গাইবান্ধায় চেয়ারম্যানের অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে ইউপি সদস্যদের সংবাদ সম্মেলন
গাইবান্ধা প্রতিনিধি
অ+ অ-প্রিন্ট
গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার পবনাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ আলম মন্ডলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে গতকাল বৃহস্পতিবার গাইবান্ধা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ১০ জন ইউপি সদস্য। এ নিয়ে গত ৫ জুলাই লিখিত অভিযোগসহ গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক, জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার শাখার উপ-পরিচালক ও পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর ১০ জন ইউপি সদস্য অনাস্থা প্রস্তাব দাখিল করেছেন। 

লিখিত বক্তব্যে ইউপি সদস্যরা উল্লেখ করেন, শাহ আলম মন্ডল বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত। তিনি পবনাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতি এবং ব্যাপক স্বেচ্ছাচারিতায় জড়িয়ে পড়েন। তার অনিয়মের কারণে পবনাপুর ইউনিয়ন পরিষদের নিয়মতান্ত্রিক কার্যক্রম এবং উন্নয়ন প্রকল্পসমূহের কর্মকান্ড স্থবির হয়ে পড়ে। তিনি পরিষদের সভা আহবান না করেই পরিষদের সিদ্ধান্ত ছাড়াই নিজের ইচ্ছামতো বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং সকল কার্যক্রম মনগড়াভাবে চালিয়ে যাচ্ছেন। 

পবনাপুর মহিলা কলেজের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হওয়ায় ওই কলেজের নামে প্রকল্প দেখিয়ে সমুদয় অর্থ আত্মসাৎ করেন তিনি। ইউনিয়ন পরিষদের দুটি ব্যাংক হিসাব থাকলেও ইউনিয়নের হোল্ডিং ট্যাক্স, জন্ম নিবন্ধন ও ট্রেড লাইসেন্স ফি, হাট বাজার ইজারা আদায়ের অর্থ ওই হিসাবে জমা না রেখে তা আত্মসাৎ করা হয়। গতবছর বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাঘাট মেরামতের জন্য উপজেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ বিভাগের বরাদ্দ দেয়া ১ লাখ ২৩ হাজার টাকার কোনো কাজ না করেই টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেন চেয়ারম্যান। 

এছাড়াও গত দুই বছর যাবৎ ইউপি সদস্যদের পরিষদ থেকে সম্মানী ভাতা দেয়া হয় না, দফাদার নিয়োগের রেজুলেশন না করা, দুস্থমাতার চালের বস্তা কেটে চাল কম দেয়া, পরিষদের জন্য সরকারি অর্থ স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে উত্তোলন ও খরচ, জাতীয় দিবসসহ বিভিন্ন দিবস যথাযথভাবে পালন না করা, ইউনিয়ন পরিষদের তহবিল থেকে জামায়াত ও বিএনপিকে অর্থ যোগান দেয়ার বিভিন্ন কার্যক্রম বেআইনীভাবে প্রতিনিয়িতই করে আসছেন। তিনি নিয়মিত পরিষদে উপস্থিত থাকেন না। 

ইউনিয়ন পরিষদের বাকি সদস্যদের স্বাক্ষর জাল করে সব কাজ করেন। বিরোধীদলের সাথে সম্পৃক্ততা থাকার কারণে ওই চেয়ারম্যান সরকারি ১০ টাকা মূল্যের চাল দুঃস্থদের মধ্যে বিতরণ না করে ফেরত প্রদান, ইচ্ছাকৃতভাবে সরকারি উন্নয়নমূলক কাজ না করাসহ জনকল্যাণমূলক কাজ থেকে বিরত থেকে নানা অপকর্ম সুপরিকল্পিতভাবে সম্পন্ন করে জনগণকে এবং নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের নানাভাবে হয়রানী করছেন। 

এর ফলে প্রতিকার চেয়ে ইউপি সদস্য জুই বেগম, শাহানাজ পারভীন, আলেফা বেগম, আলতাব হোসেন, কে এম জিয়াউর রহমান জিন্না, জিয়াউর রহমান, আব্দুল কুদ্দুস, মশিউর রহমান, আমজাদ আলী শেখ ও নুরুল ইসলাম অনাস্থা প্রস্তাবসহ গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক, জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার শাখার উপ-পরিচালক ও পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। 

 

১৯ জুলাই, ২০১৮ ২৩:৪৮:২৩