কেশবপুরে চাঞ্চল্যকর আতাউর হত্যা মামলায় ৮ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল
জাহিদ আবেদীন বাবু, কেশবপুর(যশোর)
অ+ অ-প্রিন্ট
যশোরের কেশবপুরে চাঞ্চল্যকর ঘের কর্মচারী আতাউর রহমান হত্যার ঘটনায় ৮ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশীট দাখিল করা হয়েছে। এ মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা থানার উপ-পরিদর্শক ফকির ফেরদৌস হোসেন দীর্ঘ ৯ মাস তদন্ত শেষে গত ৪ জুলাই এ চার্জশীট দাখিল করেন। 

জানা গেছে, উপজেলার পাঁজিয়া ইউনিয়নের মনোহরনগর গ্রামের বাবুর আলী সরদারের ছেলে কৃষক আতিয়ার রহমান বিভিন্ন জায়গা থেকে মাছের খাদ্য হিসেবে শেওলা সংগ্রহ করে প্রতি নৌকা ১‘শ টাকা দরে ঘের মালিক একই গ্রামের মানিক সরদারের ছেলে আবদুর  রাজ্জাক সরদারের মৎস্য ঘেরে বিক্রি করতো। ২০১৭ সালের ৩ অক্টোবর সকালে আতাউর রহমান শেওলা সংগ্রহ করতে বের হয়। দুপুর গড়িয়ে গেলেও সে বাড়িতে না ফেরায় তার পরিবারের লোকজন তাকে খুঁজতে থাকে। অবশেষে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তার লাশ আবদুর রাজ্জাক সরদারের মৎস্য ঘেরের পূর্বপাশের ভেড়ির পানিতে উপুড় করা অবস্থায় দেখা যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মর্গে প্রেরণ করে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই সোহরাব হোসেন বাদি হয়ে অজ্ঞাতনামাদের আসামী করে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। যার নং-৪/১৭। পুলিশ সন্দিগ্ধভাবে ঘের মালিক আবদুর রাজ্জাক সরদার ও হাফিজুর রহমানকে আটক করে রিমান্ডে আনলেও তাদের কাছ থেকে কোন ক্লু উদ্ধার করতে ব্যর্থ হয়।

এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক ফকির ফেরদৌস হোসেন বলেন, ময়না তদন্ত রিপোর্টে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রমাণিত হয়। এ হত্যার রহস্য উদঘাটনে দীর্ঘ ৯ মাস প্রকাশ্যে ও গোপনে তদন্ত করা হয়। অবশেষে ঘের মালিক আবদুর রাজ্জাক সরদারের স্ত্রী জেসমিন বেগম আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে হত্যার কাহিনী খুলে বলেন, তারই স্বীকারোক্তিতে উপজেলার মঙ্গলকোট গ্রামের মৃত- মকছেদ গাজীর ছেলে আবদুস সাত্তার (৫২), মনোহরনগর গ্রামের আলাউদ্দিনের ছেলে ফিরোজ হোসেন (২৮), মৃত মানিক সরদারের ছেলে, আবুল হাসেম সরদার (৫০) ও আবদুর রাজ্জাক (৩৮), মৃত নওয়াব আলীর ছেলে হাফিজুর রহমান (৪৬),  ইনছার আলীর ছেলে রাশেদ হোসেন (২৩), আবুল হাসেম সরদারের স্ত্রী নার্গিস বেগম (৪২), আবদুর রাজ্জাক সরদারের স্ত্রী জেসমিন বেগম (২৮) দের বিরুদ্ধে অভিযুক্ত করে যশোর আদালতে চার্জশীট দাখিল করা হয়েছে বলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক ফকির ফেরদৌস হোসেন জানান। 

 

০৭ জুলাই, ২০১৮ ০০:২৯:৩১