সুন্দরবনে শীতের প্রভাবে সাগরে মাছ না পেয়ে শুঁটকি পল্লী ছাড়ছেন জেলেরা
মাওলা বকস, খুলনা
অ+ অ-প্রিন্ট
আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় প্রচন্ড শীতের প্রভাবে বঙ্গোপসাগর পাড়ের সুন্দরবনের দুবলার চরগুলোতে চরম মাছ সংকট দেখা দিয়েছে।  আশানুরূপ মাছ না পেয়ে অনেকটা নিরাশ হয়েই লোকসানের বোঝা নিয়ে দুবলার বিভিন্ন চরের শুঁটকি পল্লী ছাড়তে শুরু করেছে জেলেরা। আর এ বছর সাগরে মাছের আকাল দেখা দেওয়ায় বিগত বছরগুলোর তুলনায় দুবলার শুঁটকি খাত থেকে রাজস্ব কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছে সুন্দরবন বিভাগ। তবে দুবলা শুঁটকি পল্লীর ফরেস্ট রেঞ্জার কাজী মোকাম্মেল কবির বলেন, টার্গেট ২ কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের চেষ্টা করা হচ্ছে। এদিকে বঙ্গোপসাগরে আশানুরূপ মাছ না পেয়ে এখনও থেকে যাওয়া জেলেরা গত শুক্রবার দুবলা চরের মসজিদে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল করেছে। 

সুন্দরবন বিভাগ জানায়, প্রতি বছর সেপ্টেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময় দুবলার বিভিন্ন চরের শুঁটকি পল্লীতে বনবিভাগের নিয়ন্ত্রণে মাছ শুঁটকিকরণ প্রক্রিয়া শুরু হয়। এ সময় দুবলার শুঁটকি পল্লী থেকে দেড় থেকে দুই কোটি টাকা রাজস্ব আয় হয়। তবে এ বছর শুঁটকি পল্লীতে মাছ প্রক্রিয়াকরণের কাজ প্রায় ১ মাস পর শুরু হয়। সূত্র জানায়, মৌসুম শুরুর পর পরই সরকারি ঘোষণা অনুসারে ১ অক্টোবর থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত ইলিশ আহরণ বন্ধে বঙ্গোপসাগরে সকল ধরনের মাছ ধরা বন্ধ থাকে। ওই সময় একই সাথে সাদা মাছ এবং কাঁকড়া ধরা বন্ধেরও নির্দেশ দেয় মৎস্য অধিদপ্তর। এরপর ২৮ অক্টোবর থেকে ৫ নভেম্বর পর্যন্ত রাসমেলা উপলক্ষে মাছ আহরণ ও শুঁটকিকরণ কাজ বন্ধ থাকে। ফলে ১ মাস বিলম্বে শুঁটকি কার্যক্রম শুরুএবং ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা ও রাসমেলা উপলক্ষে আরো প্রায় ১ মাস শুঁটকি প্রক্রিয়াকরণ বন্ধ ছিল। এ সকল কারণে চলতি শুঁটকি মৌসুমে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরা ও মাছ শুকানোতে কম পক্ষে দুই মাস সময় চলে গেছে। দু’মাস দেরিতে দক্ষিণ বঙ্গোপসাগর তীর দুবলার চরে মাছ ও শুঁটকিকরণ শুরু হওয়ায় রাজস্ব আয়ের টার্গেট পূরণ নিয়ে শঙ্কায় পড়েছে সুন্দরবন বিভাগ। 

এসবের পরও চলতি মাসে প্রচন্ড শীত জেঁকে বসায় বঙ্গোপসাগর থেকে আশানুরূপ মাছ পায়নি জেলেরা। প্রচন্ড শীতের কারণেই মূলতঃ এই মাছের আকাল চলছে বলে জানিয়েছেন দুবলা শুঁটকি পল্লীর জেলে ব্যবসায়ী আল আমিন শেখ, রুহুল আমীন বাচ্চু, মহাজন মোঃ কামাল, রেজাউল খোকন টোটন, মাছ পরিবহন ঠিকাদার মোঃ জালাল আহম্মেদ বুলবুল, আহম্মেদ মুক্তসহ অন্যান্য জেলে মহাজনরা। তারা আরো বলেন, বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবার শীতের প্রকোপ বেশি থাকায় পানি অত্যন্ত ঠান্ডার কারণে গভীর সাগরের মাছ উপরে উঠে আসছে না। আবহাওয়া পর্যবেক্ষণে শিগগিরই শীত কমারও কোন লক্ষণ নেই, তাই চরে অহেতুক বসে লোকসানের বোঝা না বাড়িয়ে অনেকেই সুন্দরবনের শুঁটকি পল্লী ছেড়ে গেছেন। অবশিষ্ট যেসব জেলে রয়েছেন তারা মাছের আশায় শুক্রবার দুবলা চরের মসজিদে মিলাদ ও দোয়া অনুষ্ঠান করেছেন।

 

২৩ জানুয়ারি, ২০১৮ ১০:২২:১৩