সুন্দরগঞ্জে অধ্যক্ষ কর্তৃক তথ্য কমিশনের আদেশ ফের অমান্য, অতঃপর...
আবু বক্কর সিদ্দিক, গাইবান্ধা
অ+ অ-প্রিন্ট
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার শোভাগঞ্জ ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ দেলওয়ার হোসেন নূরী তথ্য কমিশনের আদেশ ফের অমান্য করেছেন। 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ১০ জুলাই ঢাকাস্থ আগারগাঁও তথ্য কমিশনে ১৮৩/২০১৮ নম্বর অভিযোগ শুনানী হয়। এ সময় নানান মিথ্যা বলেও ব্যর্থ হয়ে সাংবাদিক আবু বক্কর সিদ্দিকের চাহিত তথ্য প্রদানে ব্যর্থতার স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। পক্ষান্তরে সাংবাদিক তাঁর চাহিত তথ্য প্রাপ্তি, পূর্বের ২৯৫/২০১৭ নং অভিযোগের প্রেক্ষিতে অস্পষ্ট, বিভ্রান্তিকর, অসম্পন্ন, আংশিক অপ্রযোজ্য তথ্য প্রদানের নামে প্রতারণা করা ছাড়াও তথ্যের মূল্য (ফটোঃ কপি বাবদ) অতিরিক্ত টাকা জমাদানে বাধ্য করার ব্যাপারে ন্যায় বিচার প্রর্থনা করেন। উভয় পক্ষের শুনানীঅন্তে পরবর্তী ৭ দানের মধ্যেই সরাসরি চাহিত তথ্য প্রদান করে সাংবাদিককে হয়রাণী না করার জন্য আদেশ প্রদান করেন- প্রধান তথ্য কমিশনার মরতুজা আহমদ। এ সময় ছিলেন- তথ্য কমিশনার- নেপাল চন্দ্র সরকার, সুরাইয়া আক্তার ও গবেষণা কর্মকর্তা- রাবেয়ে বেগম। কিন্তু, সে সময়সীমা অতিক্রম হলেও সাংবাদিককে তাঁর চাহিত তথ্য না দিয়ে তথ্য কমিশনের আদেশ ফের অমান্য করেছেন অধ্যক্ষ।  অধ্যক্ষ দেলওয়ার হোসেন নূরী গত ১৫ জানুয়ারী পূর্ব নম্বর বিশিষ্ট অভিযোগের প্রেক্ষিতে শুনানীর পর ক্ষমা চেয়ে ১৫ দিনের মধ্যে সাংবাদিককে তাঁর চাহিত তথ্য দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ১৫ দিনের সময় চেয়ে নিয়ে ১ম বারের মত তথ্য কমিশনের আদেশ অমান্য করেছিলেন। 

এদিকে, অধ্যক্ষ নূরী বিগত ১৩ মার্চ সুন্দরগঞ্জ আসনের উপ-নির্বাচন পূর্ব ২৬ ফেব্রুয়ারী (সোমবার) সন্ধ্যায় স্থানীয় নাগরিক সমাজ’র আয়োজনে শোভাগঞ্জ মাধ্যমিক ভোকেশনাল স্কুল এন্ড কলেজ প্রাঙ্গণে প্রতিষ্ঠানটির  সুপারিন্টেন্ডেন্ট মোজাম্মেল হকের সভাপতিত্বে  জনতার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বী ৪ প্রার্থীর মূখোমূখী ও টক-শো অনুষ্ঠানে অযাচিতভাবে মঞ্চে উঠেই পূর্বানুমতি ছাড়াই উপস্থাপকের আব্রাহাম লিংকন নির হাত থেকে মাইক্রোফোণ নিয়েই উস্কানীমুলক আপত্তিকর বক্তব্য দিতে থাকলে উপস্থিত জনতা বিক্ষুব্ধ হয়ে তাকে গণধোলাই দেন। আব্রাহাম লিংকন রনির উপস্থাপনা ও পরিচালনায় এ অনুষ্ঠানে স্থানীয়ভা সচেতন নাগরিক হিসেবে ১০ জনের একজন ছিলেন- সুন্দরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাব'র সভাপতি সাংবাদিক আবু বক্কর সিদ্দিক। সেখান থেকে পালিয়ে রেহাই পান অধ্যক্ষ নূরী। এতে হতভম্বিত হয়ে পড়েন আয়োজক, সচেতন নাগরিক, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী উপস্থিত ৩ প্রার্থী, নেতা- কর্মী, সমর্থক ও জনতা। বিষয়টি জানতে পেয়ে তৎকালীণ থানা অফিসার ইনচার্জ- আতিয়ার রহমানের নির্দেশে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছার আগেই অধ্যক্ষ পালিয়ে যায়। এর আগে গত ২৯ জানুয়ারী উক্ত শোভাগঞ্জ মাধ্যমিক ভোকেশনাল স্কুল ও বিএম কলেজ মাঠে প্রতিষ্ঠানটির ছাত্র- ছাত্রীদের পূণর্মিলনী, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অধ্যক্ষ নূরী সাংবাদিকদের প্রতিহত করতে চেয়ে অপ্রাসঙ্গীক ও উস্কানীমুলক বক্তব্য দেতে থাকলে তাকে বিক্ষুব্ধ জনতা চরমভাবে লাঞ্চিত করেন। ঘোড়ামারা আজিজের দোসর এ অধ্যক্ষ বিভিন্ন সময় কলেজে চাকরী বাণিজ্য নিয়ে লাঞ্চিত ও অবরোধের মূখে পড়েছেন বলে জানা গেছে।

 

২৫ জুলাই, ২০১৮ ১১:৪৪:১৮