১৩ বছরে সুন্দরবনের বাঘ কমেছে এক-চতুর্থাংশ
মাওলা বকস, খুলনা
অ+ অ-প্রিন্ট
বিশ্ব বাঘ দিবস আজ । ২০১০ সাল  থেকে বাংলাদেশে এই দিনটিকে বিশ্ব বাঘ দিবস হিসেবে পালন করা হয়। বাঘ টিকে আছে এমন ১৩টি দেশে বাঘ দিবস পালন করা হয়। এই দিনটিকে ঘিরে বাঘ নিয়ে সচেতনতামূলক বিভিন্ন অনুষ্ঠান-সেমিনার ও আলোচনা সভা হয়। কিন্তু এত কিছুর পরও বাঘের সংখ্যা দিন দিন কমে আসছে। বিশেষ করে সুন্দরবনে গত ১৩ বছর আগে যে বাঘ ছিল, তা এখন এক-চতুর্থাংশে নেমে এসেছে।

রাশিয়ার সেন্টপিটার্সবার্গ শহরে অনুষ্ঠিত প্রথম বিশ্ব বাঘ সম্মেলনে ২০২২ সালের মধ্যে যেখানে বিশ্বে বাঘের সংখ্যা দ্বিগুণ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়, সেখানে সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা কমেই চলেছে। এ অবস্থার মধ্যে সুন্দরবন সন্নিহিত জেলাগুলোসহ সরকারি ও বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠন সভা, সমাবেশ, র‌্যালিসহ নানান কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করছে।

সর্বশেষ ২০১৫ সালের ২৬ জুলাই প্রকাশিত ক্যামেরা পদ্ধতিতে বাঘ গণনার জরিপ অনুযায়ী বাংলাদেশের সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ১শ’ ৬টিতে। অথচ ২০০৪ সালে বন বিভাগ প্রথমবারের মতো বাঘের পায়ের ছাপ গুনে সংখ্যা নির্ধারণ করেছিল ৪শ’ ৪০টি। দুই বছর পর ২০০৬ সালে ক্যামেরা পদ্ধতিতে বাঘ গণনা করে এর সংখ্যা নির্ধারণ করে ২০০টি। সর্বশেষ চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে বাঘ প্রকল্প ক্যামেরা ট্রাপিংয়ের মাধ্যমে বাঘ গণনার কাজ শুরু হয়। মে মাসে মাঠ পর্যায়ের প্রাথমিক কাজ সম্পন্ন হয়। সুন্দরবনের তিনটি অভয়রণ্য এলাকায় গাছে গাছে ক্যামেরা বেঁধে বাঘের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হয়। কিন্তু অদ্যাবদি বনের মধ্যে কতটি বাঘ রয়েছে তা এখনও কোন জরিপ দেখানো হয়নি। 

বাংলাদেশের বাঘ বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে যে সংখ্যক বাঘই থাকুক, দ্রুত এর সংখ্যা কমতে শুরু করেছে। এর কারণ হিসেবে তারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বনের সাথে মানুষের নিষ্ঠুর আচারন ও জলবায়ু পরিবর্তনকেই দায়ী করছেন। জলবায়ুর পরিবর্তনের প্রভাবে একদিকে বন ধ্বংস হচ্ছে, অন্যদিকে ধ্বংস হওয়া এলাকায় নতুন বসতি গড়ে উঠছে। এতে বনের ওপর নিভর্রশীল মানুষের সংখ্যাও বাড়ছে। আর এ কারণে বাঘের স্বাভাবিক চলাচলের স্থান ক্রমে সংকুচিত হচ্ছে। 

সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মোঃ মাহমুদুল হাসান জানান, ২০১৫ সালের সর্বশেষ ক্যামেরা জরিপে দেখা যায়, বর্তমানে সুন্দরবনে ১০৬টি রয়েল বেঙ্গল টাইগার রয়েছে। তবে আশার কথা হচ্ছে, এক মাস ধরে সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক বাচ্চাসহ বাঘিনীদের ঘুরতে দেখা যাচ্ছে বলে জেলেরা জানিয়েছে। বাঘসহ বন্যপ্রাণি রক্ষায় গোটা সুন্দরবন জুড়ে স্মার্ট প্যাট্রোলিং নামে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সার্বক্ষণিক পাহারা চলছে। এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে কয়েক বছরের মধ্যেই বাঘের সংখ্যাও কয়েক গুণ বেড়ে যাবে বলেও জানান এই বন কর্মকর্তা।

২৯ জুলাই, ২০১৮ ২২:২৫:৩৩