কেশবপুরের আফাজ আলী : মৃত্যুর আগে শুধু মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতিটুকু চান
জাহিদ আবেদীন বাবু, কেশবপুর (যশোর)
অ+ অ-প্রিন্ট
যশোরের কেশবপুর উপজেলার আফাজ আলী দেশকে শুত্রমুক্ত করতে জীবন বাজি ধরে লড়লেও ‘মুক্তিযোদ্ধা’র স্বীকৃতি আক্ষুও মেলেনি। টাঙ্গাইলে ১১ নং সেক্টরে কাদেরিয়া বাহিনীর ৫ নং কোম্পানীর অধীনে মুক্তিযুদ্ধে তিনি অংশ গ্রহন করেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাক্ষরিত সনদ, সশস্ত্রবাহিনীর সর্বাধিনায়ক আতাউর গনী ওসমানী ও ১১ নং সেক্টরের আঞ্চলিক অধিনায়ক কাদের সিদ্দিকী স্বাক্ষরিত স্বাধীনতা সংগ্রামের সনদপত্র এবং রণাঙ্গণের (৫নং কোম্পানী) কমান্ডার রবিউল আলম গেরিলা স্বাক্ষরিত সনদপত্র থাকার পরও ৪৬ বছরেও মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি থেকে তিনি বঞ্চিত। বর্তমানে তিনি কাঠ শ্রমিকের কাজ করে অসুস্থ্য স্ত্রী ও ২ ছেলে-মেয়ে নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। তাই আফাজ আলী মৃত্যুর আগে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি চান।

কেশবপুর গ্রামের বাসিন্দা মৃত শরীতুল্লাহ দফাদারের ছেলে আফাজ আলী স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে বর্তমান কেশবপুর পৌর এলাকার বালিয়াডাঙ্গায় বসবাস করেন। ১৯৭১ সালে আফাজ আলী তার আত্বীয় টাঙ্গাইল কোতোয়ালী থানায় কর্মরত এক দারোগার বাসায় থাকতেন। সেখানে থাকাকালেই থানার পাশের চা দোকানদার বাবুর সাথে কাদেরিয়া বাহিনীতে যোগ দিয়ে কমান্ডার রবিউল আলমের অধীনে টাঙ্গাইলের পাহাড়তলীতে দ্বিতীয় ব্যাচে যুদ্ধের প্রশিক্ষণ নেন। এরপর কোম্পনী কমান্ডার রবিউল আলমের নেতৃত্বে তিনি টাঙ্গাইল সদরের চারাবাড়ী, খুদিরামপুর, কালিহাতির বল্লা বাজার, রতনগঞ্জ, তেজপুর, জোগারচর, বল্লববাড়ী, ঘমজানি, পৌজান, ছাতিহাটি, ঘোনাবাড়ী, ঘাটাইলের ঝাওয়াইল, গুপ্ত বৃন্দাবন, কালিদাসপাড়াসহ ওই এলাকার বিভিন্ন সম্মুখযুদ্ধে অংশ নেন। ঘাটাইল ক্যান্টমেন্ট দখলের দিন তিনি ডান পায়ের গোড়ালীতে গুলিবিদ্ধ হন। এ ছাড়া কালিহাতির রতনগঞ্জ যুদ্ধে ডিগবাজি দেওয়ার সময় এসএলআর বুকের নীচে পড়ায় তিনি তার ডানপাশের পাজরে আঘান পান।  

আফাজ আলী জানান, বৃদ্ধ বয়সেও তিনি কাঠ শ্রমিকে কাজ করে অসুস্থ্য স্ত্রী জয়তুন বিবি, ছেলে মিন্টু ও মেয়ে মমতাজকে নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। সকল সনদপত্র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কার্যালয়, মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়, স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলসহ বিভিন্ন দপ্তরে একাধিকবার জমা দিয়েও তার নাম মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় অন্তভুক্ত হয়নি।

আফাজ আলী বলেন, বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছি। জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছি। দেশ স্বাধীনের পর টাঙ্গাইলের বিন্দুমাসি স্কুল মাঠে বঙ্গবন্ধুর কাছে দু’খানা অস্ত্র জমা দিয়েছিলাম। যুদ্ধের সময়ের বুকের ডান পাশের পাজর ও পায়ের গোড়ালীর ক্ষত চিহ্ন এখনো বয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছি। আমি আর কাঠ শ্রমিকে কাজ করতে পারছি না। আমার সামনে কত অমুক্তিযোদ্ধা বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া মুক্তিযোদ্ধা ভাতা তুলে নিয়ে যাচ্ছে। অথচ অর্থের অভাবে নিজের ও অসুস্থ্য স্ত্রীর চিকিৎসা করাতে পারছি না। তাই মৃত্যুর আগে শুধু মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতিটুকু পেতে চাই। 

কেশবপুর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক কমান্ডার মোহাম্মদ আলী বলেন, আফাজ আলী ১১ নং সেক্টরে টাঙ্গাইল এলাকায় সরাসরি যুদ্ধ করেছেন। তার মুক্তিযুদ্ধের ৩টি সনদপত্র রয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তার স্বীকৃতি পাওয়া উচিত। তবে যাচাই বাচাই কমিটির বোর্ডে হাজির না হওয়ায় তিনি তালিকাভুক্ত হতে পারেননি।

০৫ জানুয়ারি, ২০১৮ ২৩:৪৮:১০