণ করে থাকে, তারা জানেনা যে শামুক না থাকলে তা পরিবেশের জন্য কত ক্ষতিকর। শামুক কৃষি জমিতে ফসল বিনষ্টকারী বিভিন্ন পোকা ও পোকার ডিম খেয়ে ফসল সুরক্ষা করে। এতে পরিবেশের ভারসাম্য সুরক্ষিত থাকে। এজন্য শামুক নিধন না করে বরং শামুকের বংশ বৃদ্ধির জন্য সরকারের উদ্যোগ নেয়া উচিত বলেও জানান তিনি। 

 

০৮ আগস্ট, ২০১৮ ০০:৩১:১৮