মহাদেবপুরে পাখির কিচির মিচিরে মুখরিত আত্রাই নদী
মেহেদী হাসান, মহাদেবপুর (নওগাঁ)
অ+ অ-প্রিন্ট
নওগাঁর মহাদেবপুরে হাজারো পাখির কিচির মিচির শ্রুতিমধুর শব্দে মুখরিত হয়ে উঠছে আত্রাই নদী। ভোর সকালে নদীর দুই পাড়ের মানুষের ঘুম ভাঙ্গে সুমিষ্ঠ বিভিন্ন প্রোজাতির পাখির কল কাকলিতে। এমনি এ নয়নাভীর দৃশ্য দেখে মানুষের মন ছুয়ে যায়। মহাদেবপুর উপজেলা সদর থেকে আধা কিলোমিটার উত্তরে আত্রাই নদীতে পানি ছুই ছুই  বাঁশ দিয়ে পাখিদের বসার উপযোগি করে গড়ে তুলেছেন অভয়ারণ্য এবং আত্রাই নদীর বাঁধে গাছ লাগিয়ে সেখানে পাখি বসার জায়গা করে দেওয়ায় দশ- কলোনি ও মধুবোন নামক স্থানে নদীতে  হাজার হাজার পাখির অভয়শ্রাম গড়ে উঠেছে । দৃষ্টি নন্দন মনোরম এ পাখির কোলাহল দেখতে দর্শনার্থীদের ভীর বাড়ছে প্রতিদিনই। স্থানীয় ক’জন যুবকের মহৎ প্রচেষ্টায় গড়ে তোলা পাখির এ মিলন মেলার  নাম দেওয়া হয়েছে প্রাণ ও প্রকৃতি। পানকৌড়ি,বালিহাঁস, রাতচোরা সহ বিভিন্ন প্রজাতির হাজার হাজার পাখির কিচির মিচির শদ্ধে ঘুম ভাংছে এলাকা বাসীর। নদীর মাঝ খানে পাখির বসার জায়গা সহ গাছে টাঙ্গানো হয়েছে পাখি থাকার কলস । ক’ জন যুবকের স্বেচ্ছা শ্রমে গড়ে তোলা এ প্রাণ ও প্রকৃতি সাড়া ফেলেছে এলাকায় । পাখি ও পরিবেশ রক্ষায় এমন দৃষ্টান্ত দেখে সাধুবাদ জানিয়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছে উপজেল নির্বাহী অফিসার মোবারক হোসেন পারভেজ,মহাদেবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মিজানুর রহমান, মহাদেবপুর থানা প্রেসক্লাবের সভাপতি গোলাম রসুল বাবু, সাধারন সম্পাদক এম. সাখাওয়াত হোসেন সহ বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ। নদীর বাঁধে ২০১০সালে ৪ কিলোমিটার জুড়ে ফলজ বনজ গাছ রোপন করে স্থানীয় ক জন যুবক। নীবির পরিচর্যা আর নজরদারীর কারনে এখন গাছ গুলো বড় হয়ে উঠেছে । নদীর বাঁধে প্রায় ২০ হাজার গাছ রোপন করে এসব যুবক । যার মধ্যে রয়েছে আকাশ মনি, হরিতকি, বহেড়া, আম, খয়ের,নিম সহ নানা প্রজাতির গাছ । পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে অংশী দারিত্বের ভিত্তিতে রোপন করা এসব গাছ এখন বিরাট একটি মুলধনে পরিনত হয়েছে । চলতি বছরে  প্রথম দিকে এসব গাছে পাখি বসার ও নিরাপদে থাকার জায়গা করে দিতে টাঙ্গানো হয়েছে মাঠির কলস । অন্যদিকে মৌসুমি পাখি বসার জায়গা করে দিতে নদীর মাঝ খানে বাঁশের ঘের তৈরি করা হয়েছে । এতে প্রতিদিন হাজার হাজার পাখি এসে বসছে এসব গাছ ও নদীর মাঝ খানে স্থাপন করা বাঁশে। পাখির কিচির মিছির শদ্ধ আর মনোরম এ পরিবেশ দেখতে জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে আসছে দর্শনাথীরা। পাখির কোলাহল আর ছায়া ঘেরা এ পরিবেশ উপভোগ করছে আগত দর্শনার্থীরা। সরজমিনে দেখা যায় মনোরম এ পরিবেশ উপভোগ করতে বেশ অনেক দুর থেকে আসছে দর্শনার্থীরা। কথা হয় ক’ জন দর্শনার্থীর সাথে তারা জানান, পাখির এমন অবাধ বিচর ক্ষেত্র সব সময় ভাল লাগে । এমন নয়নাভির দৃশ্য মনকাড়ে তাই এখানে বার বার আসি উপভোগ করতে । ২০১০ সালে একদল যুবক কাজী নাজমুল, আইনুল ইসলাম, মোকলেসুর রহামান, একরামুল হোসেন, খোরশেদ মোল্লাসহ বেশ কিছু যুবক  মিলে এ কার্যক্রম শুরু করে। পাখির এমন অবাধ বিচরন দেখে তারা এখানে পাখির এ অভয়াশ্রম গড়ে তুলতে নদীর  বাঁধে গাছ রোপন ও পাখি কলোনী হিসাবে কাজ শুরু করে ৩ বছর আগে । গাছ বড় হওয়ার সাথে বাড়তে থাকে পাখির আনাগোনা । গাছে গাছে পাখি শিকার রোধ সহ বন্য প্রানী রক্ষায় বিভিন্ন সাইনবোর্ড ঝুঁলিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে । পাখির প্রতি কোন উত্যাক্ত না করার কারনে দিন দিন বাড়ছে আগমনের সংখ্যা  আর এ পাখির কলোনীর নাম দেওয়া হয়েছে প্রাণ ও প্রকৃতি । প্রাণ ও প্রকৃতির উদ্যাক্তা কাজী নাজমুল বলেন, শুধু মাত্র পরিবেশ ও পাখির কথা ভেবে এখানে এ প্রকল্প শুরু করি । যদিও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে একটি সমঝোতা রয়েছে তার পরও এসব বাঁধ আগে সম্পুর্ন পড়ে থাকতো আমরা কাজ শুরু করার পর আজ এই প্রকল্পটি সফল প্রকল্প হয়ে দেখা দিয়েছে । 

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোবারক হোসেন পারভেজ  জানান,এই পাখির অভয়ারণ্য গড়ে ওঠায় বিভিন্ন জেলা উপজেলা থেকে দর্শনার্থীদের ভিড় বারছে। সারা দেশে এই উপজেলা প্রশংসীত হয়েছে পাখির অভয়ারণ্য বিষেয়ে। আগামীতে গ্রীন মহাদেবপুর ও ক্লীন মহাদেবপুর গড়তে সকল শ্রণী পেশার মানুষের সহযোগীতা কামনা করেন। 

 

 

২০ জানুয়ারি, ২০১৮ ২৩:০৯:৫৬