বরিশাল সিটি নির্বাচন
আওয়ামী লীগ প্রার্থী সাদিক আবদুল্লাহকে সমর্থন দিলেন এরশাদ
তপন বসু, বরিশাল
অ+ অ-প্রিন্ট
সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহকে সমর্থন দিয়েছে জাতীয় পার্টি (জাপা)। বুধবার জাপার চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ তার দলের পক্ষ থেকে সাদিককে সমর্থন ঘোষণা করেন। এরশাদের ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারী খন্দকার দেলোয়ার হোসেন জালালী স্বাক্ষরিত এক বার্তায় এ তথ্য জানা গেছে। জাপার মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার বরিশাল মহানগর ও জেলা কমিটির সর্বস্তরের নেতাকর্মীকে নৌকা প্রতীকের পক্ষে একযোগে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি (জাপা মহাসচিব) জানান, একটি আধুনিক বরিশাল সিটি কর্পোরেশন বিনির্মাণ এবং দক্ষিণাঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নে পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের এই সিদ্ধান্তে বিভ্রান্তির কোনো অবকাশ নেই। বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে নৌকা মার্কার প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহকে বিজয়ী করতে জাপা নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে আওয়ামী লীগের পাশে থেকে কাজ করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার এমপি।

নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ করতে বিএনপি মিথ্যাচার করছেঃ আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা মার্কার মেয়র প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ জানান, বরিশালে খুবই সুন্দর নির্বাচনী পরিবেশ বিরাজ করছে। এখনও কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। আমরা আশা করছি বরিশালে সুষ্ঠু পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তিনি আরও বলেন, বিএনপির প্রার্থী নির্বাচন সুষ্ঠু না হওয়ার আশঙ্কাসহ প্রচার-প্রচারণায় বাঁধা দেয়ার মিথ্যা নাটক করছে। এটা তাদের পুরনো অভ্যাস। মূলত নৌকার পক্ষে গণজোয়ার দেখে বিএনপির প্রার্থী নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে এসব মিথ্যাচার করছে। সাদিক আব্দুল্লাহ আরও বলেন, ইনশআল্লাহ ৩০ জুলাইয়ের নির্বাচনে নগরবাসী উন্নয়নের নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নৌকা মার্কাকে বিজয়ী করবেন।

বিএনপি প্রার্থীর বিজয় সুনিশ্চিতঃ সিটি নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী মজিবর রহমান সারোয়ারের পক্ষে এক পথসভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থা উন্নয়নের জন্যই বিএনপি সিটি নির্বাচনগুলোতে অংশগ্রহণ করেছে। বিএনপির নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার মূল লক্ষ্য গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়া। দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে দুদু বলেন, ভোটাধিকার প্রয়োগের মধ্যদিয়েই আমাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আর এতে যদি কোনো বাঁধা আসে সেই বাঁধা ভেঙে ফেলতে হবে। দুদু আরও বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে বরিশালে মজিবর রহমান সারোয়ারের বিজয় সুনিশ্চিত হবে।

অধিকাংশ ভোট কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ ॥ বরিশালের ১২৩টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ১১২টিকেই গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে যা সাধারণভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে পরিচিত। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের নগর বিশেষ শাখা (সিটিএসবি) এই তালিকা তৈরি করেছে। তালিকায় গুরুত্বপূর্ণ এবং সাধারণ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র ও সহকারী পুলিশ কমিশনার (ডিবি) নাসির উদ্দিন মল্লিক তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সূত্রমতে, প্রার্থীর বাড়ির পাশে এবং তার প্রভাব বলয়ের মধ্যে থাকা এবং প্রশাসনিক কেন্দ্র থেকে নির্দিষ্ট দূরত্বের কেন্দ্রগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সাধারণ কেন্দ্রের তুলনায় গুরুত্বপূর্ণ বা ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে অতিরিক্ত নিরাপত্তা কর্মীর পাশাপাশি আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বিশেষ নজরদারি থাকবে। গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোকে আবার দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এগুলো হলো ‘গুরুত্বপূর্ণ’ ও ‘অধিক গুরুত্বপূর্ণ’। ৫০টি কেন্দ্রকে ‘অধিক গুরুত্বপূর্ণ’ ও ৬২টি কেন্দ্রকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। নগর বিশেষ শাখার কর্মকর্তারা জানান, তারা সরেজমিন পরিদর্শন করে ভোটার এবং প্রার্থীদের সাথে যোগাযোগ করে প্রতিকূল পরিস্থিতি বিবেচনা করে কেন্দ্রগুলোর গুরুত্ব নির্ধারণ করেছেন। নগর পুলিশের মুখপাত্র ও মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের সহকারী কমিশনার নাসির উদ্দিন মল্লিক জানান, প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ এবং অধিক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে দুইজন করে আনসার সদস্য বেশি থাকবেন। সে হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ও অধিক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে ২৪ জন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য থাকবেন। আর সাধারণ কেন্দ্রে এই সংখ্যা হবে ২২ জন। যারা ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করবেন তাদের মধ্যে একজন এসআই, একজন এএসআই, পাঁচজন পুলিশ সদস্য, একজন পিসি, একজন এপিসি ও তিন জন ব্যাটালিয়ন আনসার। তারা সবাই অস্ত্রধারী থাকবেন। পাশাপাশি সাত জন পুরুষ ও পাঁচজন জন নারী আনসার সদস্য থাকবেন। এরা লাঠি হাতে দায়িত্ব পালন করবেন।

 

২৬ জুলাই, ২০১৮ ০৬:২৩:১০