আগৈলঝাড়ায় বাকপ্রতিবন্ধি কিশোরী ধর্ষণ, আদালতে ধর্ষিতার জবানবন্দি
তপন বসু, বরিশাল
অ+ অ-প্রিন্ট
আগৈলঝাড়ায় বাক প্রতিবন্ধি কিশোরীকে ধর্ষণ, অন্তঃসত্বা, অবৈধ গর্ভপাত ঘটনোর ও শালিশ ব্যবস্থা করার ঘটনায় অবশেষে ধর্ষিতা কিশোরির মা বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছে। 

বিচার আশায় দ্বারে দ্বারে ঘুড়ে ভুক্তভোগী প্রতিবন্ধির অসহায় পরিবারের সংবাদ বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশের পর পুলিশের সহযোগীতায় অবশেষে ধর্ষিতার মা বাদি হয়ে সোমবার সকালে আগৈলঝাড়া থানায় মামলা দায়ের করেন, নং-৪(৯.৭.১৮)। 

মামলা দায়েরের পর গতকাল মঙ্গলবার ধর্ষিতা কিশোরী আদালতে জমানবন্দি প্রদান করেছে। অসহায় ও হতদরিদ্র প্রতিবন্ধি পরিবারটি মামলা পরিচালনার জন্য মানবাধিকার সংগঠন, আইনসহায়তা ও নারী সংগঠনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক মোল্লা বাদীর এজাহারের বরাত দিয়ে জানান, উপজেলার দক্ষিণ মোল্লাপাড়া গ্রামের বাক প্রতিবন্ধি কিশোরীর (১৫) মা ও মামলার বাদি গত ১৪ মার্চ তার বোনের বাড়িতে বেড়াতে যায়। ওই দিন রাতে তার মেয়ে পাশের বাড়ি থেকে টিভি দেখে বাড়ি ফেরার পথে মৃত নকুল সরকারের পুত্র সুনীল সরকার (৫৫) বাক প্রতিবন্ধি কিশোরীকে একা পেয়ে টেনে হিঁচড়ে পুকুর পারে নিয়ে জোর পূর্বক ধর্ষণ করে। ধর্ষণ শেষে ঘটনা কাউকে না বলার জন্য সুনীল কিশোরীকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি দেখিয়ে শাসিয়ে দেয়। ধর্ষণের ফলে কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পরে। বাদি তার মেয়েকে অন্তঃসত্ত্বার বিষয় জানতে চাইলে তাকে ধর্ষণের ঘটনা জানায়। এ ঘটনায় ধর্ষক সুনীলের ভাই বিমল সরকার ও তার পুত্র কমল সরকারের কাছে জানালে তারা উক্ত ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করে। ধর্ষক সুনীলের ভাই বিমল কিশোরীর সহজ সরল মা’কে তিনশ টাকা দিয়ে গর্ভপাতের জন্য হুমকী দেয়। হুমকির মুখে বাদি ও তার বৃদ্ধা শ্বাশুড়িসহ গত ৩জুন অন্তঃসত্ত্বা প্রতিবন্ধি কিশোরীকে নিয়ে মেয়েকে সাহেবেরহাট জিজাস মেডিকেল হলের মালিক পল্লী চিকিৎসক বাদল চক্রবর্তীর কাছে নিয়ে যায়। বাদল চক্রবর্তী ঔষধের মাধ্যমে ৪জুন কিশোরীর গর্ভপাত ঘটায়। অবৈধ গর্ভপাত ঘটানোর ফলে প্রচুর রক্তক্ষরণে কিশোরী অসুস্থ হয়ে পরে। 

এঘটনায় ৫নং রতœপুর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের সদস্য চিত্ত সমদ্দার, সংরক্ষিত মহিলা-২ ওয়ার্ডের নারী সদস্য লিলি হাওলাদার, ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সোহরাব হোসেন হাওলাদারসহ অন্যান্যরা স্থানীয় মিরন চৌধুরীর বাড়িতে এক শালিস বৈঠক বসে। উক্ত সালিসরা ভুক্তভোগী কিশোরীর পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা নিয়ে একদম চুপ থাকতে বলেন। কিন্তু শালিস বিচারের ধার্য করা ওই টাকা নির্যাতিতার পরিবারকে না দিয়ে ধর্ষক, তার পরিবারবর্গ ও আত্মীয় স্বজন নানা ধরনের ভয়ভীতিসহ জীবন নাশের হুমকি দেয়। ধর্ষণ ও শালিশ বৈঠকসহ সকল ঘটনা ৫নং রতœপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোস্তফা সরদারকে জানায় কিশোরীর পরিবার। 

জিজাস মেডিকেল হলের মালিক পল্লী চিকিৎসক বাদল চক্রবর্তী গর্ভপাত ঘটনানোর সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘অসহায় প্রতিবন্ধি পরিবারটির দিকে তাকিয়ে আমি ঔষধ খেতে দিয়েছি।’ 

অভিযোগের ব্যাপারে অভিযুক্ত সুনীল সরকার ফোনে বলেন, ‘শালিসদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক ২৫ হাজার টাকা নিতে প্রতিবন্ধি পরিবারের বংশের দুইজন গন্যমান্যকে নিয়ে আসতে বলেছিলাম। তারা বংশের কাউকে আনতে না পারায় আমি টাকা দেয়নি। 

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও আগৈলঝাড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) খন্দকার আবুল খায়ের বলেন, ধর্ষিতা কিশোরীর আদালতে জবানবন্দি সম্পন্ন হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারের জন্য জোর প্রচেষ্টা চলছে।

গৌরনদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আব্দুল রব হাওলাদার বলেন, এ ঘটনাটি খুবই অমানবিক। অসহায় পরিবারটি যাতে আইনি সহযোগীতাসহ আর্থিক সুবিধা পায় সে জন্য তিনি ব্যবস্থা নেবেন বলেও জানান। 

 

 

 

 

১১ জুলাই, ২০১৮ ১১:৩৪:২২