বরিশালে খাল দখল করে দেড় শতাধিক দোকানপাট নির্মাণ
তপন বসু, বরিশাল
অ+ অ-প্রিন্ট
জেলার গৌরনদী উপজেলার জনগুরুত্বপূর্ন বাটাজোর-আগরপুর খালের প্রায় আধাকিলোমিটার অংশ দখল করে প্রায় দেড়শতাধিক দোকানপাট নির্মাণ করেছেন প্রভাবশালীরা। খালের মধ্যে অবৈধভাবে গড়ে তোলা হয়েছে অসংখ্য পাকা আধাপাকা স্থাপনা। যে কারণে একসময়ের খরস্রোতা পাঁচ কিলোমিটারের লম্বা খালটি শুকিয়ে এখন মরা খালে পরিনত হয়েছে। ফলে বোরো চাষ ব্যহত হয়ে বিপাকে পরেছেন এলাকার কয়েক হাজার চাষী।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার কারণে গত কয়েক বছরে সরকারী খালের প্রায় আধা কিলোমিটার এলাকা দখল হয়ে গেছে। এ খাল দিয়ে এখন আর পন্যবাহী নৌযান চলাচল করতে পারেনা। এছাড়া খালটি দখল হওয়ার কারণে খননও করা যাচ্ছেনা। সরেজমিনে দেখা গেছে, বাটাজোর বন্দরের পশ্চিম পাশের মহাসড়ক সংলগ্ন খালটির দু’পাশে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে প্রায় অর্ধশতাধিক দোকানপাট নির্মাণ করা হয়েছে। খালটি দখলের উদ্দেশ্যে ময়লা আবর্জনা ফেলে খালের একাংশ ভরাট করা হয়েছে। ওই খালের পূর্বপাশের টেম্পু ষ্ট্যান্ড থেকে শুরু করে পূর্বদিকে খাল দখল করে একইভাবে গড়ে উঠেছে প্রায় ৪০টি দোকানপাট। একই খালের চন্দ্রহার বাজার এলাকায় খাল দখলের মহোৎসব চলছে। ওইস্থানে (চন্দ্রহার বাজার এলাকায়) প্রায় ৬০টি, মধ্য চন্দ্রহারে সাতটি ও সাকোকাঠী টেম্পুষ্ট্যান্ডে ছয়টি ও একই খালের শরিকল খালের মোহনায় সাতটি পাকা-আধাপাকা স্থাপনা তৈরী করা হয়েছে। এখনও দখল প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জনগুরুত্বপূর্ন এ খালটি দখল মুক্ত করার জন্য বাটাজোর ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুর রব হাওলাদারসহ স্থানীয়রা গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিতভাবে আবেদন করেও কোন প্রতিকার পাননি।

এ ব্যাপরে গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার খালেদা নাছরিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বাটাজোর-আগরপুর খালটি দখলমুক্ত করার জন্য বেশ কয়েকটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে সরকারী নানাকাজে ব্যস্ত থাকার কারণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বিলম্ব হ্েচ্ছ। খুব শীঘ্রই অভিযান চালিয়ে সকল দখলদারদের উচ্ছেদ করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

 

 

২৬ এপ্রিল, ২০১৮ ২৩:০৮:২৪