রাজবাড়ীতে স্ত্রীকে মেরে স্বামীর আত্মহত্যা
রাজবাড়ী প্রতিনিধি
অ+ অ-প্রিন্ট


রাজবাড়ীর পাংশায় স্ত্রীকে মেরে স্বামী আত্মহত্যা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনার পর নিজ ঘর থেকে স্বামী-স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত গৃহবধূ ঝর্না বেগম ও স্বামী মো. দেলবর আলী।  রোববার সকাল ১১টার দিকে উপজেলার মাছপাড়া ইউনিয়নের মেঘনা খামারপাড়া গ্রাম থেকে পুলিশ মরদেহ দুটি উদ্ধার করে। পুলিশ ধারণা করছে, পারিবারিক কলহের জের ধরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যার পর স্বামী নিজে গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করেছে।

দেলবরের প্রতিবেশী ও স্থানীয় মাছপাড়া ইউপি সদস্য মো. নজরুল ইসলাম জানান, দেলবর ও ঝর্না বেগমের পাঁচ ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। ছেলেরা কেউ বাড়িতে থাকেন না। ১১ বছর বয়সী মেয়ে থাকে পাশের বাড়িতে। ঝর্না দুবাই প্রবাসী ছিলেন। ছয়মাস আগে তিনি বাড়িতে ফিরে আসেন। এর কয়েকদিন পর তিনি বরিশালে তার এক আত্মীয়ের বাড়িতে রান্নার কাজ নেন। ঝর্নার এ কাজে রাজি ছিলেন না তার স্বামী দেলবর। দেলবরের সন্দেহ ছিল ওই ব্যক্তির সঙ্গে ঝর্নার পরকীয়া সম্পর্ক রয়েছে। এই নিয়ে মাঝেমধ্যেই তাদের ঝগড়া লেগেই থাকতো।

কয়েকদিন আগে ঝর্না বাড়িতে এলে দেলবর তাকে বরিশালে যেতে নিষেধ করেন। কিন্তু ঝর্না তার কথা না শুনে বরিশাল যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে গত পাঁচ-ছয়দিন ধরে কথা কাটাকাটি চলছিল।

নিহত ঝর্নার মেয়ে রাবেয়া জানায়, তার মা বরিশাল থেকে বাড়ি ফিরলেও সংসারের কাজ ফেলে সব সময় মোবাইলে কথা বলায় ব্যস্ত থাকতো। এ নিয়ে বাবার সাথে প্রায়ই ঝগড়া হতো। গত রাতে ঘটনার সময় রাবেয়া পাশের বাড়িতে ঘুমিয়েছিল।

রবিবার সকালে মেয়ে রাবেয়া দরজা খুলতে বললে দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর দরজা না খোলায় বেড়ার নিচ দিয়ে দেখতে পান ঝর্না বেগমের মরদেহ বিছানায় পড়ে আছে। আর ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলে আছে বাবা দেলবর আলীর মরদেহ। পরে পুলিশে খবর দেয়া হয়।

নজরুল ইসলাম আরও বলেন, রোববার সকাল ৮টার দিকে তাদের মেয়ে ঘুম থেকে উঠে পাশের বাড়ি থেকে নিজেদের বাড়িতে এসে দেখে ঘরের দরজা বন্ধ। এসময় তার বাবা-মাকে ডাকাডাকি করলে ঘরের দরজা না খোলায় সে জানালা দিয়ে উঁকি দেয়। এসময় তার বাবা মায়ের মরদেহ দেখে চিৎকার দেয়। চিৎকার শুনে আমরা এসে দেখি ঝর্নার রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে আছে। তার ঘাড়ে ধারালো অস্ত্রের তিনটি কোপের চিহ্ন রয়েছে। এদিকে, দেলবরের মরদেহ ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলছে। এ দৃশ্য দেখে তাৎক্ষণিক আমি থানায় ফোন করি।

রাজবাড়ীর সহকারী পুলিশ সুপার (পাংশা সার্কেল) মো. ফজলুল করিম জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পারিবারিক কলহের জের ধরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। মরদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজবাড়ী মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার কারণ উদঘাটনে পুলিশ তদন্ত করছে।


১১ মার্চ, ২০১৮ ২০:১৪:০৮