সুন্দরগঞ্জে পাউবো’র জলাশয় অবৈধভাবে দখল
আবু বক্কর সিদ্দিক, গাইবান্ধা
অ+ অ-প্রিন্ট
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তারাপুর ইউনিয়নের ঘগোয়া মৌজায় অবস্থিত বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)’র  ৭ দশমিক ৮ একর বিশিষ্ট জলাশয়টি কতিপয় স্বার্থান্বেষী ব্যক্তি অবৈধভাবে দখল ভোগ করায় তীরবর্তী বসবাসরত জনগোষ্ঠী ও মৎস্যজীবিরা বঞ্চিত রয়েছেন। 

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, আলোর দিশারী মৎস চাষ প্রকল্প নামে ৫ সদস্য বিশিষ্ট কতিপয় স্বার্থান্বেষী ব্যক্তি জলাশয়টির অবৈধভাবে ভোগদখল করছে। বিষয়টি জানতে  পেয়ে এলাকার সচেতন মহল গত ১৫ জুলাই উক্ত জলাশয়ের তীরবর্তী বসবাসরত স্মার্ট কার্ডধারী মৎস্যজীবি ও জনগোষ্ঠীর সমন্বয়ে ৮৬ সদস্য বিশিষ্ট আলোর দিশারী মৎস্য চাষ প্রকল্প নামে একটি কমিটি গঠণ করে জলাশয়টি লীজ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করেন। উক্ত দিনক্ষণে গঠিত কমিটি পূর্ব আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়াম্যানের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- বজলার রহমান। জলাশয়ের তীববর্তী বসবাসকারী উক্ত ইউপি’র সাবেক সদস্য আজিজুল হক সরকারের সভাপতিত্বে তাঁরই বসত-বাড়িতে উক্ত আলোচনা সভায় এলাকার সর্বস্তরের জনগোষ্ঠী উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা জলাশয়ের সুফলভোগীর অধিকার দাবী করে স্ব-স্ব মতামত সাপেক্ষে এই কমিটি গঠন করেন। তাঁরা সুফলভোগী হিসেবে নিজেদেরকে অধিকার প্রাপ্তির দাবী জানিয়ে কতিপয় স্বার্থান্বেষী ব্যক্তির কবল থেকে অবৈধভাবে দখলকৃত জলাশয়টি মুক্ত করার জন্য পাউবো ও  মৎস্যবিভাগের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। এব্যপারে বৃহষ্পতিবার মোবাইল ফোনে কথা হলে জলাশয়ের তীরবর্তী বসবাসরত স্মার্ট কার্ডধারী মৎস্যজীবি জীতেন চন্দ্র দাস বলেন- ‘আমি যে, পূর্বের একটি কমিটির কোষাধ্যক্ষ পদে আছি; তা আমার জানা নেই। আমার মতো স্মার্ট কার্ডধারী মৎস্যজীবিরা এই জলাশয়ের তীরে বসবাস করলেও আমরা কোনো সুফল ভোগ করি না। আমরা কেউই জানিনা যে, ঐ কমিটিতে আছি। তবে, ওবায়দুর রহমান মিঠুসহ ২/১ জন জলাশয়টি তাদের নিজস্ব বলে দাবী করে দাম্ভিকতা দেখায়। তাদের প্রভাবের কারণে আমরা এই জলাশয়ে গোসল করতেও ভয় পাই। তাই আমরা অন্য পেশায় কোনো রকমে জীবিকা নির্বাহ করে থাকি’। এব্যপারে অনেকবার চেষ্টা করে মোবাইল ফোনে পাওয়া গেলে ওবায়দুর রহমান মিঠুর কাছ থেকে জানতে চাওয়া হলে তিনি আমাদের এ প্রতিনিধিকে  পাল্টা প্রশ্ন করে জানতে চান- ‘আপনি জলাশয় নিয়ে কথা বলার কে? আপনি এ জলাশয়ের ব্যপারে জানতে চাওয়ার কে’? একপর্যায়ে আলোর দিশারী মৎস্য চাষ প্রকল্প নামে ৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির কোষাধ্যক্ষ পদে জীতেন চন্দ্র দাসের নাম ও স্বাক্ষর জালিয়াতিমুলকভাবে ব্যবহার করেছেন। মর্মে অভিযোগ বিষয়ে কমিটির দলপতি ওবায়দুর রহমান মিঠু কোনো মতামত না দিয়ে মোবাইল ফোনের সংযোগ কেটে দেন। এরপর থেকে তাকে আর পাওয়া যায় নি’। এব্যপারে বিভিন্ন সময় মোবাইল ফোনে পৃথক পৃথকভাবে কথা হলে পাউবো’র নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান, সহকারী প্রকৌশলী- মোনায়েম হোসেন ও জেলা মৎস কর্মকর্তা- আব্দুদ দাইয়ান বলেন- বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

 

০৩ আগস্ট, ২০১৮ ০৯:২৮:৪০