মহাদেবপুরে লক্ষমাত্রার চেয়ে দ্বিগুণ জমিতে ভুট্টা চাষ, বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা
মেহেদী হাসান, মহাদেবপুর (নওগাঁ)
অ+ অ-প্রিন্ট
দেশের উত্তর জনপদের খাদ্য ভান্ডার হিসেবে খ্যাত নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলায় ব্যাপক ধান চাষের পাশাপাশি লক্ষমাত্রার চেয়ে দ্বিগুণ জমিতে ভুট্টা চাষ হয়েছে । উপযুক্ত পরামর্শ ও সঠিক সময়ে বীজ বপন করায় বাম্পার ফলনের সম্ভবনা দেখা দিয়েছে। স্বল্প খরচে অধিক লাভ অল্প পরিশ্রমের কারণে চাষিরা এই ফসল চাষের দিকে ঝুকে পড়ছে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় চলতি রবি মৌসুমে বোরো ধানের পাশাপাশি দিগন্ত জুড়ে ভুট্টা চাষের ডানা মেলছে। কৃষকরা ভাল বাজার দর পেলে এবার ভুট্টা চাষিদের মুখে হাসির ঝিলিক ফুটবে এমনটাই আশা করছেন স্থানীয় কৃষকরা। জেলার অন্যান্য উপজেলার চেয়ে মহাদেবপুর উপজেলায় এবার ভুট্টা চাষের প্রায় শীর্ষ স্থান দখল করে নিয়েছে। মহাদেবপুর  উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসের হিসাব মতে, গত বছর ৫০ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষ হলেও এবছর উপজেলায় প্রায় একশত হেক্টর ধানী জমিতে কৃষকরা ধান চাষ না করে চলতি রবিশস্য মৌসুমে ভুট্টা চাষ করছে। ধান, পাট ও সবজির আবাদ করে কৃষকদের প্রতি মৌসুমে লোকসান হওয়ায় এবং বিগত বছর গুলোতে অনুকুল আবহাওয়া থাকায় ভুট্টার ভাল ফলন ও দাম আসানুরুপ পাওয়ায় এলাকার চাষিরা অন্যান্য ফসলের চেয়ে ভুট্টা চাষের দিকে প্রতি বছরই ঝুকে পড়ছেন কৃষকরা। উপজেলার এনায়েতপুর ইউনিয়নের শেরপুর গ্রামের আলহাজ্ব খোরশেদ আলম, আব্দুস সাত্তার সহ একাধিক ভুট্টা চাষিসহ মহাদেবপুর সদর, খাজুর, হাতুড়, চান্দাশ,সফাপুর,উত্তরগ্রাম,ভিমপুর,রাইগাঁ,চেরাগপুর ইউপির বিভিন্ন ভুট্টা চাষিরা  বলেন, আমরা নিজের সব জমিতেই বোরো ধানের চাষ করতাম। কিন্তু ধানের জমি কিছুটা কমিয়ে ধীরে ধীরে ভুট্টা চাষের দিকে মনোযোগ দিচ্ছি। কারন ভুট্টা চাষে ছেচ,সার, ও পরিচর্যার জন্য লোক কম লাগে এবং অল্প  খরচে অধিন লাভ হয়। গত বছর ভুট্টা উঠার সাথে সাথে আধাশুকনা ভুট্টা কাটা মাড়াই সময়ে উঠান থেকেই ভাল দামে বিক্রয় করেছি। বর্তমানে এলাকায় ভুট্টার আবাদ দিনদিন পাচ্ছে তাই বর্তমানে এই এলাকায় সরকারি ভাবে ভুট্টার বাজার দর বেধে দিলে চাষিরা নায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হবে না বলে তারা জানান। গত বছর গুলোতে চাষিদের উৎপাদিত অন্যান্য কৃষিজাত ফসলে লোকসান হওয়ার কারণে এলাকার চাষিরা কয়েক বছর ধরে ব্যাপক হারে ভুট্টার আবাদ করছে। এবারও ফলন ও দাম ভাল পেলে চাষিদের মুখে হাসির ঝিলিক ফুটবে। ভরা মৌসুমে প্রাকৃতিক কোন রুপ দূর্যোগ দেখা দিলে অন্যান্য ফসলের যেমন ক্ষতি হয় ভুট্টার তেমন একটা ক্ষতি হয় না। প্রতি বিঘায় ২৬ থেকে ২৮ মন পর্যন্ত ভুট্টা উৎপাদন হয়। ধান চাষের পরেই এলাকায় কৃষি ফসলের পাশাপাশি ভুট্টা চাষের উজ্জল সম্ভবনা দেখা দিয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ একেএম মফিদুল ইসলাম জানান, মাঠ পর্যায়ে চাষিদের ভুট্টা চাষের আগ্রহ বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রান্তিক পর্যায়ের চাষিদের চলতি রবিশস্য মৌসুমে উপজেলার প্রায় একশত পঁচাত্তর জন কৃষককে আগাম জাতের ভুট্টা বীজ দিয়েছি। চাষযোগ্য জমিতে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে উপযুক্ত পরামর্শ দেওয়ার ফলে সঠিক সময়ে বীজ বপন করায় এবং নিবির পরিচর্চার কারণে এবার লক্ষমাত্রার চেয়ে দ্বিগুণ জমিতে ভুট্টা চাষ ও বাম্পার ফলনের সম্ভবনা দেখা দিয়েছে।

 

১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ২৩:৩২:০৫