দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহৎ স্নানোৎসব ও পাঁচ দিনের বারুণী মেলা
তপন বসু, গোপালগঞ্জের ওড়াকান্দি থেকে
অ+ অ-প্রিন্ট
আন্তর্জাতিক মতুয়া মিশন প্রতিষ্ঠাতা শ্রী শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুরের ২০৭তম জন্মতিথী উৎসব উপলক্ষে গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী উপজেলার ওড়াকান্দি গ্রামে স্নানোৎসব ও মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে।   

হরিচাঁদ ও গুরুচাঁদ ঠাতুরের উত্তরসূরী ও বর্তমান মিশন প্রধান শ্রী পদ্মনাভ ঠাকুর জানান, ১২১৮ সালের ফাল্গুন মাসের মধুকৃষ্ণা ত্রয়োদশী তিথীর ব্রহ্মমুহূর্তে গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী উপজেলার সাফলীডাঙ্গা গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন হরিচাঁদ ঠাকুর। বাবা যশোবন্ত ঠাকুরের পাঁচ ছেলের মধ্যে হরিচাঁদ ছিলেন দ্বিতীয়। ছোটবেলা থেকেই তার অলৌকিকত্ব ও লীলার জন্য তিনি পরিচিত হয়ে ওঠেন। এক সময়ে তার পরিচিতি ওড়াকান্দি গ্রাম ছাপিয়ে ক্রমেই চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। শ্রীধাম ওড়াকান্দি এখন সারা দেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছে তীর্থস্থানে পরিণত হয়। ৬৬ বছর বয়সে ১২৮৪ বঙ্গাব্দে জন্ম দিবসের একই তিথীতে হরিচাঁদ ঠাকুর ইহলোকের মায়া ত্যাগ করে পরলোকে গমন করেন। তার আগমনের বছর থেকে বাংলা একটি বছরের গননা শুরু হয়। যা “হরিঅব্দ” সন হিসেবে গনণা হয়ে আসছে। কালক্রমে ওড়াকান্দি গ্রামের পরিচিতি হয়ে ওঠে “আন্তর্জাতিক মতুয়া মিশন” প্রধানের চারণ  ভূমিতে।দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহৎ স্নানোৎসব ও পাঁচ দিনের বারুণী মেলা
    

হরিচাঁদ ঠাকুরের উত্তরসূরী হেমাংশুপতি ঠাকুর, অমিতাভ ঠাকুর ও পদ্মনাভ ঠাকুর কামনা ও শান্তি সাগরে (দুটি পুকুর) স্নানের মধ্য দিয়ে মধুকৃষ্ণা এয়োদশীর পূণ্যলগ্নের স্নান সম্পন্ন করেন ভক্তরা। এর আগে ঠাকুর পরিবার ওই স্নানোৎসবের উদ্বোধন করেন। বৃহস্পতিবার দিনব্যাপি চলে স্নানোৎসব। এ উপলক্ষে ওড়াকান্দি ঠাকুর বাড়ির অন্তত ১৫বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রসহ হরেক রকমের বাহারী সাজে সজ্জিত হয়ে দোকানীরা পসরা সাজিয়ে বসে পাঁচ দিনের মেলায়।

জাতি, ধর্ম ও ধনী-দারিদ্রতার উর্ধে উঠে আন্তর্জাতিক মতুয়া মিশন প্রধান ওড়াকান্দি গ্রামের এই মন্দিরে সমবেত হয়েছিল দেশ বিদেশের লাখ লাখ মতূয়া ভক্ত ও হরিচাঁদ-গুরুচাঁদ ঠাকুরের শিষ্য ও অনুসারীরা। তারা নিরোগ দেহ প্রাপ্তি, বিভিন্ন মানতের প্রাপ্তি ও আগাম মানতের আশায় পূণ্য তিথীতে মহা বারুনী স্নান সম্পন্ন করেন। পুলিশ ও বিভিন্ন আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি মতুয়া মিশনের স্বেচ্ছাসবকরা নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করেন। স্নানোৎসব উপলক্ষে মহাবারুনী মেলায় কুঠির শিল্প সামগ্রী, বিভিন্ন খেলনা, মাটির তৈজসপত্র, খাদ্য সামগ্রী, পুতুল-নাচ, নাগরদোলাসহ শিশু বিনোদনের জন্য ছিল নানা আয়োজন।দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহৎ স্নানোৎসব ও পাঁচ দিনের বারুণী মেলা

সংশ্লিষ্ঠ সূত্র মতে, দেশের বিভিন্ন স্থানসহ ভারত, নেপাল এবং শ্রীলংকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতুয়া ভক্তরা ওড়াকান্দি ধামের এই স্নানোৎসবে যোগ দিয়েছেন। ভক্তরা হাতে বিজয় ও সত্যের লাল নিশান এবং ডংকা (বড় ঢোল) বাজিয়ে উলু ধ্বনি দিয়ে দলে দলে শতশত মাইল পথ অতিক্রম করে মতুয়া অনুসারীরা পায়ে হেঁটে, নৌ-পথে ও গাড়িতে চড়ে আসে এই তীর্থ ভূমি শ্রীধাম ওড়াকান্দিতে। ভক্তরা তাদের কামনা ও শান্তি সাগরে (পুকুরের নাম) স্নানের মধ্য দিয়ে নিজেদের তথা দেশ ও বিশ্বের সকল জীবের শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ প্রার্থণা করেন।

 

 

 

 

১৬ মার্চ, ২০১৮ ১১:০৯:১৮